নব্বইয়ের দশক মানেই ক্যাসেট, রঙিন টেলিভিশন, স্টুডিয়োতে ছবি তোলার আলাদা আয়োজন আর ফিল্ম ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছুটা দানাদার ছবি। সেই সময়ের ফ্যাশন, চুলের স্টাইল কিংবা ছবির রঙ সবকিছুর মধ্যেই ছিল আলাদা এক নস্টালজিয়া। এখন সেই সময়ের আবহে নিজের ছবি দেখতে চাইলে ফিরে যেতে হবে না অতীতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে কয়েক মুহূর্তেই নিজের আপলোড করা ছবিকে নব্বইয়ের দশকের স্মৃতির মতো করে তোলা সম্ভব।
বিশেষ করে চ্যাটজিপিটিতে নিজের ছবি আপলোড করে ছবির ধরন, পোশাক, আলো, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ক্যামেরার আবহ সম্পর্কে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সুযোগ বাড়ে। শুধু ‘নব্বইয়ের দশকের ছবি বানিয়ে দিন’ বলার বদলে ছবিতে কী কী পরিবর্তন চান, তা স্পষ্ট করে লিখলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আরও নির্দিষ্টভাবে কাজ করতে পারে।
স্টুডিয়োর পুরোনো দিনের পোর্ট্রেট
নব্বইয়ের দশকে স্টুডিয়োতে তোলা পোর্ট্রেটের কথা মনে আছে? সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড, স্টুডিয়োর আলো আর ফিল্ম ক্যামেরার স্বাভাবিক দানাদার আবহ থাকতো তখনকার ছবিগুলোতে। নিজের ছবিকেও সেই সময়ের পোর্ট্রেটের মতো করে তুলতে চ্যাটজিপিটিকে এমন নির্দেশ দিতে পারেন, “আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত স্টুডিয়ো পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন, পরিচিতি, ত্বকের স্বাভাবিক রং এবং অভিব্যক্তি যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাকে নব্বইয়ের দশকের উপযোগী ক্লাসিক চুলের স্টাইল ও পোশাক দিন। পেছনে সাধারণ স্টুডিয়ো ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সেই সময়ের স্টুডিয়ো লাইটিং ব্যবহার করুন। ছবিতে বাস্তব ফিল্ম ক্যামেরার মতো হালকা অ্যানালগ গ্রেন, কিছুটা ফিকে রং এবং সামান্য প্রাকৃতিক অসম্পূর্ণতা রাখুন। ছবিটি যেন আধুনিক ডিজিটাল ছবির মতো অতিরিক্ত পরিষ্কার বা ঝকঝকে না হয়।”
এ ধরনের নির্দেশে ছবিতে শুধু পুরোনো ফিল্টার বসানোর বদলে পুরো দৃশ্যটিকেই নব্বইয়ের দশকের আবহে সাজানোর চেষ্টা করা যায়।
ছুটির দিনের ছবিতে নব্বইয়ের আমেজ
নব্বইয়ের দশকের পারিবারিক ছুটির ছবির আলাদা আকর্ষণ ছিল। ছবিতে নিখুঁত পোজের চেয়ে স্বাভাবিক মুহূর্তই বেশি ধরা পড়ত। রোদেলা কোনো ভ্রমণস্থল, সাধারণ পোশাক, হাসিমুখ আর ফিল্ম ক্যামেরার হালকা রঙ এই আবহ নিজের ছবিতেও তৈরি করা যায়।
এ ক্ষেত্রে নির্দেশ দিতে পারেন, “আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের একটি স্বতঃস্ফূর্ত ছুটির দিনের ছবিতে রূপান্তর করুন। আমার মুখ ও পরিচিতি যেন স্বাভাবিক ও সহজে চেনা যায়। আমাকে নব্বইয়ের দশকের উপযোগী ভ্রমণের পোশাক পরিয়ে দিন এবং রোদেলা কোনো ছুটির পরিবেশে রাখুন। ছবিতে সাধারণ কনজিউমার ফিল্ম ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তুলুন। হালকা ওয়াশড-আউট হাইলাইট, উষ্ণ রঙ, অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন এবং সামান্য অসম্পূর্ণ ফ্রেমিং রাখুন। শরীরের ভঙ্গি যেন স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত হয়। পুরো ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের একটি সত্যিকারের পারিবারিক ছুটির ছবির মতো দেখায়।”
এতে আধুনিক ফটোগ্রাফির নিখুঁত কম্পোজিশনের বদলে পুরোনো দিনের অ্যালবামে পাওয়া কোনো স্মৃতির মতো আবহ তৈরি হতে পারে।
বলিউডের নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যামার
নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় সিনেমার ফ্যাশন ও পোর্ট্রেটের কথাও আলাদা করে মনে রাখার মতো। সেই সময়ের পোশাক, চুলের স্টাইল, গয়না বা অন্যান্য অনুষঙ্গ এবং নাটকীয় স্টুডিয়ো আলো মিলিয়ে তৈরি করা যেত ঝলমলে প্রচারমূলক ছবি। নিজের ছবিতে সেই আবহ আনতেও চ্যাটজিপিটিকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া যায়।
বাংলায় এমন নির্দেশ লিখতে পারেন, “আমার আপলোড করা ছবিটিকে ১৯৯০-এর দশকের ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত একটি জমকালো পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। আমার মুখের গড়ন, পরিচিতি এবং স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। আমাকে নব্বইয়ের দশকের ভারতীয় ফ্যাশন, চুলের স্টাইল ও উপযোগী অনুষঙ্গে সাজিয়ে দিন। ছবিতে নাটকীয় স্টুডিয়ো লাইটিং, সমৃদ্ধ কিন্তু সামান্য ফিকে রঙ, সফট ফোকাস এবং বাস্তবসম্মত অ্যানালগ ফিল্ম গ্রেন ব্যবহার করুন। ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্রের ম্যাগাজিন শুট বা প্রচারমূলক ফটোগ্রাফির মতো মনে হয়। শুধু আধুনিক ছবির ওপর ভিন্টেজ ফিল্টার বসানো হয়েছে এমন যেন না লাগে।”
শুধু ফিল্টার নয়, বদলাতে হবে পুরো আবহ
এ ধরনের ছবি তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্দেশ যত নির্দিষ্ট হবে, কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। শুধু ‘নব্বইয়ের দশকের ছবি’ বললে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো কেবল রঙ বা গ্রেন পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু পোশাক, চুলের স্টাইল, ব্যাকগ্রাউন্ড, আলোর ধরন, ক্যামেরার বৈশিষ্ট্য এবং ছবির পরিবেশ সম্পর্কে আলাদা করে নির্দেশ দিলে ফল অনেক বেশি নির্দিষ্ট হতে পারে।
তবে নিজের মুখের পরিচিতি ও স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রাখার কথাটিও নির্দেশে উল্লেখ করা ভালো। এতে ছবিটিকে নিজের মতো রাখার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত সময়ের ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির আবহ যোগ করা সহজ হয়।
সবশেষে, নব্বইয়ের দশকের ছবি তৈরি করার আসল মজাটা হলো নিজের বর্তমান চেহারার সঙ্গে সেই সময়ের ফ্যাশন ও ফটোগ্রাফির নস্টালজিয়াকে মিলিয়ে দেখা। স্টুডিয়ো পোর্ট্রেট হোক, পারিবারিক ছুটির ছবি কিংবা বলিউড-অনুপ্রাণিত গ্ল্যামার শুট সঠিক নির্দেশনা দিলে কয়েক মুহূর্তেই নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারেন সেই হারিয়ে যাওয়া সময়ের একটি কাল্পনিক স্মৃতি।









