‘স্বামী সবসময় আমাকে দোষারোপ করতে থাকে’

জীবনে চলার পথে বিভিন্ন কারণে বিষণ্ণতা ঘিরে ধরতে পারে, থমকে যেতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। হতাশার এই সময়ে সঠিক দিকনির্দেশনা সাহায্য করতে পারে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে। বাংলা ট্রিবিউনের নিয়মিত আয়োজনে আপনার মনের কথাগুলো শুনে প্রতি শনিবার পরামর্শ দেবেন মনোরোগ চিকিৎসক আতিকুল হক। পরিচয় গোপন রেখে যেকোনো ধরনের মানসিক টানাপোড়েনের বিষয় আমাদের জানাতে পারেন এখানে- [email protected]

জীবনযাপন ডেস্ক
২৩ মার্চ ২০২৪, ১১:০০আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৪, ১১:০০

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩০ বছর। পড়াশোনা শেষ করেছি ৫ বছর আগে। এখনও চাকরি পাচ্ছি না। দিনদিন হতাশ হয়ে পড়ছি। এখন আর চাকরির জন্য চেষ্টা বা পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করে না। বাবা মা সবসময় এগুলো নিয়ে কথা শোনায় যে সবাই চাকরি পায় আমি কেন পাই না। খুব হতাশ লাগে।

উত্তর: ১) দুঃখ-কষ্টকে জীবনের অপরিহার্য্য অংশ মনে করা: আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই দুঃখ-কষ্ট থাকে এবং থাকবে। জীবনে সুখ যেমন আছে দুঃখ-কষ্টও তেমনি আছে। সুখ এবং কষ্ট একে অপরের পরিপূরক। শুধুমাত্র সুখ নিয়ে যেমন জীবন হয় না, কষ্টও তেমনি জীবনের একমাত্র অভিজ্ঞতা কখনোই হতে পারে না। এ কারণে দুটোকেই আমাদেরকে সমানভাবে আপন করে নিতে হবে; ভালোবাসতে হবে। এগুলোকে আলিঙ্গন করে নিতে হবে, মনে করতে হবে এরা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমরা আমাদের কষ্টের জন্য পরিবেশকে অনেক সময় দায়ী করি। কিন্তু আমাদের কষ্টের অভিজ্ঞতা এমনিই কোনও না কোনও ভাবে আসতো। ২) আবেগের আত্মীকরণ: মনের সমস্ত অনুভূতি ও আবেগকে ভালো এবং মন্দ এই দুই ভাগে ভাগ না করে, আদি এবং অকৃত্রিমভাবে আপন করে নেওয়ার মাধ্যমে আমাদের মানসিক চাপ কমে যায় এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটে। ৩) নেতিবাচক আবেগকে বশীভূত করা: ক্ষোভ, যজেদ, বিরক্তি, ঘৃণা, ঈর্ষা ইত্যাদি নেতিবাচক আবেগগুলোকে বশীভূত করার প্রক্রিয়াটি তখনই সম্ভব হয় যখন আমরা তাদের কারণের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ না করে তাদেরকে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ক্রিয়ালাপ হিসেবে নৈর্ব্যক্তিকভাবে (নন-জাজমেন্টালি) দেখবো।

প্রশ্ন: আমার সন্তানের বয়স ৫ বছর। এখনও কথা বলতে পারে না ঠিক মতো। এগুলো নিয়ে এমনিতেই হতাশ থাকি। এর মধ্যে আমার স্বামী সবসময় আমাকে দোষারোপ করতে থাকে মেয়ের এই অবস্থার জন্য। স্পিচ থেরাপি দিয়েও কাজ হচ্ছে না। সবসময় মনে হয় ভুলটা বুঝি আমারই। আমিই ঠিক মতো যত্ন নিতে পারিনি সন্তানের। অপরাধবোধ কুঁকড়ে খায় আমাকে।

উত্তর: ১) আপনাদের সন্তানের দেরিতে কথা বলা নিয়ে আপনার মনে যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে তাকে মোকাবিলা করা শিখতে হবে সবার আগে। সেজন্য আপনার উদ্বেগ ও হতাশাকে এড়ানোর চেষ্টা না করে এগুলোকে জীবনের অপরিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে আপন করে নিতে হবে। জীবনকে ভার্চুয়াল রিয়ালিটি গেম হিসেবে নিতে হবে এবং দুঃখ-কষ্ট ও উদ্বেগকে এই গেমের ডিফিকাল্টি পয়েন্ট হিসাবে স্পোর্টিভলি নিতে হবে। ২) আপনার আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি থাকার কারণে আপনি হীনমন্যতায় ভুগছেন যেটা আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিজেকে আপনার কোনও ব্যাপারেই দায়ী মনে করা যাবে না। নিজেকে পরিবর্তনের চেষ্টা না করে নিজের ভালো-মন্দ সকল বৈশিষ্ট্যকে আপন করে নেওয়ার মাধ্যমে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ানো সম্ভব। ৩) আপনার জীবনে ভালো যা কিছু পেয়েছেন সেজন্য স্রষ্টার কাছে বা প্রকৃতির কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। সুখের মতো, দুঃখকেও আপনার জীবনের অপরিহার্য অভিজ্ঞতা হিসেবে নিজেকে মেনে নিন। জীবনে অনিবার্য দুঃখের সম্মুখীন হওয়া আমাদের সকলের জন্য অবধারিত। দুঃখের জন্য নিজের চারপাশকে বা বিশেষ কোনও কারণকে বা সন্তানের অবস্থাকে দায়ী না করে দুঃখকে নিজ অভিজ্ঞতার অপরিহার্য অংশ হিসেবে মেনে নিন, তাহলে আপনার দুঃখের প্রকোপ হ্রাস পাবে। ৪) আপনার সন্তানের শিক্ষা যেন পাঠ্যপুস্তকনির্ভর না হয়, সেটা নিশ্চিত করুন। তাকে ইনোভেটিভ শিক্ষামূলক বইপত্র, খেলার সামগ্রী, শিক্ষা-উপকরণ, মোবাইল অ্যাপ বা ওয়েব-কনটেন্ট ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করুন। তাকে নিয়ে উদ্দীপনাময় সামাজিক পরিমণ্ডলে, আত্মীয়-স্বজনের বাসায় কথাবার্তার মধ্যে অধিক সময় কাটান। স্কুলের বাইরে তার বয়সী মানবিক বোধসম্পন্ন শিশুদের সাথে তাকে বন্ধুত্ব স্থাপনে সাহায্য করুন, তাদের সাথে খেলাধুলা করতে উদ্বুদ্ধ করুন।

/এনএ/
সম্পর্কিত
পরিচ্ছন্ন হাত: স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি
ত্বকের যত্ন নিন: বয়সের তুলনায় বুড়িয়ে যাচ্ছেন?
শীতে ত্বকের বিদ্রোহ থেকে বাঁচার উপায়
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম