পদত্যাগেই দায়মুক্তি? রাড্ডা থেকে গেণ্ডারিয়া: আইনের মুখোমুখি হবেন কারা

জামাল উদ্দিন ও মহসীন কবির
২০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০১ আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০১

রাজধানীর মিরপুরে কিছু দিন আগেই ভেকু দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একটি বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম। এবার গেণ্ডারিয়ায় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে লোকজনকে ধাওয়া করার ভিডিও নিয়ে বিতর্কে পড়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পৃথক দুই ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের দুই জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর এসেছে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত।

সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপকে রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহির বার্তা হিসেবে তুলে ধরা হলেও প্রশ্ন উঠেছে, পদত্যাগের মধ্য দিয়েই কি শেষ হবে সব দায়? নাকি রাজনৈতিক পদ হারানোর পরও অভিযোগের তদন্ত, আইনি ব্যবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে তাদের?

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাড্ডা ও গেণ্ডারিয়ার ঘটনার প্রকৃতি এক নয়। রাড্ডায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। অন্যদিকে, গেণ্ডারিয়ার ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, আত্মরক্ষার দাবি এবং লাইসেন্সের শর্ত মেনে চলা নিয়ে।

দুটি ঘটনায় অভিযোগের ধরন আলাদা হলেও মূল প্রশ্ন এক, অভিযোগের তদন্ত কত দূর এগোবে এবং অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

রাড্ডায় হামলা, অভিযুক্ত কারা

গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টারে হামলা চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, দেশীয় অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশ করে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর ও আটকে রাখেন। পরে ভেকু দিয়ে একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় আলট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষ। লুট করা হয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী।

১৯৭৪ সাল থেকে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলায় কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে। এতে দরিদ্র নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হয়েছে।

হামলার পর জমি দখলচেষ্টায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। আলোচনায় আসে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নাম। তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’র সঙ্গে মিষ্টির অতীত সম্পৃক্ততার তথ্যও সামনে আসে।

তবে মিষ্টি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, বর্তমানে ওই সমিতির সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরেও তিনি জড়িত নন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ১ অক্টোবর তিনি সংসদ সদস্যের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তার আসন শূন্য ঘোষণা করা হয়।

রাড্ডা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। তবে প্রাথমিক এজাহারে মিষ্টির নাম ছিল না।

আইন অনুযায়ী, এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়া গেলে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করারও সুযোগ নেই।

এ ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। হামলার নির্দেশ কে দিয়েছিলেন, ভেকু কারা সরবরাহ করেছিলেন, হামলাকারীদের সংগঠিত করেছিলেন কারা এবং জমি দখলচেষ্টার নেপথ্যে কারা ছিলেন? কয়েক ঘণ্টা ধরে হামলা চলার অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ কেন তা প্রতিরোধ করতে পারেনি, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

ঘটনার পর শাহ আলী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়। যদিও পুলিশ প্রশাসন একে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত ১ অক্টোবর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তদন্তে মিষ্টির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। দলীয় ব্যবস্থা ও আইনি ব্যবস্থা আলাদা বলেও স্পষ্ট করেছিলেন তিনি। তবে তদন্তে মিষ্টির বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ পাওয়া গেছে কিনা কিংবা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে সর্বশেষ নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গেণ্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে ইশরাক, পদত্যাগের পর কী

রাড্ডার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয় গেণ্ডারিয়ায়। গত ১৭ অক্টোবর গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে। ভিডিওটি তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

ইশরাকের দাবি, ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি মারমুখী ভঙ্গিতে তার গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রদর্শন করেন। তার আরও দাবি, স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় কয়েকটি মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ এবং ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

এ ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে সংবাদ সম্মেলনে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

এ ঘটনায় ডিএমপির গোয়েন্দাপ্রধান মো. শফিকুল ইসলাম ১৮ অক্টোবর বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, স্থানীয় উপপুলিশ কমিশনারকে ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স আত্মরক্ষার জন্য দেওয়া হলেও তা জনসমক্ষে ইচ্ছামতো অস্ত্র প্রদর্শন কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালনের অবাধ অনুমতি নয়। আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালা, ২০২৫-এর ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে অন্যের ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি হয়, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

ফলে ভিডিও, ঘটনার পরিস্থিতি, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা ও লাইসেন্সের শর্ত যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রশ্ন এসেছে। সাবেক আইজিপি বাহারুল আলমও বিষয়টিতে লাইসেন্স প্রদানকারী জেলা প্রশাসনের ভূমিকার কথা বলেছেন।

‘আইন সবার জন্য সমান’

অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। কেউ প্রভাবশালী হোক বা অন্য কেউ, কাউকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।’

ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স ও ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আত্মরক্ষার প্রয়োজন বিবেচনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দিতে পারেন। তবে লাইসেন্স দেওয়ার আগে পুলিশের মতামত নেওয়া হয়। আবেদনকারীর আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা, তা পুলিশ যাচাই করে মতামত দেয়। অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্তও থাকে। মূলত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট লাইসেন্স দেন, পুলিশ নয়।’

প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে এ ধরনের কোনও অভিযোগ আসেনি। কেউ ছাড়ও চাননি। আইন অনুযায়ী পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’

পুলিশ পর্যাপ্ত সরঞ্জামে সজ্জিত ছিল না বলে ইশরাক হোসেনকে অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে, এমন দাবির বিষয়ে সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এটি তাঁর দাবি। আমরা সব সময় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত থাকি।’

‘পদত্যাগ আইনি দায় নির্ধারণের বিকল্প নয়’

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের এখানে একটা প্রবণতা লক্ষ করা যায়, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে তাকে পদত্যাগ করিয়ে কিংবা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পদত্যাগ অবশ্যই রাজনৈতিক ও নৈতিক জবাবদিহির একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু সেটিকে কোনোভাবেই ফৌজদারি অপরাধের বিচার কিংবা আইনগত দায় নির্ধারণের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একজন সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলে তার বিষয়ে যে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, একজন মন্ত্রী কিংবা সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রেও সেই একই নীতি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, পদত্যাগের পর সংশ্লিষ্ট অভিযোগের তদন্ত কীভাবে এগোচ্ছে। প্রকৃত অপরাধী কারা, ঘটনার পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতা কেউ আছেন কিনা, তদন্তে এসব বিষয় বেরিয়ে আসছে কিনা, সেটি দেখতে হবে। শুধু পদত্যাগের মধ্য দিয়ে আলোচনা থেমে গেলে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া দৃশ্যমান না হলে জনমনে দায়মুক্তির ধারণা তৈরি হতে পারে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, অভিযোগ ওঠা মানেই কেউ অপরাধী নন। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ করাটাই মূল বিষয়।’

ইজাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এ ছাড়া রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনও ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক অবস্থান কিংবা ক্ষমতার প্রভাব বিবেচ্য হবে না। সংবিধানে আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিকের সমতার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, সেটির বাস্তব প্রয়োগ থাকতে হবে। একজন সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে পুলিশ যেভাবে প্রাথমিক অনুসন্ধান, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই আইনগত মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যে পদেই থাকুন না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাকে অযথা হয়রানি কিংবা সামাজিকভাবে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।’

এই মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত আর আইনি সিদ্ধান্তকে আলাদা রাখতে হবে। পদত্যাগ একটি রাজনৈতিক পদক্ষেপ, কিন্তু অপরাধের দায় নির্ধারণ করবে তদন্ত ও বিচারব্যবস্থা। এই পার্থক্য নিশ্চিত করা না গেলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হতে পারে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে ক্ষমতাবান ও সাধারণ নাগরিক উভয়েই একই আইনের অধীনে ন্যায়বিচার পাবেন।’

‘অভিযোগ প্রমাণ হলে আইনি ব্যবস্থা’

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ পাওয়ায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হলে নিশ্চয়ই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী অন্যদের সতর্ক করেছেন। যা অতীতে ছিল না।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, পদত্যাগ রাজনৈতিক জবাবদিহির অংশ হতে পারে, কিন্তু তা অপরাধ প্রমাণ করে না। আবার সম্ভাব্য অপরাধের তদন্তও থামিয়ে দেয় না। ক্ষমতার পদ ছাড়ার পরও রাষ্ট্রের আইন একইভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা, সেটিও দেখার বিষয়।

/ইউএস/এমওএফ/
সম্পর্কিত
বাবার চোখ এড়াতে ঢোলা জামা, আড়ালে চলতো শিশুর ওপর নির্যাতন
‘পুলিশ ইকুইপ্ট নয়’, ইশরাকের মন্তব্যে যা বলছে ডিএমপি
জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে : অর্থমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস সেমিনারে যোগ দিবেন ডা. জুবাইদা রহমান 
বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস সেমিনারে যোগ দিবেন ডা. জুবাইদা রহমান 
মেনোপজ নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলো জানেন তো?
মেনোপজ নিয়ে এই ভুল ধারণাগুলো জানেন তো?
বেনামে খোলা যাবে না বিমা পলিসি, ১০ লাখ টাকার লেনদেনে রিপোর্ট বাধ্যতামূলক
বেনামে খোলা যাবে না বিমা পলিসি, ১০ লাখ টাকার লেনদেনে রিপোর্ট বাধ্যতামূলক
কিশোর গ্যাং দমনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইউএনও-ওসির নেতৃত্বে কমিটি: আইজিপি
কিশোর গ্যাং দমনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ইউএনও-ওসির নেতৃত্বে কমিটি: আইজিপি
সর্বাধিক পঠিত
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন এমপি রতন
মধ্যরাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের স্ট্যাটাস, কথা বলেছেন পদত্যাগ নিয়ে
মধ্যরাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের স্ট্যাটাস, কথা বলেছেন পদত্যাগ নিয়ে
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
চট্টগ্রামে জন্ম, ঢাকায় বসবাস-এমপি হতে ঠাকুরগাঁওয়ে আলীম নিজামী
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ বিক্রির জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ
আগামী বছর দেশে বিদ্যুৎ বিক্রির জায়গা থাকবে না: চিফ হুইপ
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক
ইউএনওর সরকারি গাড়ি নিয়ে ভাড়া বাসায়, তিন নারীসহ আটক চালক