সারাদিনের কাজের ব্যস্ততা শেষে বাড়ি ফিরেও যদি মনটা শান্ত না হয়, তাহলে ঘরের একটি ছোট কোণকেই বানিয়ে নিতে পারেন নিজের জন্য নিরিবিলি আশ্রয়। আলাদা ঘর বা বড় বাজেটের প্রয়োজন নেই। সঠিক আসবাব, নরম আলো আর কিছুটা সবুজের ছোঁয়াতেই তৈরি করা যায় এমন একটি জায়গা, যেখানে কয়েক মিনিট বসেই দিনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলা সম্ভব।
প্রথমেই বেছে নিন সঠিক জায়গা
ঘরের এমন একটি কোণ বেছে নিন, যেখানে মানুষের যাতায়াত তুলনামূলক কম। জানালার পাশে জায়গা পেলে আরও ভালো। দিনের আলো ও বাইরের বাতাস ঘরের পরিবেশকে স্বাভাবিকভাবেই আরামদায়ক করে তুলতে পারে।
আরামদায়ক আসন রাখুন
এই জায়গার মূল আকর্ষণ হওয়া উচিত আরাম। একটি আরামকেদারা, ছোট সোফা কিংবা নরম গদি রাখতে পারেন। সঙ্গে কয়েকটি কুশন ও হালকা কম্বল রাখলে জায়গাটি আরও আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
সবুজে সাজান কোণটি
ঘরের পরিবেশকে সতেজ করে তুলতে কয়েকটি ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে পারেন। রাবার প্ল্যান্ট, জেড প্ল্যান্ট, লাকি ব্যাম্বু বা পিস লিলির মতো গাছ এ ধরনের কোণের জন্য মানানসই।
তবে একসঙ্গে অনেক গাছ না রেখে জায়গার আকার অনুযায়ী কয়েকটি গাছ বেছে নিন। এতে কোণটি সুন্দর দেখানোর পাশাপাশি অগোছালোও লাগবে না।
যোগ করুন প্রকৃতির ছোঁয়া
শান্ত পরিবেশ তৈরি করতে ছোট একটি ইনডোর ফোয়ারা রাখতে পারেন। পানির মৃদু শব্দ ঘরের পরিবেশে আলাদা আবহ তৈরি করবে। চাইলে কয়েকটি নুড়ি পাথর, কাঠের তৈরি সাজসজ্জার উপকরণ কিংবা ছোট অ্যাকোয়ারিয়ামও ব্যবহার করতে পারেন।
আলো হোক নরম
এই ধরনের বিশ্রামের জায়গায় খুব উজ্জ্বল আলো না দিয়ে নরম ও উষ্ণ আলোর ব্যবস্থা করা ভালো। একটি ছোট টেবিল ল্যাম্প, ফ্লোর ল্যাম্প বা হালকা আলো ছড়ানো ল্যাম্পশেড ব্যবহার করতে পারেন।
সন্ধ্যার পর এই আলো ঘরের কোণটিকে আরও শান্ত ও আরামদায়ক করে তুলবে।
নিজের পছন্দের জিনিস রাখুন
জায়গাটিকে সত্যিই নিজের করে তুলতে সেখানে রাখুন আপনার পছন্দের কিছু জিনিস। বই পড়ার অভ্যাস থাকলে ছোট একটি বুকশেলফ বা কয়েকটি প্রিয় বই রাখতে পারেন। গান শুনতে ভালোবাসলে ছোট স্পিকার রাখা যায়।
আঁকতে ভালোবাসলে স্কেচবুক ও রং, আবার লেখালেখির অভ্যাস থাকলে একটি নোটবুকও রাখতে পারেন। পরিবারের ছোট সদস্যের আঁকা ছবি কিংবা প্রিয় কোনো স্মৃতির ছবিও দেয়ালে জায়গা পেতে পারে।
ছোট জায়গা, বড় স্বস্তি
শান্তির জন্য সবসময় বড় ঘরের প্রয়োজন হয় না। বাড়ির একটি ছোট, অব্যবহৃত কোণও একটু পরিকল্পনা করে সাজালে হয়ে উঠতে পারে দিনের শেষে আপনার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা। আরামদায়ক বসার ব্যবস্থা, কিছু সবুজ, নরম আলো এবং নিজের পছন্দের কয়েকটি জিনিস—এই সামান্য আয়োজনই বদলে দিতে পারে ঘরের সেই কোণের পরিবেশ।









