প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৩ বছর। আমি সারাক্ষণ খুব অস্থিরতার মধ্যে থাকি। সন্তান, সংসার সামলাতে গিয়ে ক্লান্ত লাগে সারাক্ষণ। অফিসের কাজের চাপও রয়েছে। হেল্পিং হ্যান্ড বলে কেউ নেই। স্বামীও ব্যস্ত থাকে। আমি এত অস্থির থাকি যে মেডিটেশনও করতে পারি না, মনোযোগ আসে না। কীভাবে এই অস্থিরতা কমাবো?
উত্তর: ১) মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন: আপনি এই মুহূর্তে যেখানে আছেন, যে কাজ করছেন, সেখানে থাকার এবং সেই কাজ করার মাধ্যমেই আপনি মাইন্ডফুল মেডিটেশন করতে পারেন আলাদা সময় ব্যয় না করেই। আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো করার সময় বর্তমান মুহূর্তে থাকার চেষ্টা করুন। যেমন খাওয়ার সময় খাবারের স্বাদ ও গন্ধ উপভোগ করুন, হাঁটার সময় চারপাশের দৃশ্য লক্ষ্য করুন। চারপাশে যা ঘটছে তা লক্ষ্য করুন। আপনার শরীরের সাথে মেঝে, চেয়ার, আসবাবপত্র বা অন্য যা কিছু স্পর্শ করে আছে সচেতনভাবে সেসব উপলদ্ধি করুন। আপনার শরীরে রোদ বা বাতাসের স্পর্শ অনুভব করুন। পায়ের মাটির স্পর্শ এবং পোশাকের স্পর্শ অনুভব করুন।
২) শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম: নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন এবং ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনুন। শ্বাস ধরে রাখুন এবং ১ থেকে ৪ পর্যন্ত গুনুন। শ্বাস ছাড়ুন এবং ১ থেকে ৬ পর্যন্ত গুনুন, পেট ভেতরের দিকে টানুন। কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করুন। এটি আপনার মনকে শান্ত করবে।
৩) প্রকৃতির সাহচর্য: প্রতিদিন কিছু সময় প্রকৃতির মাঝে কাটানোর চেষ্টা করুন। ১৫ থেকে ৩০ মিনিট খালি পায়ে ঘাস বা মাটির উপর হাঁটুন বা দাঁড়ান। দুই হাতের তালু দিয়ে বড় কোনও গাছের কাণ্ড জড়িয়ে ধরে রাখুন (ট্রি হাগিং) কিছু সময়ের জন্য।
৪) শারীরিক ব্যায়াম: নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এটি মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়, চিন্তা ও স্মৃতিশক্তি উন্নত করে। ব্যায়ামের সময় এন্ডরফিন তৈরি হয় যা প্রশান্তি ও ভালো লাগার অনুভূতি দেয়।
প্রশ্ন: আমার বয়স ২৯ বছর। অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা শেষ করেছি। বাবার সামর্থ থাকার পরেও পড়াশোনায় আমাকে সাহায্য করেনি। বাবা নিজে দামি পোশাক পরলেও আমাকে কোনোদিন ভালো পোশাক কিনে দেয়নি। আমি ধারদেনা, টিউশনি করে নিজের পড়ার খরচ চালিয়েছি। আত্মীয়দের কাছে ছোট হয়ে তাদের বাসায় থেকেছি। পদে পদে অপমানিত হয়েছি। এখন আমি ভালো চাকরি করি, সংসারও আছে। কিন্তু পুরনো দিনের ট্রমা প্রায়ই ফিরে আসে। বাবা কিংবা পরিবার থাকতেও এত বেশি অপমান সহ্য করতে হয়েছে এটা ভাবলেই কান্না আসে। মাঝে মাঝে আমি অস্বাভাবিক আচরণ করি। কীভাবে এই স্মৃতি থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবো?
উত্তর: ১) প্রকৃতির ছন্দের উপর আস্থা রাখুন: প্রকৃতিতে কোনও কিছু ভালো বা মন্দ নয়। আমাদের উপলব্ধ ভালো এবং মন্দ নিয়েই প্রকৃতির ছন্দ রচনা হয়। পুরনো স্মৃতি থেকে মুক্তি পেতে সময় লাগে। নিজেকে সময় দিন এবং ধৈর্য্য ধরুন। প্রতিদিন একটু একটু করে উন্নতি হবে।
২) নিজের যত্ন নিন: নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া শারীরিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার জন্য মেডিটেশন, যোগব্যায়াম, ব্রিদিং এক্সারসাইজ বা অন্য কোনও রিলাক্সেশন পদ্ধতি অনুসরণ করুন। আপনার পছন্দের শখ বা হবি নিয়ে সময় কাটান।
৩) নিজেকে পুরস্কৃত করুন: আপনার অর্জনগুলোকে স্বীকৃতি দিন। কোনও লক্ষ্য অর্জন করলে নিজেকে পুরস্কৃত করুন এবং নিজের সাফল্য উদযাপন করুন। নিজের ছোট ছোট সাফল্য উদযাপন জীবনের আনন্দ বাড়ায়। এটি আপনাকে আরও উৎসাহিত করবে এবং পরবর্তী লক্ষ্য অর্জনে প্রেরণা দেবে।
৪) নিজের বৈশিষ্ট্যকে আপন মনে করুন: আপনার চরিত্র ও মননের তথাকথিত ভালো ও মন্দ সকল বৈশিষ্ট্যকে সম্মান করুন, ভালোবাসুন, আপন মনে করুন। নিজের সকল বৈশিষ্ট্যকে আপন মনে করা মানে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করা। আমাদের চরিত্র ও মননের মধ্যে ভালো এবং মন্দ উভয় দিকই থাকে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের ব্যক্তিত্বের অংশ এবং আমাদের অনন্য করে তোলে। যখন আমরা নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে গ্রহণ করি, তখন আমরা আরও আত্মবিশ্বাসী এবং সুখী হতে পারি।









