মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে মোহাম্মদপুরকে অপরাধমুক্ত করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়ে র্যাব-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে র্যাবের অভিযানে এসব অপরাধ অনেকটাই কমেছে, তবে এতে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে— মোহাম্মদপুরের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।”
শনিবার (২৯ আগস্ট) মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন হাউজিং সোসাইটির নেতাদের নিয়ে র্যাব-২-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত টাউন হল সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় মোহাম্মদপুরের ১৩টি হাউজিং সোসাইটির ১৫ জন প্রতিনিধি এবং র্যাব-২-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। হাউজিং সোসাইটির প্রতিনিধিরা এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতামত দেন এবং মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে র্যাবের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
তারা জানান, আগের তুলনায় এসব এলাকায় নিরাপদে বসবাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সভায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি হাউজিং সোসাইটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, জরুরি যোগাযোগের জন্য হটলাইন চালু এবং নিয়মিত টহল ও তল্লাশি চৌকি আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, “অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” হাউজিং সোসাইটিগুলোর উদ্যোগে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে নির্ভয়ে র্যাবকে জানানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “গত কয়েক মাসে র্যাব-২-এর ধারাবাহিক অভিযানে মোহাম্মদপুর এলাকায় মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা অনেকটাই কমেছে। তবে র্যাব এখনই সন্তুষ্ট নয়। মোহাম্মদপুরের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা প্রয়োজন।”
নয়মুল হাসান জানান, জনসাধারণের অভিযোগ ও তথ্য গ্রহণের জন্য র্যাব-২-এর হটলাইন ০১৭৭৭৭১০২৯৯ সার্বক্ষণিক খোলা রয়েছে। তথ্য প্রদানকারী ও অভিযোগকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
সভায় র্যাব-২-এর পক্ষ থেকে মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে সাম্প্রতিক সফল অভিযান এবং ছিনতাই রোধে নিয়মিত টহল, তল্লাশি চৌকিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের চিত্র ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে জনগণের সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।” ভবিষ্যতেও অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের জনসম্পৃক্ততামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

গুম ঠেকাতে মৃত্যুদণ্ড-ক্ষতিপূরণ, ‘স্বাধীন তদন্ত’ নিয়ে উদ্বেগ






