সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের পৃথক অভিযানে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আলোচিত এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার আসামির সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ জনে।
মঙ্গলবার (৮ই সেপ্টেম্বর) বিকালে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সাভার মডেল থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার তিন জনের মধ্যে একজনকে কুমিল্লা ও অপর দুজনকে মৌলভীবাজার জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। নতুন গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত আসামি এবং অপরজনকে রিমান্ডে থাকা আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তারা হলেন আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত হাচ্চু মিয়ার ছেলে কাশেম (৩৩), একই এলাকার ডালিম হাজীর ছেলে জিৎ (২২) ও রাব্বি। তবে রাব্বির বিস্তারিত তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কাশেম ঘটনার শুরুতে থাকা প্রাইভেটকারের যাত্রী ছিলেন। পরে ভুক্তভোগীর কারখানার ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকা চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। অন্যদিকে আসামি জিৎ সরাসরি হামলায় অংশ নিয়ে কাঠের লাঠি দিয়ে নিহত এসআই আলতাফ হোসেনের মাথায় ও কপালে আঘাত করেন।
জানা যায়, ঘটনার পর প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে র্যাব-১০ ও পুলিশের যৌথ অভিযানে মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৮ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। কওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১০ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান আসামিদের পরিচয় ও হত্যাকাণ্ডের কারণ বিস্তারিত জানান।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী মদিনা সিটি এলাকায় এক অটোরিকশা গ্যারেজের বৃদ্ধ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় হামলার শিকার হন এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা পাশেই একটি পোশাক কারখানায় আশ্রয় নিলে দুষ্কৃতকারীরা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে রড, পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। এতে এসআই আলতাফ নিহত হন ও তার ছেলে গুরুতর আহত হন।
নিহত আলতাফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই গাছপাড়ায়। তিনি পরিবার নিয়ে আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় বসবাস করতেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী শিউলি পারভীন বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন।









