রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশনা পুলিশ মেনে নেবে বলে জানালেন পুলিশ প্রধান (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাভারের আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনালে কমিউনিটি পুলিশের মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
একইসঙ্গে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করে পুলিশের মনোবল ভেঙে না দেওয়ার জন্য মিডিয়ার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অভিযোগের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়ার অগ্রগতি বিষয়ে আইজিপি বলেন, আমি ও ডিএমপি কমিশনার পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এছাড়া মহামান্য আদালতের রিটের ভিত্তিতে দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী এসআই মাসুদ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ প্রধান মনে করেন, ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তা রাব্বীও পুলিশের প্রতি অসহোযোগিতামূলক আচরণ করেছেন। ‘চেকপোস্টে দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক (এসআই ) মাসুদ রাব্বীর দেহতল্লাশি করতে চাইলে পুলিশকে সহযোগিতা না করে রাব্বী বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন’, বলেন আইজিপি।
তবে রাব্বীর আচরণে ক্ষুব্ধ এসআইয়ের পরবর্তী পদক্ষেপকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই মাসুদ দুই ঘণ্টা তাকে (রাব্বীকে) আটকে রাখেন। এটাই ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভুল।’
সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎপর অবস্থান সম্পর্কে জানাতে আইজিপি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের হরতাল-অবরোধে ১৯ পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে, প্রায় তিন হাজার পুলিশকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। মহাসড়কগুলোতে প্রতিনিয়তই সড়ক দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কমিউনিটি পুলিশিরা বিশেষ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
অপরাধসংশ্লিষ্ট অনেককে সুপথে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে জানাতে তিনি বলেন, সাভারের তিনটি গ্রাম থেকে অনেক মাদক ব্যবসায়ীকে অসৎকাজ থেকে সরিয়ে এনে পুলিশে চাকরি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
এসময় ঢাকা জেলা পুলিশ আয়োজিত কমিউনিটি পুলিশের মহাসমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ এর সাংসদ ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা-২০ আসনের সংসদ এম এ মালেক, মিরপুরের এমপি আসলামুল হক, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. নূরুজ্জামান শেখ ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
/এইচকে/







