আইনজীবী বাবার নতুন কেনা প্রাইভেট কার দশম শ্রেণির ছাত্র তাসকিন আহমেদ বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাচ্ছিল। তার গাড়িটি পেছন থেকে ধাক্কা দেয় একটি রিকশাকে। রিকশায় থাকা ছোট্ট শিশুসহ ৩ জন এখনও চিকিৎসাধীন। তাসকিনের গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালকের পা ভেঙেছে। ছয় মাসের ছোট্ট শিশুরও পা ভেঙেছে, শিশুটির বাবা মাথায় আঘাত পেয়েছেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে গাড়ি চালাতে দেওয়ার বিষয় পরিবার এড়াতে পারে না বলে জানিয়েছে পুলিশ এবং বিশেষজ্ঞরা।
পুলিশ বলছে, মূলত বেপরোয়া গতির কারণে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। রিকশাটিকে ধাক্কা দিয়ে তাসকিন আহমেদ গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র তাসকিন। বাবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আর মা গৃহিণী। বখাটেপনার কারণে ঢাকা থেকে তাকে চুয়াডাঙ্গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় পড়াশোনার জন্য। সেখানেই তাকে ভর্তি করা হয় অন্য একটি স্কুলে। তাসকিন আহমেদ মাদকাসক্ত কিংবা কোনও অপরাধে জড়িত কিনা এ বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে লোকজনকে জখম করা হয়েছে উল্লেখ করে রমনা থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রসঙ্গত গত শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) বেইলি রোডে বেপরোয়া গতির একটি প্রাইভেট কার এক রিকশাকে আরোহীসহ চাপা দেয়। পরবর্তীতে গাড়ির নম্বর এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে গাড়ির মালিক ও চালককে শনাক্ত করা হয়।
তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চুয়াডাঙ্গা থেকে গ্রেফতারের পর তাসকিনকে রবিবার (২১ নভেম্বর) রাতে ঢাকার তেজগাঁও বিভাগের এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া তাসকিনের বয়স কেবল ১৫ পেরিয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক তাসকিনের কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। প্রাইভেট কারটি সে একাই চালাচ্ছিল, এসময় তার সঙ্গে কেউ ছিল না।
তিনি বলেন, প্রাইভেট কারের মালিক কামাল মিয়া এবং তাসকিনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে প্রাইভেট কারটি কিছুদিন আগে তাসকিনের আইনজীবী বাবা এটি কিনেন। গাড়িটি নিয়ে তাসকিন রাস্তায় বের হয়। দুর্ঘটনা ঘটিয়ে গাড়িটি নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে রাজধানী ছেড়ে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানা এলাকায় খালার বাসায় গিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২১ নভেম্বর) তাসকিনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ বিষয়ে আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামীম শিকদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় গাড়ি চালানো আইনত অপরাধ। আর অপ্রাপ্তবয়স্ক কেউ দুর্ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী তার ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স ছাড়া কোনও প্রাপ্তবয়স্ক কেউ যদি গাড়ি দিয়ে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটিয়ে থাকে তাহলে সেই গাড়ির মালিক এ দায় এড়াতে পারে না। এছাড়া গাড়িটি নিজেদের হলে পরিবারও এই দায় এড়াতে পারে না।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডাক্তার হেলাল উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের গাড়ি চালানোর প্রেক্ষিতে দুর্ঘটনার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে এমন ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার দায় অবশ্যই পরিবারের। তাসকিন আহমেদের দিকে আঙুল তোলার আগে তার পরিবারের দিকে তুলতে হবে। গাড়িটি কিন্তু ছেলের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা নয়। পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক কোনও সদস্যের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা। পরিবার সঠিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।









