রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ‘ছাতা বোমা’। কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ ও বোমা তৈরির আলামত উদ্ধার। আশুলিয়ায় পরিত্যক্ত ব্যাগে ‘প্রেশারকুকার বোমা’। তার আগে সাভারে একটি সমাবেশে বোমার বিস্ফোরণ। সর্বশেষ সাভারের একটি ভাড়া বাসা থেকে একাধিক পাইপ বোমা, রাসায়নিক ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মসজিদের মাঠে মিলেছে আরেকটি শক্তিশালী প্রেশারকুকার বোমা। বুধবার (১২ আগস্ট) বরিশাল আদালত চত্বরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সবগুলো ঘটনা আলাদা মনে হলেও ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে দেখার সুযোগ কম।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বলছেন, বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের সঙ্গে কিছু যোগসূত্র রয়েছে। সাভারের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংশ্লিষ্টতার আলামত পাওয়ার দাবিও করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে। যারা ভুয়া পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন, তাদের সবাইকে গ্রেফতার করতে না পারলেও পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। আরেকজনকে খুঁজছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সদস্যরা।
অতীতে জঙ্গিবিরোধী কিছু অভিযান ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর অভিযোগও ছিল রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে। ফলে নতুন করে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় নাগরিকদের কেউ কেউ বলছেন, সত্যি ঘটনা নাকি সাজানো! তবে মানবাধিকার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলো মিলালে চলবে না।
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষের সন্দেহ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবকিছুকে শুরুতেই ‘সাজানো’ বলে উড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং ৫ আগস্টের পর উগ্রবাদী মতাদর্শে যুক্ত কিছু মানুষের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বলছেন, তদন্ত এখন শুধু একটি বাড়ি বা একটি বোমাকে ঘিরে নেই। আগের কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে ব্যক্তিগত, প্রযুক্তিগত এবং বিস্ফোরকের যোগসূত্র আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে ছাতা বোমা
গত ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি ছাতার মধ্যে বিস্ফোরক পাওয়া যায়। ঘটনাটি শুরুতেই উদ্বেগ তৈরি করে। কারণ জায়গাটি রাজধানীর ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনার সীমানার মধ্যে। তখন বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বিস্ফোরকটি নিষ্ক্রিয় করে। এরপর কে বা কারা সেটি সেখানে রেখেছিল, উদ্দেশ্য কী ছিল এবং এর পেছনে কোনও সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল কিনা—তা নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার সূত্র ধরেই পরে কয়েকজন সন্দেহভাজনের পরিচয় সামনে আসে।
এর এক সপ্তাহের মধ্যে আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকায় একটি চায়ের দোকানের সামনে পড়ে থাকা ব্যাগে প্রেশারকুকার আকৃতির বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। পরদিন সেটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট।
আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তখন বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছিলেন, কে বা কারা বস্তুটি রেখে গেছে এবং উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়।
কেরানীগঞ্জের বিস্ফোরণেও মিলেছিল আলামত
রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জেও কয়েক মাস আগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় তদন্তকারীরা বিস্ফোরক তৈরির উপকরণ ও রাসায়নিক আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি যারা অনুসন্ধান বা তদন্ত করেছিলেন, তাদের কেউ কেউ এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছিলেন, যাদের বিরুদ্ধে আগে জঙ্গি-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল।
এই ঘটনাটি সাম্প্রতিক সাভার-আশুলিয়ার ঘটনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত—এমন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কয়েকটি কারণে—একই ধরনের বিস্ফোরক, বিস্ফোরক তৈরির সক্ষমতা এবং পুরোনো উগ্রবাদী নেটওয়ার্কের লোকজনের সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনাকে ঘিরে।
সাভারের বাড়িতে যা পেলো পুলিশ
সাভারে সর্বশেষ বড় অভিযান হয় ১১ আগস্ট দিবাগত রাতে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরিফ হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে অনুসরণ করে হেমায়েতপুর এলাকায় আটক করা হয়। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাইপ বোমা পাওয়া যায়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেঁতুলঝড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুরে আব্দুল জলিলের একটি বাড়ির নিচতলায় অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও পুলিশ।
সেখান থেকে আরও বিস্ফোরক, গানপাউডার, বিভিন্ন রাসায়নিক এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। জেএমবির লিফলেট পাওয়ার দাবিও করেছেন উদ্ধার অভিযানে থাকা কর্মকর্তারা। সিটিটিসির যুগ্ম কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন গণমাধ্যমকে বলেছেন, মতিঝিল ও আশুলিয়ায় বোমা উদ্ধারের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দুই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের একজন আরিফ। অন্যজন নাজমুল হাসান, যিনি ‘বোমারু মামুন’ নামে পরিচিত। সিটিটিসির দাবি, মামুনকে গ্রেফতারের লক্ষ্যেই সাভারের ওই বাসায় অভিযান চালানো হয়েছিল।
সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলমও জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে জেএমবির লিফলেট, বিস্ফোরক এবং বোমা তৈরির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উপকরণ পাওয়া গেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ঘটনাটির সঙ্গে জেএমবির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বিভিন্ন স্থানে বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার, গ্রেফতারকৃতদের সঙ্গে উগ্রবাদের কোনও যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘সবগুলো বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে। তদন্তে যা পাওয়া যাবে এবং যাদের নাম পাওয়া যাবে—তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো যাবে।’’
মিথ্যা পরিচয়ে বাসা ভাড়া
স্থানীয়দের বক্তব্যও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাড়ির মালিকের মেয়ে ইলমা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে ‘আব্বাস আলী’ নামে একজনসহ দুই ব্যক্তি বাসা নিতে আসেন। নিজেদের পরিবার নিয়ে থাকার কথা জানান তারা। একজন গাড়িচালক এবং অন্যজন স্থানীয় স্কুলে শিশুদের পড়ানোর কাজ করবেন, তাদের কাছে এমন পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। ফলে বাড়ির লোকজনের তেমন সন্দেহ হয়নি।
পুলিশের হাতে গ্রেফতার ব্যক্তির নাম আরিফ হোসেন। অথচ বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় ব্যবহার করা হয়েছে ‘আব্বাস আলী’ নাম। আব্বাস ও আরিফ একই ব্যক্তি কিনা, নাকি বাসাটি অন্য কেউ ভাড়া নিয়েছিল—সেটাও খতিয়ে দেখছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভাড়া নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্টরা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়েছিল কিনা, মোবাইল নম্বর কার ছিল, ওই বাসায় কারা যাতায়াত করতেন, এগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দক্ষিণ শ্যামপুরের অভিযানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাভারের সাধাপুরে একটি মসজিদের মাঠে কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশারকুকার পাওয়া যায়। স্থানীয়রা জানান, আগের রাতে তিন অজ্ঞাত ব্যক্তি একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রাম সেখানে রেখে যান। ড্রামের মধ্যে কাপড়চোপড় ও কোরআন শরিফের সঙ্গে প্রেশারকুকারটি ছিল। স্থানীয় লোকজন সেটি ড্রাম থেকে বের করে মাঠে রাখার পর পুলিশকে খবর দেন।
ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে সেটি নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করে। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।
সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠেছে। এটা অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা।’’ তবে দক্ষিণ শ্যামপুরের বাসায় পাওয়া বিস্ফোরকের সঙ্গে সাধাপুরের প্রেশারকুকার বোমার কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ বলে জানান তিনি।
জুলাই থেকে একের পর এক ঘটনা
সাভার-আশুলিয়ার বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট ঘটনা শুধু জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে নয়। গত ৬ ও ৭ জুলাই সাভারের তারাপুর মাঠে জাতীয় নাগরিক পার্টির ‘জুলাই পদযাত্রা’র সমাবেশ ঘিরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিন নেতাকর্মী আহত হন। অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্তে ঢাকা জেলা পুলিশ তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করে। এর কয়েক দিন পর ১১ জুলাই আশুলিয়ার ভাদাইল-পাবনারটেক এলাকায় ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে রনি নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন।
আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম তখন জানান, ঘটনার সময় ওই ব্যক্তি ঘরে একা ছিলেন। আলামত দেখে পুলিশের ধারণা হয়েছিল, তিনি ককটেল জাতীয় কিছু তৈরির সময় বিস্ফোরণের শিকার হন। পরবর্তী সময়ে তদন্তে সিটিটিসিকে যুক্ত করা হয়। ফলে প্রায় এক মাসের মধ্যে রাজনৈতিক সমাবেশে ককটেল, ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণ, পরিত্যক্ত প্রেশারকুকার বোমা, পাইপ বোমা তৈরির কথিত আস্তানা এবং মসজিদের মাঠে শক্তিশালী বোমাসহ একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে।
‘এখনই সাজানো বলা ঠিক হবে না’
মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, মানুষের সন্দেহের পেছনে কারণ আছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের আগে আমরা যে জিনিসগুলো দেখেছি—কিছু কিছু ঘটনার সত্যতা ছিল। আবার এর চেয়ে বেশি পরিমাণ ঘটনা, অর্থাৎ সত্য ঘটনা যদি পাঁচটা থাকে, তার কয়েক গুণ ঘটনা ছিল—যেগুলো মনে হয়েছে এক ধরনের ‘মেকিং’ করা।”
তবে বর্তমান ঘটনাকে একইভাবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক করেন তিনি। নূর খান বলেন, “যেহেতু বিগত দিনে অনেক সাজানো নাটক মানুষ দেখেছে বা সন্দেহ করেছে, সেই ক্ষেত্রে এই জায়গাতেও তাদের একটা সন্দেহ আছে। কিন্তু তৎকালীন প্রেক্ষাপটে সন্দেহ করার যতটা যৌক্তিকতা ছিল, আজকের প্রেক্ষাপটে সন্দেহ করার যৌক্তিকতা কিন্তু কম।”
নূর খান লিটন বলেন, ‘‘৫ আগস্টের পর যাদের বিরুদ্ধে জঙ্গি, সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদী কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগ ছিল, তাদের একটি বড় অংশ বিভিন্নভাবে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসেছে। কেউ জেল ভেঙে, কেউ জামিনে বা মুক্তি পেয়ে বাইরে এসেছেন।’’
তিনি বলেন, “কোনও চিন্তা বা কোনও আদর্শের আসলে মৃত্যু হয় না। এটা সাময়িককালের জন্য নানা কারণে স্থবির হয়ে যেতে পারে। কখনও কখনও মনে হয়, এরকম চিন্তাধারার লোক বা এরকম আদর্শিক অবস্থাটা নেই। কিন্তু তারপরেও দেখা যায়, দিনে দিনে এটা আবার সামনে চলে আসে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে।”
নূর খানের পর্যবেক্ষণ, উগ্রবাদীরা নিজেদের নতুন করে সংগঠিত করার চেষ্টা করছে। শুধু কর্মী বা সমর্থক বাড়ানো নয়, প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়া এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
তিনি বলেন, “এখনই প্রাথমিকভাবে এটিকে এমনভাবে সন্দেহ করা ঠিক হবে না যে এটি সাজানো। আমাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে—কী ধরনের ম্যাটেরিয়াল পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিশ্চয়ই তাদের অ্যাকশনের ব্যাপারে কিছু ঘোষণা পাবলিকলি দেবে।”
‘র’ প্রধানের সফর নিয়ে জল্পনা
এদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধানের সাম্প্রতিক সফরের সঙ্গে বোমা উদ্ধারের ঘটনাকে মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট ছড়ানো হচ্ছে। নূর খান এ ধরনের সরাসরি যোগসূত্র টানার বিপক্ষে। তিনি বলেন, “এরকম একটি ঘটনার ইনফরমেশন দিতে তো ‘র’-এর চিফের আসার দরকার নেই। আবার একটা ঘটনা সাজাতেও তো ‘র’-এর চিফের আসার দরকার নেই।’’ তিনি বলেন, “যারা এই ধরনের কথাবার্তা বলে, তারাও কিন্তু এক ধরনের বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরির দিকে নিয়ে যেতে পারে।”
উত্তর মিলবে ফরেনসিকে
ঘটনাগুলোকে একই নেটওয়ার্কের কাজ কিনা সেটা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা এখনই সিদ্ধান্ত জানাতে নারাজ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে বোমার উদ্ধার নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হলেও পরে সেটা স্থগিত করা হয়। যদিও এর কারণ জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বোমা হামলা, উদ্ধার কিংবা বিস্ফোরণগুলোর যোগসূত্র মেলাতে গুরুত্বপূর্ণ হবে ফরেনসিক পরীক্ষা।
মতিঝিলের বিস্ফোরক, আশুলিয়ার প্রেশারকুকার, সাভারের পাইপ বোমা এবং সাধাপুরের শক্তিশালী বোমায় একই ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার হয়েছে কিনা—সার্কিট, ডেটোনেটর, তার, সুইচিং পদ্ধতি কিংবা নির্মাণকৌশলে মিল আছে কিনা—এসব পরীক্ষা অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। একইসঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তির মোবাইল ফোন, ডিজিটাল যোগাযোগ, অর্থের উৎস, যাতায়াত এবং অন্য সন্দেহভাজনদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু পুলিশের দাবিতে ‘জঙ্গি নেটওয়ার্ক ফিরে এসেছে’ বলা যেমন ঠিক হবে না, তেমনই অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিটি বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনাকে ‘সাজানো নাটক’ বলে উড়িয়ে দেওয়াও ঝুঁকিপূর্ণ।
নূর খান লিটন বলেন, “সেই ঘোষণা দেখার পর, সেই ঘোষণার সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অবস্থা-পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অবস্থান যাচাই-বাছাই করে আমরা তখন বলতে পারবো যে এটা রিয়েল কোনও জঙ্গি তৎপরতা, অথবা অন্য কিছু। তবে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”









