‘স্বামীর হঠাৎ রেগে যাওয়ার অভ্যাস আছে’

জীবনযাপন ডেস্ক
১৭ আগস্ট ২০২৫, ১৬:০৫আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ১৬:০৫

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩৫। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, প্রায়ই সন্দেহ করি। এটা কীভাবে কাটানো যায়?

উত্তর: ১. সন্দেহের মূল কারণ খুঁজে বের করুন:  নিজেকে প্রশ্ন করুন ‘আমার সন্দেহের বাস্তব ভিত্তি আছে কি?’ নাকি এটি অতীতের অভিজ্ঞতা, অনিরাপত্তাবোধ বা ভুল বোঝাবুঝির ফল? উদাহরণ: যদি সঙ্গীর ফোন ব্যবহার নিয়ে সন্দেহ হয়, ভেবে দেখুন তা কি তার কাজের প্রয়োজনে নাকি অন্য কোনও কারণ আছে?

২. গঠনমূলক সংলাপ শুরু করুন: ‘আমি কষ্ট পাই যখন ফোনে কথা বলতে গেলে তুমি ঘর থেকে চলে যাও’ এমন টোনে কথা বলুন। এমন সময় বেছে নিন যখন দুজনেই শান্ত থাকবেন, ক্লান্ত বা ব্যস্ত নন।

৩. সীমা ও প্রত্যাশা স্পষ্ট করুন: একসাথে আলোচনা করে সম্পর্কের সীমারেখা ঠিক করুন (যেমন: বিপরীত লিঙ্গের বন্ধুর সাথে যোগাযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার)। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জায়গাকে সম্মান করতে শিখুন, তবে গোপনীয়তা যেন বিশ্বাসহানির কারণ না হয়।

৪. ছোট ছোট পদক্ষেপে বিশ্বাস পুনর্নির্মাণ: - প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট শুধু একসাথে কাটান (কফি খাওয়া, গান শোনা, হাঁটা)। অতীতের সুন্দর স্মৃতির কথা মনে করুন (যেমন: বিয়ের দিন, প্রথম ঘুরতে যাওয়া)।

৫. আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করুন: সন্দেহ প্রায়ই নিজের অনিরাপত্তা থেকে জন্মায়। নিজের জন্য সময় দিন। নতুন শখ (আঁকা, গান, গার্ডেনিং), বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো, ক্যারিয়ার বা স্কিল ডেভেলপমেন্ট।

৬. পেশাদার সাহায্য নিন: যদি একা সমাধান না হয়, ম্যারেজ কাউন্সেলর বা সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিন। বাংলাদেশে সহায়তা পেতে: জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (০৯৬১১৬৭৭৭৭৭) বা মানসিক স্বাস্থ্য হেল্পলাইন (১৬৬৬৭)।

৭. সামাজিক প্রভাব এড়িয়ে চলুন: পরিবার বা বন্ধুদের মন্তব্য যেন আপনাদের সম্পর্কের উপর প্রভাব না ফেলে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৮. ধৈর্য ধরুন: বিশ্বাস গড়তে সময় লাগে। রাতারাতি পরিবর্তন আশা করবেন না, কিন্তু অগ্রগতি উদযাপন করুন। যদি বিশ্বাসঘাতকতা ঘটেই থাকে তাহলে সিদ্ধান্ত নিন- ক্ষমা করে এগোতে চাইছেন কি? নাকি সম্পর্ক শেষ করাই শ্রেয়? সেক্ষেত্রে পেশাদার পরামর্শ আরও জরুরি।

প্রশ্ন: আমার বয়স ৩২ বছর। স্বামীর হঠাৎ রেগে যাওয়ার অভ্যাস আছে৷ সন্তানদের সামনেই আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ে এটা বলার পরেও বুঝতে চায় না। কীভাবে এই পরিস্থিতি সামলাবো?

উত্তর: ১. তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা: সুরক্ষিত স্থান তৈরি করুন। যখন স্বামী রেগে যান, সন্তানদের নিয়ে অন্য কক্ষে চলে যান বা বাড়ির নিরাপদ জায়গায় অবস্থান নিন। বিশ্বস্ত আত্মীয়/প্রতিবেশীর ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখুন। প্রয়োজনে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ (নারী ও শিশু সহায়তা) বা ৯৯৯ (জরুরি পুলিশ) কল করুন।

২. সন্তানদের সুরক্ষা ও মানসিক সহায়তা: সত্যতা মোকাবেলা: তাদের বলুন, ‘বাবা রেগে গেছেন, এটা তোমাদের কোনও ভুল নয়। আমরা সবাই কখনও কখনও রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।’ আবেগ প্রকাশে উৎসাহ দিন তাদের। আঁকা, ডায়েরি লিখতে বা আপনার সাথে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। পেশাদার সাহায্য লাগলে স্কুল কাউন্সেলর বা শিশু মনোবিদের সাথে যোগাযোগ করুন।

৩. স্বামীর সাথে আলোচনার কৌশল: শান্ত সময় বেছে নিন। যখন তিনি রাগমুক্ত, বলুন ‘আমরা সন্তানদের সামনে ঝগড়া করলে তারা খুব ভয় পায়। তাদের জন্য আমরা কীভাবে ভালো উদাহরণ হতে পারি?’ ‘আমি’ বাক্য ব্যবহার করুন। ‘তুমি আমাদের মানসিক ক্ষতি করছ!’ এভাবে বলবেন না। ‘আমি উদ্বিগ্ন যখন সন্তানরা আমাদের ঝগড়া দেখে, কারণ তারা স্কুলে মনোযোগ দিতে পারছে না।’ এভাবে বলুন। রাগের ট্রিগার চিহ্নিত করুন। জিজ্ঞাসা করুন, ‘আমি কী করলে তোমার রাগ কম হবে?’ তার নিজের স্ট্রেসের কারণ বুঝতে চেষ্টা করুন (কাজের চাপ, আর্থিক টেনশন ইত্যাদি)।

৪. পেশাদার হস্তক্ষেপ জরুরি: কাউন্সেলিং প্রস্তাব করুন। বলুন, ‘চলো একসাথে কাউন্সেলরের কাছে যাই, আমরা যাতে ভালোভাবে কথা বলতে শিখি।‘ অনেক পুরুষ একা যেতে রাজি না হলেও জোড়া থেরাপি মানতে পারেন। - যদি তিনি মানতে অস্বীকার করেন, আপনি একাই মনোবিদের পরামর্শ নিন। বিশেষজ্ঞ আপনাকে মোকাবেলার কৌশল শেখাবেন এবং আইনি পরামর্শ দিতে পারবেন।

৫. নিজের শক্তি বজায় রাখুন: সহায়তা নেটওয়ার্ক: পরিবার বা বন্ধুদের জানান। লজ্জা পাবেন না। খারাপ আচরণের দিন, সময় ও বিবরণ লিখে রাখুন (ভবিষ্যতে আইনি সহায়তায় প্রয়োজন হতে পারে)। আইনি অধিকার জানুন। বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এবং ডমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট ২০১০ আপনার পক্ষে। বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা (এনএলএসএ)-এ যোগাযোগ করুন (হটলাইন: ১৬৪৩০)।

৬. সতর্কীকরণ লক্ষণ চিনুন: যদি তার রাগ শারীরিক নির্যাতন, অপমানজনক গালাগালি বা সন্তানদের ভয় দেখানো পর্যায়ে পৌঁছায়, অবিলম্বে সাহায্য নিন। আশ্রয় কেন্দ্র: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (হেল্পলাইন ১০৯)। সংগঠন: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বা ব্র্যাক মানবাধিকার ক্লিনিক।

/এনএ/
সম্পর্কিত
তাপপ্রবাহে সুস্থ থাকতে করণীয়
পরিচ্ছন্ন হাত: স্বাস্থ্য, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি
মাদক ও অনলাইন গেমের কম্বিনেশনে কল্পনার ভয়াবহ জগত, চেনেন কি?
সর্বশেষ খবর
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম