সিনিয়র সহকারী সচিবের বাসায় তালাবদ্ধ গৃহপরিচারিকা!

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২৩:৪১আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২৩:৪৮

বেইলি রোড রাজধানীতে এক সিনিয়র সহকারী সচিবের বাসায় এক বৃদ্ধা গৃহপরিচারিকাকে দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ রেখে নির্যাতনের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বৃদ্ধার ছেলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সেখানে গিয়ে বাসাটি তালাবদ্ধ পেয়েছে। ভেতর থেকে জানালা দিয়ে হাত নেড়ে ওই বৃদ্ধা মুক্তির আকুতি জানিয়েছেন।
রমনার বেইলি রোডের বেইলি স্কয়ার সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারে ওই সিনিয়র সহকারী সচিবের বাসা। তিনবছর ধরে ওই গৃহপরিচারিকার সঙ্গে তার স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন তার ছেলে। ওই গৃহকর্মীর নাম জাহানারা বেগম (৬০)।
শুক্রবার বিকালে গৃহকর্মীর ছেলে বাচ্চু মিয়া পুলিশ নিয়ে তার মাকে মুক্ত করতে গেলেও ফ্ল্যাটে তালা থাকায় পুলিশ বাসার সামনে থেকে সরে আসে। এ সময় ষষ্ঠতলা ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাট থেকে ওই গৃহকর্মী হাত নেড়ে কান্না করে তার ছেলের সঙ্গে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এ সময় পুলিশ সচিবের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানতে পারেন, তিনি বিয়ের দাওয়াতে আছেন, আজকে বাসায় ফিরবেন না। পুলিশ বারবার অনুরোধ করার পর অবশেষে রাত দশটায় আসতে রাজি হন।
ওই গৃহকর্মীর ছেলে ও তার স্ত্রীকে রমনা থানার পুলিশ হেফাজতে রাখা হবে বলে রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফুল ইসলাম ঘটনাস্থল বসে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সড়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রবিউল ইসলাম ওই বাড়িতে থাকেন। তার স্ত্রী সোমা সেনাকল্যাণ ভবনের ট্রাস্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা।

গৃহকর্মীর ছেলে বাচ্চু কিশোরগঞ্জের পাসতা গ্রামে কাঁচামালের ব্যবসা করেন।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘তিন বছর আগে মা বাড়ি থেকে অভিমান করে ঢাকায় এসেছিলেন। এরপর জানতে পারি তিনি বেইলী রোডে এক সরকারি কর্মকর্তার বাসায় কাজ করছেন। মা যেখানে কাজ করতেন সেখানে তার সঙ্গে কোনওদিন দেখা করতে পারিনি। তার বেতনের টাকা আমাকে ওই বাসার মালিকের এক আত্মীয় দিয়ে আসতেন। সেই সময় মায়ের সঙ্গে দেখা করা হতো। গত তিনবছরে আমার সঙ্গে মায়ের তিনবার দেখা হয়েছে। তবে কোথায় মা কাজ করেন তা আমাদের জানতে দিত না। মাও ওই বাসার ঠিকানা জানেন না। অবশেষে সচিবের গাড়িচালক আনোয়ার হোসেনকে দিয়ে মা বৃহস্পতিবার আমাদের ফোন দেন। মা কান্না করে বলেন, আমার শরীর কাঁপে, এখানে আমাকে মারধর করা হয়। আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও। এরপর শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে আমি এবং আমরা স্ত্রী পারভীন বেগম বেইলী রোডের ওই বাসায় আসি। বাসার কলিং বেল দিলে কেউ বাসার দরজা খোলে না। এরপর বাসা থেকে নেমে আসি। তখন দারোয়ান আমাদের জানায়, রবিউল ইসলাম নামে এখানে কোনও সচিব থাকে না। তারপর আমরা রমনা থানায় গিয়ে অভিযোগ করি।’

এদিকে ওই গৃহপরিচারিকার ছেলেকে বাসার ঠিকানা দেওয়া গাড়িচালক আনোয়ারকে দারোয়ান দিয়ে মারধর করা হয়েছে।

গাড়িচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাসার বৃদ্ধা গৃহকর্মীকে প্রায়ই বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও তার ছেলে কিশোর সিজন মারধর করেন। ওই নারীর সঙ্গে তার পরিবারের কারও কথা বলতে দেওয়া হয় না। বৃদ্ধা ওই নারী তার ছেলের নম্বর আমাকে দিয়ে হাত ধরে কান্নাকাটি করলে আমি তার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলাম।’

শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে বেইলী স্কোয়ারের ওই বাসায় গিয়ে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের বাসা তালাবদ্ধ দেখা যায়। বাড়ির রান্নাঘর থেকে এক বৃদ্ধা হাত নেড়ে তাকে উদ্ধারের জন্য ইশারা করছিলেন।

এই সময় বৃদ্ধার ছেলে বাচ্চু ও তার স্ত্রী পারভীনকে নিয়ে রমনা থানার উপপরিদর্শক শরীফুল ইসলামও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

পুলিশ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার (রবিউল ইসলাম) বাসায় নেই। রাত ১০টার দিকে তিনি বাসায় আসবেন। এখন বাচ্চু ও তার স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। স্যার আসলে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

গৃহপরিচারিকার ছেলের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘গত আড়াই বছর আগে ওই নারী স্যারের বাসায় মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে কাজে আসেন। তারা ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তারা আরও টাকা পাবেন বলে জানিয়েছেন।’

গৃহকর্মীর ছেলে বাচ্চু আরও জানান, তিন বছর আগে মাসুমের মা পরিচিত এক নারীর মাধ্যমে ঢাকা ক্যান্টমেন্টে সচিবের স্ত্রীর বড় ভাইয়ের বাসায় কাজ পান। সেখান থেকে সচিবের স্ত্রী সোমা গৃহপরিচারিকা জাহানারাকে নিজের বাসায় কাজে নিয়ে আসেন। এরপর থেকেই তিনি ওই বাসায় কাজ করেন।

মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সিনিয়র সহকারী সচিব রবিউল ইসলাম বলেন, ‘আমি বাসার বাইরে একটি অনুষ্ঠানে আছি। আপনারা কীভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করে বাসায় চলে এলেন। কাউকে আমরা বাসায় বন্দি করে নির্যাতন করিনি।’

গৃহকর্মীকে তালাবদ্ধ করে রেখে চলে গেছেন- এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা তো বাসায় কেউ নাই। তাই তাকে তালাবদ্ধ করে বাসার বাইরে যেতে হয়েছে।’

/এআরআর/এজে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
সীমান্তে কঠোর বিজিবি, ১০ পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম