শিশুদের টিকা এড়িয়ে যাচ্ছেন অভিভাবকরা? কারণ বলছে নতুন গবেষণা

ফিচার ডেস্ক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪০

শিশুদের টিকাদানের হার কমে যাওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও ভ্যাকসিনবিরোধী প্রচারণাকে প্রায়ই দায়ী করা হয়। তবে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর পেছনে কাজ করছে আরও বাস্তব ও দৈনন্দিন কিছু সমস্যা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবায় সহজে পৌঁছাতে না পারা, নতুন বাবা-মায়ের মানসিক ও পারিবারিক চাপ, সময়ের অভাব এবং দারিদ্র্যের মতো কারণগুলো শিশুদের সময়মতো টিকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে যুক্তরাজ্যে শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। বর্তমানে দেশটিতে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে চার-ইন-ওয়ান টিকা গ্রহণের হার ৮১ শতাংশ, যা ২০১৪ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। একইভাবে হাম, মাম্পস ও রুবেলা (এমএমআর) টিকার দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের হারও আগের তুলনায় কমেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ অভিভাবক টিকার বিরোধী নন। বরং সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার ঝামেলা, দীর্ঘ যাতায়াত, অ্যাপয়েন্টমেন্টের জটিলতা এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের অভাবের কারণে অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

প্রতিবেদনে এক তরুণী মায়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতা ও নবজাতককে সামলানোর চাপে তিনি নির্ধারিত সময়ে সন্তানের টিকা দিতে পারেননি। পরে বাড়ির কাছের একটি শপিং সেন্টারে চালু হওয়া ওয়াক-ইন টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে সহজেই সন্তানের টিকা সম্পন্ন করেন।

ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের কেইথলি শহরে একটি খালি দোকানঘরকে টিকাদান কেন্দ্রে রূপান্তর করার পর সেখানে টিকাদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের স্থানে সহজলভ্য টিকাদান সেবা চালু করায় অভিভাবকদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।

এদিকে, শিশুদের টিকা বাধ্যতামূলক করা উচিত কি না, তা নিয়েও যুক্তরাজ্যে বিতর্ক চলছে। কিছু রাজনীতিক টিকাদানকে 'অপ্ট-আউট' পদ্ধতিতে আনার পক্ষে মত দিলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, জোরপূর্বক ব্যবস্থা মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমিয়ে দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের টিকাদানের হার বাড়াতে শুধু ভুয়া তথ্যের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালালেই হবে না। পাশাপাশি টিকাদান কেন্দ্র মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাওয়া, স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো এবং টিকাদান প্রক্রিয়াকে সহজ ও সুবিধাজনক করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, যুক্তরাজ্যের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। কারণ, টিকাদান কর্মসূচির সফলতা শুধু সচেতনতার ওপর নয়, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কতটা নাগালে রয়েছে, তার ওপরও অনেকাংশে নির্ভর করে।

/ইউএস/আইএএম/
সম্পর্কিত
কফি খাওয়ার পর শরীরে কী হয়, গবেষণায় মিললো নতুন তথ্য
ভাইবোন কেন ঝগড়া করে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ফ্রেন্ডলিস্টে হাজার বন্ধু, বিপদে কতজন?
সর্বশেষ খবর
মাঠে গাননি জাতীয় সংগীত, শাস্তির ভয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেন ইরানের ২ ফুটবলার
মাঠে গাননি জাতীয় সংগীত, শাস্তির ভয়ে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হলেন ইরানের ২ ফুটবলার
মঞ্চে না ডাকায় একসঙ্গে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতারা
মঞ্চে না ডাকায় একসঙ্গে অনুষ্ঠান ত্যাগ করেছেন বিএনপি-জামায়াতের নেতারা
দেখে নিন ৫টি কড়া ফাউল
মেসিকে মারাত্মক ট্যাকল করে রামোস লাল কার্ড পেয়েছিলেন...   
কেন গালাগালি শিখতে হয়েছিল দীপিকাকে
কেন গালাগালি শিখতে হয়েছিল দীপিকাকে
সর্বাধিক পঠিত
এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন তানভীর গ্রেফতার, নেওয়া হচ্ছে বগুড়ায়
এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন তানভীর গ্রেফতার, নেওয়া হচ্ছে বগুড়ায়
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল 
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল 
সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করায় যা বললেন সারজিস আলম
সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেফতার করায় যা বললেন সারজিস আলম
সমিতির ৩৯১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জামায়াতের সাবেক আমির গ্রেফতার
সমিতির ৩৯১ কোটি টাকা আত্মসাৎ, জামায়াতের সাবেক আমির গ্রেফতার
দক্ষিণ এশিয়ায় চমক দেখালো টাকা
দক্ষিণ এশিয়ায় চমক দেখালো টাকা