রাজধানীর কলাবাগানের কাঁঠালবাগান এলাকায় শাশুড়ি ও স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. হৃদয় ওরফে শিপন (৩০) আদালতে দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (৩ আগস্ট) তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক সরদার ইব্রাহিম হোসেন সোহেল জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে জবানবন্দিতে তিনি কী বলেছেন, তা এখনই প্রকাশ করা হয়নি।
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ঘটনার পর হৃদয় নিজেই কলাবাগান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তার দেখানো মতে ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে ফারজানা আক্তার রাত্রির (২১) সঙ্গে হৃদয়ের বিয়ে হয়। তাদের এক বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তবে বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত।
গত ২৪ জুলাই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়ি যান। ৩০ জুলাই হৃদয়ও সেখানে যান। স্ত্রী রাত্রির সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তিনি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই ৩১ জুলাই ঢাকায় ফিরে আসেন। পরে ১ আগস্ট রাতে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফেরেন।
এজাহারে বলা হয়, ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুরের বাসায় হৃদয় ও রাত্রির মধ্যে আবারও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো সবজি কাটার ছুরি এনে স্ত্রী রাত্রির গলায় এলোপাতাড়ি আঘাত করেন তিনি। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকেও গলা, কাঁধ ও হাতে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজা বেগমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলেই নিহত হন রাত্রি।
এ ঘটনায় নিহত রাত্রির বাবা মো. ফারুক বাদী হয়ে ২ আগস্ট কলাবাগান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পরই হৃদয় ওরফে শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।








