রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেটকার চাপায় নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪) নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে থাকা ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেফতার দেখিয়েছে পুলিশ।
এর আগে তাকে মামলায় আসামি না করে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়ার দাবি করে তাকে আবার হেফাজতে নিয়ে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইসমাইল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক জোনের ১ নম্বর সড়কের ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে তাকে চাপা দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে গাড়ির নিচ থেকে বের করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মেহেদী হাসানের বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
দুর্ঘটনার পর উপস্থিত লোকজন গাড়ির চালকের আসনে থাকা ওই কিশোরকে আটক করেন। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
এ ঘটনায় মেহেদীর বড় ভাই মোক্তাদীর ইসলাম (২৮) বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে গুলশান থানায় মামলা করেন। তবে মামলায় ঘটনার সময় গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। এতে গাড়িটির চালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে পরে ওই কিশোরকে আবার হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ডিএমপির গুলশান জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় চালকের আসনে থাকা কিশোরকে হেফাজতে নিয়ে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। এর আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে চাচার জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন তাকে বলা হয়েছিল, প্রয়োজন হলে ডাকা হলে হাজির হতে হবে। পরে তদন্তে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, মামলার অপর আসামি আকাশ মারক পলাতক রয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোর গুলশানের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা আব্বাস আলী শরীফ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
এদিকে দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ফুটপাতে বসে থাকা মেহেদীকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি সড়কবাতির খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়। এরপর গাড়ি থেকে দুজন বেরিয়ে আসেন। তাদের একজনকে চালকের পাশের দরজা দিয়ে নামতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে কিশোরটিকে আটক করে পুলিশে দেন।








