অবহেলা আর ক্ষোভ থেকে তিন বোন বাবার কাছে চলে যায়

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২০ নভেম্বর ২০২১, ১৬:০৩আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২১, ১৬:০৩

২০১২ সালে বাবা-মায়ের ডিভোর্সের পর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু হয়। এরপর বাবার সঙ্গেও যোগাযোগ এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায় রাজধানীর আদাবর থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন বোনের। দুই খালার কাছে তিন বোন থাকলেও বিভিন্ন সময়ে খালাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

যশোর থেকে উদ্ধারের পর শনিবার (২০ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে পুলিশের উপ-কমিশনার কার্যালয়ে তাদেরকে নিয়ে আসা হয়। এদিন দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।

তিনি বলেন, তাদের আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে। আদালতে তিন বোন তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন। আগামীকাল ২ বোনের এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে। তারা পরীক্ষায় অংশ নিতে চায় উল্লেখ করে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, আদালত এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবে। এমনকি খালারা  বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে তাদেরকে বাধা দিতো বলে পুলিশকে জানিয়েছে তিন বোন।

বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ৮ থেকে ৯ বছর পর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ থাকা স্কুলশিক্ষক বাবার সঙ্গে দেখা হয় তিন বোনের। তবে মাঝে-মধ্যে দাদির মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে তিন বোন কথা বলতো। আর বাবার কাছে যশোরে আসার জন্য দাদি তাদেরকে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা পাঠান। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) সকালে আদাবরের বাসা থেকে বের হয়ে তারা যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসা থেকে বের হয়ে তারা গাবতলীতে জননী পরিবহনের একটি বাসে করে যশোর চলে যায়।

সাধারণ ডাইরি হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা যোগাযোগ করলে একটি ফোন নাম্বার পায়। আর সেই ফোন নাম্বারের ভিত্তিতেই দাদির বাড়িতে বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া তিন বোনের অবস্থান যশোরে শনাক্ত করা হয়। এ বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন পুলিশ কর্মকর্তারা।

টিকটক আসক্তির বিষয়ে খালা সাজিয়া নওশীনের অভিযোগের বিষয়ে বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে কোনও মোবাইল ফোন পাইনি। আর গণমাধ্যমে বলা তার খালার বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সত্যতা আমরা পাইনি। তিন বোনের কিছুটা ক্ষোভ রয়েছে খালাদের ওপর। তার আরেকটু ভালো থাকতে পারতো বলে ধারণা তাদের।

তিন বোনকে শনাক্ত কিংবা উদ্ধার নিয়ে পুলিশ এবং র‍্যাবের বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, কোনও একটি ঘটনা ঘটলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি সংস্থাই ছায়া তদন্ত করে। আমরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি বিভাগই ভ্রাতৃপ্রতিম। আমাদের মধ্যে কোনও বিতর্কে সৃষ্টির কোনও কারণ নেই। আমরা যশোর থেকে তিন বোনকে রিকভারি করে রাজধানীতে এনেছি।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) আদাবরে খালার বাসা থেকে কাউকে না বলে বেরিয়ে যায় ওই তিন বোন। এ সময় তারা এসএসসি পরীক্ষার এডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, সার্টিফিকেট এবং ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে যায়। খোঁজাখুঁজির পর না পেয়ে খালা সাজিয়া নওশীন আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এক বোন আদাবরে সাজিয়া নওশীনের বাসায় থাকত আর অন্য দুই বোন খিলগাঁয়ে অন্য এক খালার বাসায় থাকত। এসএসসি পরীক্ষায় ধানমন্ডি গার্লস হাই স্কুলে সিট পরায় খিলগাঁ থেকে আদাবরে আরেক খালার বাসায় এসে অবস্থান নেয় দুজন। এরই মধ্যে একটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগামীকাল তাদের আরও একটি পরীক্ষা রয়েছে।

/আরটি/এমএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান