ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আসাদুর রহমানের ওপর হামলার মামলায় জীবন ওরফে আদিল নামে এক ফুড ডেলিভারিম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রোকনুজ্জামান রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১৭ আগস্ট রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শান্তিনগর এলাকায় আসাদুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে জীবনকে আটক করা হয়। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ১৯ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন মডেল থানার এসআই মো. আতিকুজ্জামান জীবনের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার শুনানির সময় জীবনকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সর্বোচ্চ মেয়াদের রিমান্ডের আবেদন করেন।
জীবনের পক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না। আদালত তার কিছু বলার আছে কিনা জানতে চাইলে জীবন বলেন, ‘আমি নিজে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলাম। তখন এ দুর্ঘটনা ঘটে। আমি ফুড ডেলিভারির কাজ করি।’
তিনি আরও বলেন, তার মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন বিচারক জানতে চান, ‘কে ফাটিয়েছে?’
জীবন জানান, ঘটনাস্থলের কয়েকজন গার্ড তাকে মারধর করেছেন। তবে তাদের নাম তিনি জানেন না।
পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় গ্রেফতার ফারহান শাহরিয়ার ইভান নামে আরেক যুবকের পাঁচ দিনের রিমান্ড গত শনিবার মঞ্জুর করেন আদালত।
যেভাবে হামলার শিকার হন চিকিৎসক
গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ওঠার পর রাত ১১টার দিকে হামলার শিকার হন ৫৫ বছর বয়সি চিকিৎসক আসাদুর রহমান।
হামলায় তার মাথা, মুখ ও চোখে আঘাত লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, হামলার ১১ দিন আগে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়সীমা পার হওয়ার দুই দিন পর তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার সময় ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করেন আশপাশের লোকজন।
এ ঘটনায় ১৮ আগস্ট আসাদুর রহমান পল্টন থানায় মামলা করেন।








