বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে কফি। এর স্বাদ এবং চনমনে করার গুণের কারণে অনেকেই কফি ছাড়া দিন পার করতে পারেন না। পরিমিত কফি খাওয়া স্বাস্থ্যকর হলেও অত্যধিক চিনি, ক্রিম বা কৃত্রিম স্বাদ যোগ করলে এটি বরং স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিছু সাধারণ পরিবর্তন এনে কফিকে বানিয়ে ফেলতে পারেন স্বাস্থ্যকর।
- পরিশোধিত চিনি রক্তে শর্করার বৃদ্ধি, ওজন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। সাদা চিনির বদলে প্রাকৃতিক মিষ্টির জন্য বেছে নিতে পারেন স্টেভিয়া। এটি একটি প্রাকৃতিক ক্যালোরিমুক্ত মিষ্টি যা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ায় না। বেছে নিতে পারেন মধু বা ম্যাপেল সিরাপ। যদিও এগুলোতে শর্করা থাকে, তবে এই প্রাকৃতিক বিকল্পগুলো পরিমিত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ সরবরাহ করে।
- ভারী ক্রিম বা চিনিযুক্ত ক্রিমারের পরিবর্তে বাদাম, ওট বা নারকেল দুধের মতো উদ্ভিজ্জ দুধ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। অনেক উদ্ভিজ্জ দুধে ক্রিমের তুলনায় কম ক্যালোরি এবং কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, এছাড়া এগুলো ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির উৎস।
- কোলাজেন পাউডার মেশাতে পারেন কফিতে। কোলাজেন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা, জয়েন্টের স্বাস্থ্য এবং হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এটি গরম কফিতে সহজেই দ্রবীভূত হয়। কোলাজেন পাউডার কফির স্বাদ পরিবর্তন না করেই প্রতিদিনের প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের চাহিদা মেটাতে পারে।
- মসলা এবং ভেষজ কফির স্বাদ এবং পুষ্টির মান উভয়ই বাড়াতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ দারুচিনি মেশাতে পারেন কফিতে। ক্যালোরি ছাড়াই কফিতে স্বাদ যোগ করবে দারুচিনির গুঁড়া। মেশাতে পারেন হলুদ। এটি প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। কফিতে এক চিমটি কালো মরিচের সাথে হলুদ মিশিয়ে নিন।
- কোকো পাউডার মিশিয়ে নিতে পারেন কফিতে। চকোলেটের স্বাদ যোগ করার পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ম্যাগনেসিয়ামও প্রদান করবে কোকো পাউডার। মস্তিষ্ক এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এই পাউডার।
- ভালো মানের কফি বিন নির্বাচন করুন। সম্ভব হলে জৈব ও উচ্চমানের কফি বিন বেছে নিন। এগুলো সিন্থেটিক সার বা কীটনাশক ছাড়াই জন্মায়। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কম থাকে।
জেনে নিন
ক্যাফেইন গ্রহণ সীমিত করুন। অত্যধিক ক্যাফেইন বিরক্তি, উদ্বেগ এবং ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। প্রতিদিন ১ অথবা ২ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। বিকেলে বা সন্ধ্যায় কফি এড়িয়ে চলুন। নাহলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার ঝুঁকি থাকে।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া








