কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—মো. আব্দুস সালাম (৪৯) ও মো. সুরুজ (২৬)।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ডিবির বরাত দিয়ে ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন। পরে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে কৌশলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতেন তারা। এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ হিসেবে পরিচয় দিতেন।
পরিবারের সদস্যদের জানানো হতো, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজের’ মাধ্যমে হয়েছে।
এ সময় আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারক চক্রের অপর সদস্যের একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলতেন এবং জানাতেন, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম।
এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিতেন এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়তেন।
আকতার হোসেন জানান, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় দায়ের হওয়া বিকাশ বা নগদ প্রতারণার মামলা তদন্তকালে এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে আসে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে কারও সম্পর্কে না জেনে লেনদেন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে ডিবি। বাহিনীটি বলছে, অনলাইনে কারও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়ে পরিচয় নিশ্চিত হতে হবে। প্রতারিত হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করতে হবে।









