গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকেও দেখা দিতে শুরু করে নানা সমস্যা। অতিরিক্ত ঘাম, ধুলোময়লা, রোদ ও পানিশূন্যতার কারণে ত্বক হয়ে উঠতে পারে নিস্তেজ ও রুক্ষ। অনেকের ক্ষেত্রে ব্রণ, অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব কিংবা ঘামের কারণে অস্বস্তিও বাড়ে। তবে দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য পরিবর্তন আনলেই গরমে ত্বককে রাখা সম্ভব সতেজ ও প্রাণবন্ত।
দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে পানির বিকল্প নেই। গরমে ঘামের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় শরীরে পানির ঘাটতিও হতে পারে। তাই তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করে সারা দিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস করুন।
মুখ পরিষ্কার রাখুন
বাইরে থেকে ফেরার পর মুখে জমে থাকা ঘাম ও ধুলোময়লা পরিষ্কার করা জরুরি। ত্বকের ধরন অনুযায়ী মৃদু ক্লেনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত বার মুখ ধুলে ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।
সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন
রোদের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে ত্বকের উপযোগী সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে।
নিমপাতা ব্যবহারে সতর্কতা
ত্বক সতেজ রাখতে অনেকেই ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার করেন। নিমপাতা পানিতে ভিজিয়ে গোসল করার প্রচলন রয়েছে। তবে সবার ত্বকে একই উপাদান একইভাবে মানিয়ে নাও নিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বক হলে নতুন কিছু ব্যবহারের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
হালকা পোশাক পরুন
গরমে শরীরকে স্বস্তি দিতে সুতির ও ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নেওয়া ভালো। এতে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং ঘামের অস্বস্তিও কমতে পারে। ঘামে ভেজা পোশাক দীর্ঘক্ষণ পরে না থাকাই ভালো।
খাবারের দিকেও নজর দিন
গরমের সময়ে খাদ্যতালিকায় পানিসমৃদ্ধ ফল, শাকসবজি ও হালকা খাবার রাখতে পারেন। টক দই বা ছাসও অনেকের কাছে গরমের সময়ে আরামদায়ক খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। তবে কোনও খাবার খেলে অস্বস্তি হলে তা এড়িয়ে চলুন।
ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে পরিচ্ছন্নতা জরুরি
শুধু সুগন্ধি ব্যবহার করলেই ঘামের দুর্গন্ধের সমস্যা সমাধান হয় না। নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং বগলসহ শরীরের ভাঁজযুক্ত অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজন হলে ত্বকের উপযোগী ডিওডোরেন্ট বা অ্যান্টিপার্সপির্যান্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
গরমে ত্বকের যত্নের মূল কথা হলো পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত পানি, রোদ থেকে সুরক্ষা এবং ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য ব্যবহার। কোনও ঘরোয়া উপাদান ব্যবহারের পর ত্বকে জ্বালা, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।









