প্রশ্ন: আমার মায়ের সঙ্গে স্ত্রীর প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো। আমি বলেছিও যে আলাদা বাসা নিই, কিন্তু বাড়তি খরচ হবে এটা চিন্তা করে আমার স্ত্রী রাজি হয়নি। সপ্তাহখানেক আগে একটা ছোট বিষয় নিয়ে হঠাৎ ঘরে তুলকালাম কাণ্ড হলো। আমার স্ত্রী মায়ের সঙ্গে যাচ্ছেতাই ব্যবহার করে। তুই-তুকারি এবং গালিগালাজ করে। এরপর সে মায়ের কাছে দুঃখও প্রকাশ করে, কিন্তু সেটা দায়সারা গোছের। এই ঘটনার পর থেকে আমি কোনোভাবেই স্ত্রীর সঙ্গে আর স্বাভাবিক হতে পারছি না। কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম কথা বলার, কিন্তু সেই কথা বলার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ঝগড়ায় রূপ নিয়েছে। আমি খুব ক্লান্ত বোধ করছি আর কোনও কাজে আগ্রহ পাচ্ছি না। মনে হচ্ছে আমার পক্ষে আর সংসার করা সম্ভব না। স্ত্রীর উপর থেকে মন উঠে গেছে। কী করবো এখন?
উত্তর: আপনাকে এই পরিস্থিতিতে আরও ধৈর্য্যশীল হতে হবে। আপনাদের চিরস্থায়ী দাম্পত্য সম্পর্কের উপর জোর দিন। সম্পর্কের স্থায়ী ভালোবাসা ও বিশ্বাসের উপর জোর দিন। মনে রাখবেন আপনাদের মধ্যে আত্মীক সম্পর্ক একমাত্র একে অন্যকে নিঃশর্তভাবে ভালোবাসার মধ্য দিয়েই স্থাপন করা সম্ভব, পারস্পারিক মতপার্থক্য যতই থাকুক না কেন। আপনারা স্ত্রীর সঙ্গে ঠান্ডা মাথায় খোলামেলা আলোচনা করুন। একে-অন্যের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে গভীরভাবে জানার এবং বোঝার চেষ্টা করুন। নিজ নিজ ভাবনা ও চিন্তাগুলো শেয়ার করুন। ভিন্ন ভিন্ন বিষয় সম্পর্কে চিন্তা না করে, আপনাদের চিন্তা-ভাবনা কেন্দ্রীভূত করুন আপনাদের সম্পর্কের পজিটিভ দিকগুলোর মাঝে। উনাকে বোঝান যে, আপনা মা বয়স্ক মানুষ এবং বয়স্ক মানুষ শিশুর মতো। সুতরাং উনার খারাপ আচরণে ক্ষিপ্ত না হয়ে সেসব আচরণকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখতে হবে এবং উনার প্রতি মমতা অনুভব করতে হবে, যেমনটা আমরা অনুভব করি শিশুদের প্রতি। এরপরেও যদি আপনি নিজেরা সমস্যাটি সমাধানের জন্য অক্ষম হন, তাহলে একজন কাপল থেরাপিস্ট, কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৫ বছর। আমার যে মেয়েটার সাথে সম্পর্ক সে টক্সিক ধরনের মানুষ। সবসময় আমাকে ম্যানুপুলেট করার চেষ্টা করে। সম্পর্ক ভাঙতে চাইলে সুইসাইডের হুমকি দেয়। কী করবো বুঝতে পারছি না।
উত্তর: আপনার প্রেমিকার আচরণের ব্যপারে আপনার সহনশীলতা এবং তার প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসা আছে বলেই আপনাদের সম্পর্ক এখনও টিকে আছে। আপনাদের একে অপরের মধ্যে আচরণ বা স্বভাবধর্ম পরিবর্তনের চেষ্টা করার আগে আপনাদেরকে এটা বুঝতে হবে যে, একজনের কাছে অন্যের যে স্বভাব অস্বাভাবিক, তার জন্য সেটাই স্বাভাবিক। আপনার প্রেমিকা হয়তো না বুঝেই এমন আচরণ করেন। এটা অনেক সময় বেড়ে ওঠার পরিবেশ বা কোনও ঘটনার প্রভাবে হয়ে থাকে। কারণটি জানার চেষ্টা করুন। উনাকে একজন কাউন্সেলর বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান।









