“আমাকে আজ চুল ধুতে হবে।” “মাথাটা ভীষণ ধরেছে।” “আমার পোষা মাছটা খুব স্ট্রেসে আছে, তাই আজ বাসা থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়!”
এমন অজুহাতের সঙ্গে কমবেশি সবারই পরিচয় আছে। কোথাও যাওয়ার ইচ্ছে নেই, কারও সঙ্গে দেখা করার মুড নেই কিংবা সোফা ছেড়ে উঠতেই আলসেমি লাগছে। তখন একটি অজুহাতই যথেষ্ট! অবশ্য কখনও এসব কারণ সত্যিও হতে পারে। কিন্তু অনেক সময় সামাজিকতা এড়িয়ে চলার জন্য মানুষ অজান্তেই নানা বাহানা দাঁড় করিয়ে ফেলে।
সেই সব বাহানাকে এক দিনের জন্য বিদায় জানাতেই পালিত হয় ‘নো এক্সকিউজেস ডে’, বাংলায় যাকে বলা যায় ‘অজুহাতহীন দিবস’। দিনটির বার্তা বেশ সোজাসাপটা, আজ কোনও অজুহাত নয়, ঘর থেকে বের হন, বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান, আড্ডা দিন এবং একটু আনন্দ করুন।
অজুহাত ছাড়ার দিন
কানাডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিন (SCENE)-এর উদ্যোগে নো এক্সকিউজেস ডে চালু হয়। মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক মেলামেশা বাড়ানোই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। সারাদিন মোবাইলের পর্দায় আটকে না থেকে কিংবা ঘরে বসে থাকার নতুন কারণ খুঁজে না বের করে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে সরাসরি সময় কাটানোর উৎসাহ দেওয়া হয় এ দিনে।
সিনের পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে মজার তথ্য। প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে সামাজিক আয়োজনে না যাওয়ার জন্য তারা কখনও না কখনও অজুহাত দিয়েছেন। আবার ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মানুষের ভালো থাকা ও সুস্থতার জন্য ইতিবাচক। অথচ একই সঙ্গে অনেকেই স্বীকার করেছেন, সামনাসামনি দেখা করে সময় কাটানোর সুযোগ তারা যথেষ্ট পান না।
বাইরে বের হওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে মিলেনিয়াল প্রজন্মের মানুষের অজুহাত দেওয়ার প্রবণতা বেশি বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। আর সবচেয়ে জনপ্রিয় অজুহাত? খুবই পরিচিত- “আমি খুব ক্লান্ত!”
আজ ‘না’ বলার দিন নয়
তাই আজ যদি কোনও বন্ধু সিনেমা দেখতে ডাকেন, সহকর্মী কাজ শেষে কোথাও বসার প্রস্তাব দেন কিংবা পরিবারের কেউ বাইরে খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাহলে পুরোনো অজুহাতগুলোকে একটু ছুটি দেওয়া যেতেই পারে। আর যদি কেউ আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগই না নেন, তাতেও কিন্তু অজুহাত চলবে না। নিজেই বন্ধুদের ফোন করে বলতে পারেন, “চলো, আজ একটু দেখা করি।”
বন্ধুরা যদি আবার ব্যস্ততার অজুহাত দেন, তখন মুচকি হেসে মনে করিয়ে দিতে পারেন, আজ কিন্তু অজুহাতহীন দিবস!
অজুহাতেরও যখন সীমা নেই
মানুষ সামাজিক আয়োজন এড়াতে কী ধরনের অজুহাত দিতে পারে, তারও যেন কোনও সীমা নেই। যেমন কেউ বলেছেন, গোসলের সময় পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং জ্ঞান হারিয়েছিলেন। আরেকজনের দাবি, স্বপ্নে তার বিড়াল মারা গেছে। তাই এখন বিড়ালটিকে একা রেখে বাইরে যেতে ভয় লাগছে!
অজুহাতের তালিকায় আরও আছে, একটি গরু নাকি বাড়িতে ঢুকে পড়েছে, তাই বিমা কোম্পানির লোক আসা পর্যন্ত বাড়ি পাহারা দিতে হবে। আবার কেউ টয়লেটে এতক্ষণ বসে থাকার কারণে পা অবশ হয়ে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়াতেই পড়ে গিয়ে গোড়ালি ভেঙে ফেলার গল্পও শুনিয়েছেন।
শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এসব অজুহাতের মধ্যেই লুকিয়ে আছে দিবসটির মজার বার্তা। সব সময় “আজ নয়, কাল” বলতে বলতে যেন প্রিয় মানুষদের সঙ্গে দেখা করার সময়টাই হারিয়ে না যায়।
তাই আজ চুল ধোয়া, মাথাব্যথা, ঘুম, আলসেমি কিংবা পোষা মাছের স্ট্রেস সব অজুহাতকে এক দিনের জন্য ছুটি দেওয়া যাক। ফোনের স্ক্রিনের ওপাশে না থেকে প্রিয় মানুষগুলোর সঙ্গে সামনাসামনি একটু হাসি, গল্প আর আড্ডায় সময় কাটানোই হোক অজুহাতহীন দিবসের আসল উদ্যাপন।