মানুষ কেন দেয়ালে-টাকায় নাম লেখে?

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক 
১০ জুন ২০২৬, ১৬:০৬ আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৬:০৬

বিভিন্ন সময় টাকায়, স্কুলের দেয়াল, বাসস্টপ, বাস-ট্রেন-লঞ্চের সিট, পার্কের বেঞ্চ কিংবা পাবলিক প্লেসে মানুষের নাম লেখা দেখা যায়। কোথাও নিজের নামের সঙ্গে আরেকটি নাম যুক্ত করে ‘প্লাস’ চিহ্ন দেওয়া থাকে, কোথাও আবার ছোট ছোট মন্তব্য বা তারিখ খোদাই করা থাকে।

প্রশ্ন হলো—মানুষ কেন এই কাজ করে? এটা কি শুধু আবেগ, নাকি এর পেছনে আছে আরও গভীর মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা?

দেখতে এগুলো সাধারণ মনে হলেও, মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই আচরণের পেছনে কিছু নির্দিষ্ট মানসিক কারণ কাজ করে।

‘আমি ছিলাম’—একটি মৌলিক মানবিক তাগিদ

মনোবিজ্ঞানের একটি সাধারণ ব্যাখ্যা হলো, এ ধরনের আচরণের পেছনে কাজ করে অস্তিত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার প্রবণতা।

অর্থাৎ, মানুষ চায় তার উপস্থিতি কোনও না কোনোভাবে চিহ্নিত থাকুক—সে জায়গা, সে সময় বা সেই মুহূর্তে সে ছিল, এটা যেন মুছে না যায়।

দেয়ালে নাম লেখা তাই অনেক সময় সরাসরি অর্থে না, বরং প্রতীকীভাবে বলে—“আমি এখানে ছিলাম।”

টেরিটোরিয়াল আচরণের প্রতীকী রূপ

প্রাণীজগতে নিজস্ব এলাকা চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। মানুষের ক্ষেত্রে সেটি জৈবিকভাবে নয়, বরং সামাজিক ও প্রতীকীভাবে প্রকাশ পায়।

লেখা, খোদাই বা চিহ্ন রেখে যাওয়ার প্রবণতা অনেক গবেষকের মতে সেই একই মানসিক ধারার আধুনিক রূপ—নিজের উপস্থিতি বা সম্পর্ককে দৃশ্যমান করে রাখা।

আবেগের মুহূর্তে সিদ্ধান্তের পরিবর্তন

বিশেষ করে প্রেম, রাগ বা উত্তেজনার মুহূর্তে মানুষ অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে এমন আচরণ করে ফেলে।

মনোবিজ্ঞান বলছে, তীব্র আবেগের সময় মস্তিষ্কের যুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল না ভেবে তাৎক্ষণিক অনুভূতি প্রকাশ করে।

দুইটি নামের মাঝে ‘প্লাস’ চিহ্ন অনেক সময় তাই বাস্তব ঘোষণা নয়, বরং আবেগের দ্রুত প্রতিফলন।

স্মৃতি ধরে রাখার চেষ্টা

মনোবিজ্ঞানের আরেকটি ব্যাখ্যা হলো—মানুষ তার অনুভূতি বা মুহূর্তকে স্থায়ী করতে চায়।

লেখা বা চিহ্ন একটি ভৌত মাধ্যম, যা স্মৃতিকে সময়ের সঙ্গে টিকে থাকতে সাহায্য করে। তাই নাম, তারিখ বা ছোট বার্তা দিয়ে মানুষ আসলে চেষ্টা করে কোনো মুহূর্তকে ‘স্থির’ করে রাখতে।

সামাজিক প্রভাব ও অনুকরণ

অনেকক্ষেত্রে এটি সামাজিক অনুকরণের ফলও হতে পারে। অন্যদের লেখা বা চিহ্ন দেখে অনেকে একই আচরণে উৎসাহিত হয়।

বিশেষ করে কম বয়সীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যেখানে আবেগ, পরিচয় ও প্রকাশের তাগিদ একসঙ্গে কাজ করে।

কিন্তু বাস্তব দিকটি আলাদা

যে আচরণ কারও কাছে আবেগ বা স্মৃতি, সেটাই অন্য কারও কাছে সম্পত্তি নষ্ট বা ভিজ্যুয়াল দূষণ হিসেবে দেখা হয়।

পাবলিক সম্পত্তির ওপর এ ধরনের লেখা অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মবিরোধী বা আইনগতভাবে অনুচিত হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেষ কথা

দেয়ালে লেখা নাম, টাকায় আঁকা চিহ্ন বা কোথাও খোদাই করা তারিখ—দেখতে ছোট একটি কাজ মনে হলেও এর পেছনে লুকিয়ে থাকে মানুষের একটি বড় মানসিক সত্য।

মানুষ শুধু অনুভব করে না, সে সেই অনুভূতিকে কোনও না কোনোভাবে রেখে যেতে চায়।

আর সেই রেখে যাওয়ার চেষ্টাই কখনও হয়ে ওঠে স্মৃতি, কখনও আবেগ, আবার কখনও নিছক এক মুহূর্তের ছাপ।

/এম/ 
সম্পর্কিত
রাজশাহীর ‘জীবিত মাছ’ যাচ্ছে দেশের ২৮ জেলায়, প্রতিদিন বিক্রি ২০ কোটি টাকার
গরু-ছাগল ছেড়ে মরুর দুম্বা পালন, নতুন সম্ভাবনা দেখছেন খামারি
যোগের সাধনা নাকি পদকের লড়াই, কোন পথে এগোচ্ছে যোগব্যায়াম?
সর্বশেষ খবর
শুধু সার্টিফিকেটের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নয়: শিক্ষামন্ত্রী
শুধু সার্টিফিকেটের জন্য উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নয়: শিক্ষামন্ত্রী
এক দশক পর তাঞ্জানিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান
এক দশক পর তাঞ্জানিয়ায় নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান
ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ’ প্রভাব পড়বে: ইরান
ইসরায়েল নতুন করে হামলা চালালে বিশ্ববাজারে ‘ভয়াবহ’ প্রভাব পড়বে: ইরান
টাইব্রেকারে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে বাংলাদেশ
টাইব্রেকারে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে বাংলাদেশ
সর্বাধিক পঠিত
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
নভেম্বর থেকে কর্মী যাবে মালয়েশিয়ায়, খরচ জানালেন প্রতিমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
কে হচ্ছেন ইসরায়েলের নতুন প্রধানমন্ত্রী
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
এখন কী করবেন নেতানিয়াহু
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল
নেশার কারণে গান ছাড়িনি: আনুশেহ আনাদিল
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক
ইউরোপের ট্রেনের সঙ্গে বন্দে ভারতের তুলনা করে যা জানালেন পোল্যান্ডের পর্যটক