কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যেকোনও ধরনের নাশকতা, বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ আরও চারটি জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাজধানীতে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুরো নগরীতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগরের ২০০টির বেশি কৌশলগত স্থানে পুলিশের বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। পাশাপাশি ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিট ডিবি ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) সক্রিয় থাকবে। সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) ও আইএডি গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার চারটি প্রধান কন্ট্রোলরুমে পর্যাপ্ত সদস্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তায় ধানমন্ডি ৩২
আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৩২ নম্বরসহ আশাপাশের সড়কে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালন করছেন র্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা।
মঙ্গলবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর পরিদর্শন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম। ওই সময় তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং পবিত্র মহরম মাসকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”
তিনি বলেন, “আপনারা জানেন, আজ ২৩ জুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একই সঙ্গে মহরম মাসও চলছে। কোনও ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীও ঢাকা এবং আশপাশের কয়েকটি জেলায় দায়িত্ব পালন করছে।”
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেন্দ্র করে সেনা মোতায়েনের জন্য চিঠি দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সোমবার (২২ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে এই চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বিভিন্ন সংগঠন দেশের বিভিন্ন স্থানে বেআইনি মিছিল, শোডাউন ও অন্যান্য কর্মসূচি করছে। এর মাধ্যমে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার পাশাপাশি জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও গাজীপুর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুর জেলায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের জানমালের সুরক্ষায় নয় দিনের জন্য প্রয়োজনীয়সংখ্যক সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২২ থেকে ৩০ জুন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ হিসেবে সেনাসদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
৫ জেলায় বিজিবি মোতায়েন
দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজার, মাদারীপুর, শেরপুর, গাজীপুর ও মৌলভীবাজারে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আজ সন্ধ্যা থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে মোতায়েনের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা স্ট্যান্ডবাই থাকবে।









