স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচনে যেসব ব্যক্তি প্রার্থী হবে তাদের জন্য নির্বাচনি বিধিমালায় এবং নির্বাচনি আইন সংশোধন করে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা কেন হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
ডোপ টেস্টের ফল ‘পজিটিভ’ হলে বা টেস্ট করাতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রেখে এ সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিব এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ৭ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
পরে রিটকারী আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি বলেন, ‘আমাকে রিপ্রেজেন্ট যে মানুষটা করবে তাকে অবশ্যই মাদকমুক্ত হতে হবে। সরকারি চাকরির জন্য এই নিয়মটা আছে, পুলিশের জন্য এই নিয়মটা আছে। তাহলে আমি ট্যাক্সপেয়ার, আমাকে রিপ্রেজেন্ট করতেছে একজন মেম্বার অব পার্লামেন্ট, আমাকে রিপ্রেজেন্ট করছে এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার— তারা যদি মাদকাসক্ত হয়, তাহলে তো আমাকে ভালোভাবে তারা রিপ্রেজেন্ট করতে পারবে না। জনগণের অধিকারটা আদায় করতে পারবে না। সেজন্যই ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা উচিত। আমরা চাই, আমাদের রিপ্রেজেন্ট যে করবে সে সুস্থ, স্বাভাবিক, সাউন্ড মাইন্ডের মানুষ হবে।’
এ বিষয়ে গত ১৬ অগাস্ট বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। নোটিশের জবাব না পেয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন তিনি। আবেদনে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।