মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন: আসামি অজ্ঞাত কয়েক হাজার

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৫ নভেম্বর ২০২১, ১৯:১৮আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০২১, ২০:৩৬

মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় অজ্ঞাত কয়েক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) বিকালে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাজিজুর রহমান জানান, বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাতেই ট্রাফিকের সার্জেন্ট আসিফ বাদী হয়ে মামলা করেন।

তিনি বলেন, ‘শ্রমিক মারা গেছে—এমন গুজব শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হয়। মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে পল্লবীর সহকারী কমিশনারের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়। আগুনে পুড়িয়ে দেয় দুটি মোটরসাইকেল। কাফরুল থানায়ও হামলা করে তারা।’

হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে জানান ওসি মোস্তাজিজুর রহমান।

গত ২৩ নভেম্বর মিরপুর ১৩ নম্বর সেক্টরে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন চলাকালে একদল ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসী’ তাদের মারধর করে। এতে ছয় জন আহত হন। তবে শ্রমিকদের কাছে খবর যায় একজন শ্রমিক মারা গেছেন। পুলিশ বলছে, দু’জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারা কেউ মারা যাননি।

এরপর ২৪ নভেম্বর সকালে শ্রমিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালান। 

তবে শ্রমিক মৃত্যুর খবরটি রাজনৈতিক ইন্ধনে ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। গুজব ছড়িয়ে বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকে মিরপুর ১০ নম্বর হয়ে কাফরুল থানা সড়কে বিক্ষোভে নামেন পোশাক শ্রমিকরা।

বিনা উসকানিতে কাফরুল থানায়ও ইটপাটকেল ছোড়া হয়েছে এবং মিরপুর ১০ নম্বরে ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল থেকে মিরপুর ১০, ১৩, ১৪ নম্বর, ইব্রাহিমপুর, কাফরুল, ভাসানটেক ও পল্লবীসহ অন্তত সাতটি পয়েন্টে শ্রমিকদের অবস্থান ছিল। তারা পুলিশ দেখলেই ঢিল ছুড়েছে। তবে পুলিশ লাঠিচার্জ বা কোনও অ্যাকশনে যায়নি।

বিক্ষোভ প্রসঙ্গে রাজন নামে একজন শ্রমিক বলেন, ‘বেতন ১০% বাড়ানোর দাবিতে আমরা তিন দিন ধরে আন্দোলন করছিলাম। বুধবার বিকালে আমাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন মালিকরা।

ভাড়াটে সন্ত্রাসী নয়, স্থানীয় দোকানিরা শ্রমিকদের বুধবার মারধর করেছে বলে জানান কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরেই শ্রমিকরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে সড়ক অবরোধ করছিল। আমরা কোনও অ্যাকশনে যাইনি। তাদের বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করেছি। শ্রমিকরা আজও রাস্তা অবরোধ করেছে। কারণ হিসেবে বলছে, তাদের শ্রমিক নাকি মারা গেছে। আমরা দুজন আহতের খবর পেয়েছি। গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে আহত দুই শ্রমিকের চিকিৎসা হচ্ছে। মৃত্যুর খবরটি গুজব।’

এই কয়েক দিনের আন্দোলনে রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে বলে সন্দেহ হাফিজুর রহমানের।

তিনি বলেন, ‘গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। গার্মেন্টসের শ্রমিক নয়, এমন অনেক লোককে লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নামতে দেখা গেছে। আমার মনে হয়, এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধন থাকতে পারে। নয়তো কেন বিনা উসকানিতে থানা ও পুলিশ বক্সে হামলা হবে। কাফরুল থানায় ইট ছোড়া হয়েছে। ভাঙা হয়েছে ১০ নম্বর ট্রাফিক পুলিশের বক্স। আমরা খুব সহনীয় থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’

 

/এআরআর/এপিএইচ/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
নতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
শিশু রামিসা হত্যা মামলানতুন নাম জড়ানোর চেষ্টা বিচার বিলম্বের কৌশল: ডিএমপি কমিশনার
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
মূল্যস্ফীতির চাপ কমেনি, ব্যাংক খাতের প্রকৃত সংকটও রয়ে গেছে: সিপিডি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ৫ ডিআইজি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী