জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার মোহাম্মদপুরে জননী কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মচারী রাজু আহমেদের মৃত্যুর মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বুধবার (২৫ ) বিকালে মোহাম্মদপুর থানার ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রুহিকে আটক করে রাখে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
রাজু আহমেদ হত্যা মামলায় বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই জাহিদুল ইসলাম কবির।
আসামির পক্ষে মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার (দিপু) জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য। প্রগতিশীল ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি।’
এ আইনজীবী বলেন, ‘রুহিকে একটি স্বার্থান্বেষী মহল মব সৃষ্টি করে পুলিশের হেফাজতে দেয়। তার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের মামলা নেই। তাকে সন্ধিগ্ধ আসামি হিসেবে এ মামলায় দেখানো হয়েছে। রাজনীতিতে ভালো মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি আছে। তিনি অসুস্থও। আমেরিকার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হার্টের রোগীও। যেকোনও শর্তে জামিন চাচ্ছি। প্রয়োজনে সাপ্তাহিক, এমনকি প্রত্যেকদিন হাজিরার নির্দেশ দিলেও হাজির থাকবেন।’
রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলা। আসামি ফ্যাসিস্ট হাসিনার একজন সংসদ সদস্য। ভিকটিম গুলিতে নিহত হয়েছেন। তার জামিন নামঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’
শুনানি নিয়ে জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ী এলাকায় জননী কুরিয়ার সার্ভিসের গলির সামনে বিক্ষোভ চলছিল। কুরিয়ার সার্ভিসটির কর্মচারী রাজু সেই বিক্ষোভ দেখছিলেন। হঠাৎ একটি গুলি এসে তার গায়ে লাগে। পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ অগাস্ট মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করা হয়।
নেত্রকোনা-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে ২০০৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া রুহি যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। তিনি আনন্দমোহন কলেজে ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসাবে ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভিপি হয়েছিলেন।









