২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন চলাকালে রাজশাহীতে দুজনকে হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং চারজনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, শহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।
শুনানিতে মামলার অভিযোগ তুলে ধরার পাশাপাশি ঘটনার বিভিন্ন দিক ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। এ সময় তিনটি ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, এসব ভিডিওতে কয়েকজন আসামিকে অস্ত্র হাতে গুলি করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়।
পরে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন করে প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতার থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারির আবেদন করা হয়।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল ৩৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এবং চারজনকে হাজির করার নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
হাজির করার নির্দেশ চারজনকে
প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হওয়া চারজন হলেন—রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিক।
যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩৪ জন হলেন—এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী, আলাউদ্দিন ওরফে আলাল, সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লাহ-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিক।
এর আগে গত ৩০ জুলাই এই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার তা আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে হত্যার শিকার হন আনজুম সাকিব। এছাড়া সালমান ওরফে শিমুলসহ আরও অনেকে আহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় এসব হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রসিকিউশনের অভিযোগ।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য, এসব ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল এবং আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য।









