ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কাজ, যোগাযোগ থেকে বিনোদনসহ সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার রয়েছে। কিন্তু প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর মুহূর্তেও যদি বারবার ফোনের পর্দায় মন চলে যায়, তাহলে অজান্তেই সম্পর্কে তৈরি হতে পারে দূরত্ব।
একসঙ্গে বসে থেকেও দু’জনের মন যদি থাকে আলাদা জগতে, তাহলে ধীরে ধীরে কমতে পারে কথোপকথন ও পারস্পরিক মনোযোগ। সঙ্গী নিজের কথা বলার সময়ও যদি আপনার চোখ বারবার ফোনের দিকে চলে যায়, তার মনে হতে পারে অন্য কিছু আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অনুভূতি জমতে জমতে অভিমান বা একাকিত্ব তৈরি করতে পারে।
অনেক দম্পতির ক্ষেত্রে অবসর পেলেই ফোন হাতে নেওয়া এমন এক অভ্যাসে পরিণত হয় যে, দু’জনের স্বাভাবিক নীরবতাও আর উপভোগ করা হয় না। সামান্য বিরতি পেলেই শুরু হয় পর্দায় চোখ রাখা। ফলে পাশাপাশি থাকার সময়টুকুও ব্যক্তিগত পর্দার জগতে কেটে যায়।
ফোন নিয়ে বারবার অভিযোগ বা মনোমালিন্যও সম্পর্কের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। একজন যদি মনে করেন, সঙ্গী সব সময় ফোনে ব্যস্ত, আর অন্যজন যদি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে ছোটখাটো বিরোধ ধীরে ধীরে বড় আকার নিতে পারে।
আরেকটি সমস্যা হলো, ফোনের মাধ্যমে পরিচিত-অপরিচিত বহু মানুষের জীবন সম্পর্কে জানা হলেও নিজের সঙ্গীর মনের খবর নেওয়ার সময় কমে যাওয়া। তিনি কী নিয়ে চিন্তিত, কোন ঘটনায় খুশি হয়েছেন কিংবা কী নিয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়েছে- এসব জানার চেয়ে যদি পর্দার খবর বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে মানসিক দূরত্ব বাড়তে পারে।
তাই সম্পর্ক ভালো রাখতে ফোন পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় কিছুটা মনোযোগ ফোন থেকে সরিয়ে সঙ্গীর দিকে দেওয়া জরুরি। কয়েক মিনিটের আন্তরিক কথোপকথন, মন দিয়ে শোনা কিংবা শুধু পাশাপাশি থাকার অনুভূতিই অনেক সময় সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তুলতে পারে।