নিয়মগুলো মানলে সেহরি হবে উপকারী ও বরকতময়

জীবনযাপন ডেস্ক
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৬আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১৬

পবিত্র রমজান মাসে সেহরি শুধু একটি খাবারের সময় নয়, বরং এটি ইবাদতের অংশ। ফজরের আজানের আগে সেহরি গ্রহণ করা সুন্নত এবং এতে রয়েছে বিশেষ বরকত। সারাদিন রোজা রাখার শক্তি ও মানসিক প্রস্তুতি অনেকটাই নির্ভর করে সেহরির ওপর। তাই তাড়াহুড়া না করে সময়মতো ঘুম থেকে ওঠা, নিয়ত করা এবং পরিমিত খাবার গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই ঘুমের কারণে সেহরি বাদ দেন, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই রোজার পুরো মাসজুড়ে একটি নিয়মিত রুটিন তৈরি করা ভালো।

সেহরির আদর্শ মেন্যু কেমন হওয়া উচিত

সেহরির খাবার হওয়া উচিত পুষ্টিকর, সহজপাচ্য ও শক্তিদায়ক। ভাত বা আটার রুটি, সঙ্গে ডাল, সবজি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। যেমন ডিম, মাছ বা মুরগি রাখা যেতে পারে। যারা হালকা খাবার পছন্দ করেন, তারা দুধ, ওটস, ফলমূল ও বাদাম রাখতে পারেন। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা অতিরিক্ত মসলা এড়িয়ে চলাই উত্তম, কারণ এসব খাবার সারাদিন পিপাসা বাড়াতে পারে এবং অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।

সেহরিতে আঁশযুক্ত খাবার যেমন সবজি ও ফল খেলে দীর্ঘসময় পেট ভরা থাকে। কলা, আপেল বা খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। দই বা দুধজাতীয় খাবার শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। অতিরিক্ত চা বা কফি পান না করাই ভালো, কারণ এতে শরীর থেকে পানি বেরিয়ে যেতে পারে।

পানি পানের নিয়ম

রোজার সময় শরীর পানিশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একবারে অনেক পানি না খেয়ে ধীরে ধীরে কয়েক গ্লাস পানি পান করা ভালো। লেবুপানি বা হালকা শরবত রাখা যেতে পারে, তবে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। পানি শরীরকে সতেজ রাখে এবং সারাদিন ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যবিধি ও সতর্কতা

সেহরির সময় অতিরিক্ত ভারী খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিক বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই পরিমিত খাবার গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ। যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।

খাবার যেন তাজা ও স্বাস্থ্যসম্মত হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে শরীর সুস্থ থাকে এবং ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া যায়।

আত্মিক প্রস্তুতি

সেহরি কেবল শারীরিক শক্তির জন্য নয়, এটি আত্মিক প্রস্তুতিরও সময়। এই সময়ে দোয়া, জিকির ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে দিনটি শুরু করলে মন প্রফুল্ল থাকে। পরিবারকে নিয়ে একসঙ্গে সেহরি খাওয়া পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করে এবং রমজানের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তোলে।

রমজানের প্রথম সেহরি থেকেই যদি সচেতনভাবে নিয়ম মেনে চলা যায়, তবে পুরো মাসজুড়ে সুস্থ থেকে ইবাদত করা সহজ হবে। পরিমিত খাবার, পর্যাপ্ত পানি ও নিয়মিত রুটিন- এই তিন বিষয় মেনে চললেই সেহরি হবে উপকারী ও বরকতময়।

/এমএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
রেললাইনে আটকে গেলো মাইক্রোবাস, ট্রেনের ধাক্কায় পুকুরে
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে:  প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দেশীয় খামারিদের পশুতেই শতভাগ কোরবানি হয়েছে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের