সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা হ্রাস করে জারিকৃত পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি করেছেন।
রুলে কেন ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত পরিপত্রটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা হবে না এবং কেন পরিপত্রটির কার্যকারিতা স্থগিত করে পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি আদালত রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পরিপত্রটির কার্যকারিতা আংশিকভাবে— সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা হ্রাস সম্পর্কিত বিধান স্থগিত করেন। একই সঙ্গে পূর্বের ন্যায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরসহ ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করা হয়। আবেদনকারী বাকিরা হলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. মিজানুল হক, অ্যাডভোকেট যায়েদ বিন আমজাদ, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শানেওয়াজ, অ্যাডভোকেট ছাব্বির রহমান, অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শামীম শাহিদী, মো. রাফিউল সাব্বির এবং হাবিবুর রহমান আল হাসান।
রিট আবেদনে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারিকৃত ‘গুরুত্বপূর্ণ বা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বিশেষ নিরাপত্তা প্রদান বিষয়ক রক্ষা নির্দেশিকা, ২০২৬’ শীর্ষক পরিপত্র বাতিলের প্রার্থনা করা হয়।
সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির শুনানিতে আদালতকে বলেন, উক্ত পরিপত্রটি বিদ্যমান ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স এবং বাংলাদেশ বনাম আতাউর রহমান ও অন্যান্য মামলায় আপিল বিভাগের রায়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে পরিপত্রটি আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং আইনগত কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ অনুরূপ একটি পরিপত্র জারি করা হলে হাইকোর্ট বিভাগ একইবছরের ৬ মার্চ সুয়োমোটো রুল নং ৩/২০২৫-এ তার কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অ্যাটর্নি জেনারেল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পরবর্তীকালে ৯ মার্চ উক্ত পরিপত্রটি বাতিল করা হয়।
শুনানিতে তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নতুন করে অনুরূপ পরিপত্র জারি করা বিচার বিভাগের নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই আবেদনকারীদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, ক্ষমতার পৃথকীকরণ এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থি।

ড. ইউনূসের ৬৬৬ কোটি টাকার করের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন






