বালু দিয়ে নদী ভরাটের অভিযোগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে বালু বহনের কাজে ব্যবহৃত সোহা মেসার্স মদিনার মালিক মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদ নামে আরেক জনকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারি আবু আব্দুল্লাহ জাজান তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে দণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলমকে দণ্ডের সাথে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।’
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত হননি। ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহান অফিসের কাজে বাইরে যাওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মুক্তার বয়স্ক অসুস্থ থাকায় উপস্থিত হতে পারেননি জানিয়ে তাদের পক্ষে সময় আবেদন করেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান। আদালত সময় আবেদন নাকচ করে দেন। তবে নাজমুল আলমের পক্ষে কোনও পদক্ষেপ ছিল না।
জামিন বাতিল করে চার আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ।
মামলার বিবরণ থেকে, ঢাকার চারপাশে প্রবাহমান বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ ও মৃতপ্রায় নদীগুলো হাই কোর্টের এক রীট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসক বিআইডব্লিউটিএ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ-সংস্থা দূষণ রোধকরে কতিপয় সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনা পেয়ে বেশ কয়েকবার নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় এবং তা অব্যাহত রাখেন। এরই ধারাবাহিকতায় টঙ্গী নদীবন্দরের নিয়ন্ত্রাধীন খিলক্ষেত থানার পাতিরা মৌজায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর বালুনদী পরিদর্শনে যান পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ বিআইডব্লিউটিএ।
সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ কর্তৃক সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট বালুনদীর তীরভূমি ও নদীগর্ভ ভরাট করেছে। পরে স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে জানতে পারেন, আসামিরা বালু দিয়ে নদী ভরাট করেছে।
এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম ওইদিনই খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ৩১ মে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন খিলক্ষেত থানার এসআই সোহরাব হোসেন।
২০২৩ সালের ১৬ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৮ জন সাক্ষীর মধ্যে তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত থেকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের সাজার রায় এলো।

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ জনের রায় নিয়ে মন্তব্য: ২ আইনজীবীর শুনানি ২৬ অক্টোবর






