বিশ্ব মানবপাচার-বিরোধী দিবস 

কম্বোডিয়া থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র, ফাঁদে বাংলাদেশি তারুণ্য 

সুজন কৈরী 
৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:০০

বিজ্ঞাপনে পদ—আইটি অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি এক্সিকিউটিভ, কল সেন্টার কর্মী বা নিরাপত্তারক্ষী। বেতন আকর্ষণীয় এবং ভিসাও বৈধ। কিন্তু বিদেশে পৌঁছেই কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন। বন্দি করে বাধ্য করা হয় ক্রিপ্টো, রোমান্স ও বিনিয়োগ প্রতারণায়। টার্গেট না মিললে মারধর, বৈদ্যুতিক শক। কারও গন্তব্য স্ক্যাম সেন্টার, কারও লিবিয়ার বন্দিশালা, কারও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র। স্বপ্ন এভাবেই দাসত্বে ঠেলে দিচ্ছে তারুণ্যকে।  

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা যায়, ভুক্তভোগীদের ৯৮ শতাংশ চাকরি পাননি। ৯০ শতাংশকে জালিয়াতিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই বাস্তবতায় আজ (৩০ জুলাই) আন্তর্জাতিক মানবপাচার-বিরোধী দিবস। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দিবসটি ঘোষণা করে। এবারের প্রতিপাদ্য— ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি’।  

সাইবার দাসত্বের নতুন বাজার  

কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের আইটি বা কম্পিউটার অপারেটরের চাকরির আশ্বাস মানবপাচারের নতুন রূপ নিয়েছে। তরুণদের দাস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। চক্রের কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। জুনে অভিযানের পর ফিরেছেন ৫৮৩ জন। অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছর। ফিরে আসাদের ৯৮ শতাংশ চাকরি পাননি। ৯০ শতাংশকে স্ক্যামে বাধ্য করা হয়েছে, ৮৮ শতাংশের চলাফেরা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট-কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। ২৭ শতাংশ শারীরিক ও ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার। 

অনেকে বিএমইটির ছাড়পত্র অনুযায়ী অনেকেই ভ্রমণ ভিসায় যান। তখন সংশ্লিষ্ট দেশে থাকা কিছু বাংলাদেশি তাদের চীনা-নিয়ন্ত্রিত স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেয়। এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি নামে পরিচিত ছিলাম না। আমার পরিচয় ছিল একটি কোড।’ ইমিগ্রেশনে নিজের নামের বদলে একটি কোডওয়ার্ড বলতে বলা হয়েছিল— সেটিই ছিল পাচারকারীদের গোপন সংকেত।  

অপর একজন কম্পিউটার অপারেটরের চাকরির জন্য ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। বিএমইটির ছাড়পত্র থাকলেও পান এক মাসের ভিজিট ভিসা। বিমানবন্দর থেকে দালালরা তাকে স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেয়। টার্গেট না মিললে মারধর, বৈদ্যুতিক শক, ছিল আলাদা টর্চার সেল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চক্রের সদস্যরা পালালে তারা মুক্ত হন।  

এর আগে গত ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি স্ক্যাম সেন্টার থেকে আট জন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ বাংলাদেশি ফিরেছিলেন। চাকরির কথা বলে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে নেওয়ার পর তাদের পাসপোর্ট-মোবাইল কেড়ে সাইবার প্রতারণায় বাধ্য করা হয়। 

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের ভয়াবহ এক রূপ। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। কেউ রাজি না হলে বা নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এই কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।”  

ভূমধ্যসাগরে শীর্ষে বাংলাদেশিরা 

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টায় গত বছরের মতো এবারও বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। ২০২৬ সালে সাগরপথে গ্রিসে প্রবেশেও বাংলাদেশিরা শীর্ষে। ফ্রন্টেক্সের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানায়, ২০২৫ সালে ২০ হাজার ২৫৯ বাংলাদেশি ইউরোপে ঢুকেছেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইতালিতে ৪ হাজার ২৪৯ এবং লিবিয়া থেকে গ্রিসে ৩ হাজার ৬০৮ জন গেছেন। 

২০০৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান বা ভূমধ্যসাগর রুটে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে ঢুকেছেন। যে রুটটি উত্তর আফ্রিকা ও ইতালির মধ্যবর্তী একটি সমুদ্র অঞ্চল। যা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও আলোচিত অভিবাসন রুট হিসেবে পরিচিত। ওই রুটে গত ছয় বছরে লিবিয়া থেকে ফেরত এসেছে ১৫ হাজার। অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছর। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ ১০ থেকে ১২ জেলা থেকে তারা যাচ্ছেন।  

ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে লিবিয়ায় যাওয়া ব্যক্তিদের ৭৫ শতাংশ কাজ পাননি। ৯৩ শতাংশ ক্যাম্পে বন্দি, ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার এবং ৬৯ শতাংশ চলাফেরার স্বাধীনতা হারিয়েছেন। অনেকের পরিবার থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নেওয়া হয়েছে।  

মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ তোবরুক থেকে রওনা দিয়ে নৌকাটি দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য-পানিহীন অবস্থায় ভেসে ছিল। তখন পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহ সাগরে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।  

সংশ্লিষ্টরা জানান, হোয়াটসঅ্যাপ-টেলিগ্রাম গ্রুপ এবং শতাধিক ফেসবুক গ্রুপে ইতালিতে পৌঁছানো নৌকার ছবি ও যোগাযোগ নম্বর ছড়িয়ে মানুষকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। দেশে ফিরে মামলা হলেও মূল আসামিরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। 

শরিফুল হাসান বলেন, “গত কয়েক বছর ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছে। এবার গ্রিসে যাওয়ার দিক থেকেও বাংলাদেশ প্রথম। এভাবে ইতালি বা গ্রিসে যাওয়ার পথে অনেক প্রাণহানি ঘটছে। পাশাপাশি লিবিয়ায় বহু মানুষ ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।” তিনি বলেন, “মানবপাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের মতো অপরাধ দমন করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।” সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি বলে জানান তিনি।  

রাশিয়ায় চাকরি, শেষে যুদ্ধক্ষেত্র 

নিরাপত্তারক্ষী, নির্মাণশ্রমিক, ওয়েল্ডার বা কারখানার চাকরির প্রলোভনে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা নিয়ে বৈধ ভিসায় বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করিয়ে সামরিক প্রশিক্ষণের পর ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। আহত কয়েকজন ও মরদেহ ফেরাতে স্বজনেরা ব্র্যাকের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক তরুণও এভাবে নিহত হয়েছেন।  

ফোরটিফাই রাইটস ও ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডসের যৌথ তদন্তেও অভিযোগটি এসেছে। যুদ্ধে প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারত, কেনিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকদেরও একইভাবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে; জাতিসংঘের বিশেষ তদন্ত কমিটি বিষয়টি দেখছে। কেউ কেউ স্বেচ্ছায়ও যাচ্ছেন বলে অভিযোগ আছে।  

নারীদের চাকরির নামে যৌন শোষণ  

দুবাই, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে চাকরির নামে নারীদের ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছে। পটুয়াখালীর লিজা আক্তার সৌদি আরবে চারবার হাতবদল ও নির্যাতনের পর ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ৯ ফেব্রুয়ারি ফেরেন। বর্তমানে সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিজের জীবন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে লিজার।  

দিলরুবা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, গৃহকর্মীর কাজের প্রলোভনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে তিনি মানবপাচারের শিকার হন। সেখানে তাকে একটি ক্লাবে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনপেশায় যুক্ত করা হয়। আট মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কোনও বেতন পাননি। পরে কৌশলে সেখান থেকে বের হতে পারলেও মিথ্যা অভিযোগে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।  

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিদের একই পরিণতি 

২০১২-২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পাচার হয়েছেন। যার অধিকাংশই রোহিঙ্গা। সে সময় থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ার পর পাচার আবার বাড়ে। বিয়ে ও চাকরির প্রলোভনে রোহিঙ্গা-বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে।  

গত আট বছরে কক্সবাজার উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ উদ্ধার হয়েছে। শতাধিক মামলা হলেও পাচার থামেনি। হোয়াইক্যং, হ্নীলা, বাহারছড়া, টেকনাফ সদর ও শাহপরীর দ্বীপ ঝুঁকিপূর্ণ। গত তিন বছরে টেকনাফে অন্তত ৩০০ মানুষ অপহৃত হয়েছেন।  

সাবরাংয়ের মোহাম্মদ সাবেরকে শামলাপুর পাহাড়ে তিন দিন নির্যাতনের পর প্রায় ৩০০ মানুষের সঙ্গে মিয়ানমার-থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হয়। চার বছর পর ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ফিরলেও মাথা ও চোখের ক্ষতিতে এখন কাজ করতে পারেন না।  

আইন আছে, বিচার নেই 

বাংলাদেশ থেকে বছরে কত মানুষ পাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার হন, তার নির্ভরযোগ্য হিসাব নেই। তবে শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে বছরে ৮০-৯০ হাজার মানুষ দেশে ফেরত (ডিপোর্ট) ফেরত আসছেন। ২০০৮-২০২৫ সময়ে এর সংখ্যা সাড়ে ১০ লাখের বেশি। অনেকে সাগরে প্রাণ হারান, আরও অনেকে আছেন বিদেশের কারাগারে বন্দি।  

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ঝুলছে ৫ হাজার ২৮৪টি; বিচারাধীন ৩ হাজার ৩০৬, তদন্তাধীন ১ হাজার ৯৭৮। জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত যথাক্রমে ৭১, ৬৬, ১১০, ১৩০ ও ১২৩টি মামলা হলেও নিষ্পত্তি মাত্র ১৭টি। ২০২৫ বা চলতি বছরে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তথ্য নেই; অধিকাংশ নিষ্পত্তিতে আসামিরা খালাস পেয়েছেন।  

সরকার ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’ করেছে। এতে অভিবাসী চোরাচালানকে অন্তর্ভুক্ত করে একক ও সংঘবদ্ধ মানবপাচারে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে। যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক শোষণ ও দাসত্বের শিকারদের সুরক্ষার কথাও বলা হয়েছে।  

ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারের ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় সাইবার স্পেসকে ব্যবহার করা হলেও মানবপাচার সরাসরি আমাদের প্রধান তদন্তের বিষয় নয়। তবে সাইবার মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের অংশটি আমরা নিয়মিত নজরদারি করি।” 

তিনি বলেন, “সাইবার প্যাট্রোলিং ও মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও তৎপরতা শনাক্ত করা হয়। অভিযোগ পাওয়া গেলে বা নজরদারিতে কোনও অপরাধমূলক কার্যক্রম ধরা পড়লে তা যাচাই-বাছাই ও তদন্ত করা হয়। তদন্তে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তাদের আইনের আওতায় আনা হয়।” 

মূল হোতাদের বিষয়ে তিনি বলেন, “শুধু মানবপাচার নয়, সাইবার স্পেস ব্যবহার করে যেকোনও অপরাধই ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের নজরদারির মধ্যেই রয়েছে।” 

/জেইউ/এসটি/এমওএফ/  
সম্পর্কিত
কম্বোডিয়ায় মানবপাচার চক্রের মূল হোতা গ্রেফতার
একটু লাল, একটু গোলাপি: ঠোঁটের রঙে আজ উৎসব
মানবপাচার ঠেকাতে আইওএমের সহযোগিতা চায় সরকার
সর্বশেষ খবর
জি-টু-জি চুক্তিতে ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনছে সরকার 
জি-টু-জি চুক্তিতে ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকার জ্বালানি তেল কিনছে সরকার 
ক্যানসারের পর ফিটনেস নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় মনীষা কৈরালা
ক্যানসারের পর ফিটনেস নিয়ে খোলামেলা আলোচনায় মনীষা কৈরালা
বাংলাদেশ-ভারতে চলাচল করা বাঘ কীভাবে গণনা করা হয়?
বাংলাদেশ-ভারতে চলাচল করা বাঘ কীভাবে গণনা করা হয়?
কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
কর্মক্ষেত্রে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
সর্বাধিক পঠিত
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
২৩ বছর ধরে বন্ধ কারখানা এখন রফতানিমুখী, চাকরি পেলো ৩৫০০ মানুষ
৪ দিন আগে কীভাবে দেশে ঢুকেছেন দুর্ধর্ষ ইমন, সাজ্জাদ ও রায়হান কোথায়?
৪ দিন আগে কীভাবে দেশে ঢুকেছেন দুর্ধর্ষ ইমন, সাজ্জাদ ও রায়হান কোথায়?
টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন: দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের বিশ্বরেকর্ড
টানা ২৪ ঘণ্টা উড্ডয়ন: দীর্ঘতম বাণিজ্যিক ফ্লাইটের বিশ্বরেকর্ড
২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালানোর সময় দুই কর্মকর্তা ধরা
২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা নিয়ে ভারতে পালানোর সময় দুই কর্মকর্তা ধরা
ভারতে পালাতে গিয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলো ডেভিড ইমন
ভারতে পালাতে গিয়ে যেভাবে গ্রেফতার হলো ডেভিড ইমন