প্রতিদিনের টিফিনে ভাত, রুটি-তরকারি কিংবা একই ধরনের খাবার দেখতে দেখতে অনেকেরই খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। অথচ সামান্য পরিকল্পনা করলেই অল্প সময়ে এমন কিছু খাবার তৈরি করা যায়, যা স্বাদে জমজমাট হওয়ার পাশাপাশি পেটও ভরাবে। এমনই তিনটি মুখরোচক পদের রেসিপি দেওয়া হলো আজ-
দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতির পোনগল: মুখরোচক একটি পদ হতে পারে দক্ষিণ ভারতীয় পদ্ধতির পোনগল। পোনগল মূলত চাল ও ডালের মিশেলে তৈরি এক ধরনের নরম খিচুড়ি। প্রথমে মুগ ডাল হালকা ভেজে ধুয়ে নিতে হবে। চালও ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার চাল ও ডালের সঙ্গে হলুদ, শুকনা মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে নিতে হবে। আলাদা কড়াইয়ে ঘি গরম করে তাতে হিং, জিরা, গোলমরিচ, আদাকুচি ও কাজুবাদাম ভেজে নিন। এই ফোড়নটি সেদ্ধ চাল-ডালের সঙ্গে মিশিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুগন্ধি পোনগল। গরম বা ঠান্ডা দুইভাবেই টিফিনে দেওয়া যায়।
পনির র্যাপ: টিফিনে একটু বৈচিত্র্য আনতে চাইলে পনির র্যাপও বেশ ভালো বিকল্প। প্রথমে ঝরানো টক দইয়ের সঙ্গে সামান্য বেসন, আদা-রসুন বাটা, হলুদ, কাশ্মীরি মরিচ গুঁড়া, কসৌরি মেথি ও লবণ মিশিয়ে নিতে হবে। পনিরের টুকরোগুলিকে এই মিশ্রণে মাখিয়ে প্রায় ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর অল্প আঁচে পনিরের টুকরোগুলি ভালো করে সেঁকে নিন। রুটির ওপর সামান্য ঘি লাগিয়ে তার মধ্যে পনির, পেঁয়াজ, শসা এবং ধনেপাতার চাটনি দিয়ে রোল করে নিলেই তৈরি র্যাপ। স্কুলপড়ুয়া থেকে অফিসযাত্রী দুজনের টিফিনেই এটি বেশ মানিয়ে যাবে।
পিনাট রাইস: ভাতপ্রেমীদের জন্য তৈরি করা যায় পিনাট রাইস। এতে আগের দিনের বেঁচে যাওয়া ভাতও নতুন স্বাদে পরিবেশন করা সম্ভব। কড়াইয়ে সামান্য তেল গরম করে সর্ষে ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। তার মধ্যে চিনেবাদাম দিয়ে হালকা ভেজে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ যোগ করুন। এরপর টমেটো, লবণ, ধনিয়া ও জিরা গুঁড়া দিয়ে রান্না করতে হবে। টমেটো নরম হয়ে মশলা থেকে তেল বেরিয়ে এলে সেদ্ধ ভাত দিয়ে সবকিছু ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। কয়েক মিনিট নাড়াচাড়া করলেই তৈরি হয়ে যাবে ঝরঝরে পিনাট রাইস।
তিনটি পদই তুলনামূলকভাবে সহজে তৈরি করা যায় এবং টিফিনে প্রতিদিনের একঘেয়ে খাবারের বদলে আনতে পারে নতুন স্বাদ। ফলে বাড়ির ছোটদের পাশাপাশি বড়দের অফিসের টিফিনও হয়ে উঠতে পারে আরও আকর্ষণীয়।









