গোলরক্ষকের অদ্ভুত ভুল, বাংলাদেশ ফুটবল লিগে ফিক্সিংয়ের গুঞ্জন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৫আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪২

অভিষেকেই বড় হার, তার ওপর গোলরক্ষকের অদ্ভুত এক ভুল। বাংলাদেশ ফুটবল লিগে প্রথমবার খেলতে নেমেই চট্টগ্রাম সিটি এফসি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ফর্টিস এফসির বিপক্ষে ম্যাচে গোলরক্ষক শান্ত কুমার রায়ের একটি অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কেউ কেউ ম্যাচ পাতানো কিংবা স্পট ফিক্সিংয়ের সন্দেহের কথা তুলছেন। যদিও এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনও প্রমাণ সামনে আসেনি।

ঘটনাটি গত শুক্রবার ফর্টিস এফসি ও নতুন দল চট্টগ্রাম সিটি এফসির ম্যাচের। ভিডিওতে দেখা যায়, ফর্টিসের জাপানি ফরোয়ার্ড নোরিকি আকাদা গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন। শটটি ছিল বেশ ভালো। তবে গোলের চেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটির গোলরক্ষক শান্ত কুমার রায়ের প্রতিক্রিয়া।

শটটি ঠেকানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার মুহূর্তে শেষ দিকে নিজের দুই হাত গুটিয়ে নেন শান্ত। বল আটকানোর চেষ্টা না করে তার এমন আচরণই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। গোলরক্ষকের এই প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেননি।

ফুটবলে গোলরক্ষকের ভুল থেকে অদ্ভুত গোল হওয়া নতুন কিছু নয়। তবে বাংলাদেশের ফুটবলে গত কয়েক বছরে ম্যাচ পাতানো, বেটিং ও স্পট ফিক্সিং নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠায় এমন দৃশ্য সহজেই বাড়তি সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই সন্দেহই ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত।

তবে ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও রয়েছে। আকাদার শট নেওয়ার আগেই বক্সে ফাউলের জন্য রেফারি বাঁশি বাজিয়েছিলেন। ফলে বল জালে জড়ালেও গোলটি বৈধ হয়নি। অর্থাৎ গোলটি ম্যাচের স্কোরে যোগ হয়নি। তবু গোলরক্ষকের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনা থামেনি।

অভিষেক ম্যাচটি অবশ্য চট্টগ্রাম সিটির জন্য এমনিতেই সুখকর হয়নি। ফর্টিস এফসির কাছে তারা হেরেছে ৬-০ গোলে। লিগে প্রথম ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারের তেতো অভিজ্ঞতা হয়েছে দলটির। সেই ম্যাচের গোলরক্ষকের ঘটনাটি নিয়ে প্রতিপক্ষও বিব্রত হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গোলরক্ষক শান্ত কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে চট্টগ্রাম সিটি এফসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন অভিযোগটি সরাসরি নাকচ করেছেন। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখে তিনিও অবাক হয়েছেন। কোনও ধরনের পাতানো ম্যাচ বা বেটিংয়ের সঙ্গে ক্লাবের সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউনকে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পাতানো ম্যাচ বা বেটিং কেন করবো? এর জন্য তো এখানে খেলতে আসিনি। ম্যাচের পর ভিডিওটা ফেসবুকে দেখে আমিও অবাক হয়েছি। অনেকে না জেনে আমাদের ক্লাবের নাম খারাপ করছে। প্রথমত, রেফারি ফাউলের জন্য আগেই বাঁশি বাজিয়েছিলেন। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।’

দলের প্রস্তুতির ঘাটতিকেও বড় হারের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম সিটির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য আমরা সময় পেয়েছিলাম মাত্র একদিন। ক্লান্তি চেপে বসায় দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলোয়াড়েরা আর টেনে তুলতে পারেনি। তাছাড়া পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় বেঞ্চের শক্তিতেও ঘাটতি ছিল। বিকল্প খেলোয়াড় নামিয়ে কৌশল বদলানোর সুযোগও আমাদের হাতে ছিল না।’

গোলরক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি জানতে চাইলে নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কোনও প্রমাণ ছাড়া একজন জুনিয়র খেলোয়াড়কে নিশানা করা আর তার মনোবল ভেঙে দেওয়া মোটেও ঠিক নয়। আমরা কোনও ধরনের ফিক্সিং বা জুয়ার সঙ্গে জড়িত নই। এই ছেলেটা নিজেই ম্যাচটা খেলতে চায়নি। কিন্তু আমাদের হাতে বিকল্প কোনও উপায় ছিল না।’

তবে চট্টগ্রাম সিটি এফসিকে ঘিরে এটিই প্রথম বিতর্ক নয়। এর আগে চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে তাদের একটি ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে রেফারি মাঠ ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ম্যাচে সন্দেহজনক কিছু ঘটছে- এমন পরিস্থিতিতে ওই রেফারি আর ম্যাচ পরিচালনা করেননি বলে জানা যায়। পরে বদলি রেফারি ম্যাচটি শেষ করেন। এ ছাড়া দলটির আরও কয়েকটি ম্যাচ ঘিরেও বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

সেসব ঘটনা নিয়ে তখন আলোচনা হলেও সেগুলোর কোনোটি থেকে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে- এমন তথ্য সামনে আসেনি। এবার লিগে অভিষেকের ম্যাচেই গোলরক্ষকের বিতর্কিত দৃশ্য সামনে আসায় চট্টগ্রাম সিটি এফসিকে ঘিরে আবারও নজর পড়েছে ফুটবল অঙ্গনের।

চট্টগ্রামের সাবেক জাতীয় দলের মিডফিল্ডার শাহেদুল আলমও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। চট্টগ্রামের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ফুটবলে নেতিবাচক কোনও কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে গত কয়েক মৌসুমে এএফসির তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ‘ফিক্সড ম্যাচ আইডেন্টিফিকেশন কমিটি’ গঠন করে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেই তদন্তের ফলাফল কী হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ফলে চট্টগ্রাম সিটি এফসির ম্যাচে গোলরক্ষকের সেই অদ্ভুত ভুলকে ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার উত্তর আপাতত মিলছে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্দেহ থাকলেও কোনও অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তবেই স্পষ্ট হবে, ওই অস্বাভাবিক মুহূর্তটি নিছক ভুল ছিল, নাকি এর পেছনে অন্য কোনও কারণ ছিল।

/টিএ/এফআইআর/এমওএফ/
সম্পর্কিত
২০১৮-এর স্মৃতি মনে করিয়ে জামালের আশা, ‘এবারও এমন কিছু হতে পারে’
শেষ মুহূর্তে তপুকে ছাড়াও আসিয়ান কাপে যাচ্ছে বাংলাদেশ
‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কেউ কেউ ফুটবলের বাস্তবতা বোঝেন না’
সর্বশেষ খবর
জাপানে প্রমোদতরিতে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা
জাপানে প্রমোদতরিতে থেকে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের অন্যরকম অভিজ্ঞতা
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
একনজরে আজকের আলোচিত খবর
দৃষ্টিহীনদের নিয়েই স্পা খুলেছিলেন শ্রিয়া সরন, নেপথ্যের কারণ জানালেন অভিনেত্রী
দৃষ্টিহীনদের নিয়েই স্পা খুলেছিলেন শ্রিয়া সরন, নেপথ্যের কারণ জানালেন অভিনেত্রী
বিমানে হাঁপানির সমস্যা বাড়লে কী করবেন?
বিমানে হাঁপানির সমস্যা বাড়লে কী করবেন?
সর্বাধিক পঠিত
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা
সাড়ে ৫ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী হলো টাকা
আটকের আগে অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছিল আনাস
আটকের আগে অপ্রতিমকে নিয়ে ফেসবুকে যা লিখেছিল আনাস
অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ
অপ্রতিমকে কোথায় কীভাবে ও কেন হত্যা করলো, জানিয়েছে পুলিশ
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার
অপ্রতিমের মায়ের আইফোন তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর থানার ওসিকে প্রত্যাহার
আ.লীগ নেতার বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার পর থানার ওসিকে প্রত্যাহার