শরতের কাশবনে যাওয়া হয়নি, দেখা হয়নি নীল আকাশও। তবে নীল শাড়িতে সেজে শরতের আবহকে নিজের মতো করে ছুঁয়ে নিলেন অভিনেত্রী পরীমণি। গত ৬ অক্টোবর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নীল শাড়ি পরা চারটি ছবি প্রকাশ করেন তিনি। ছবিগুলোর সঙ্গে দেওয়া ক্যাপশনে পরীমণি লিখেছেন, “না হলো যাওয়া আর কাশবনে না হলো দেখা শরতের আকাশ। উপায় হলো এই তন্দ্রাবিলাস।”
পরীমণির এই সাজে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে নীল শাড়িটি। শরতের নীল আকাশের কথা মনে করিয়ে দেওয়া এই রঙ তাঁর পুরো সাজেই এনেছে প্রশান্ত ও স্নিগ্ধ আবহ। শাড়ির নকশা ও কাপড়ের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে সাজটি রাখা হয়েছে বেশ পরিমিত, ফলে পোশাকটিই হয়ে উঠেছে সাজের মূল আকর্ষণ। শাড়িটি ছিল দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড কিজুনার।
শাড়ি পরার ধরনেও ছিল বাঙালিয়ানার স্বাভাবিক সৌন্দর্য। আঁচলটি শরীরের সঙ্গে সুন্দরভাবে রাখা, যা পুরো পোশাককে দিয়েছে পরিপাটি ও সাবলীল উপস্থিতি। অতিরিক্ত সাজসজ্জার বদলে শাড়ির রং ও সৌন্দর্যকে সামনে রাখায় পরীমণির লুকটি হয়েছে আরও সহজ ও মার্জিত।
মেকআপেও ছিল নরম ও স্বাভাবিক ভাব। মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে সাজটি এমনভাবে রাখা হয়েছে, যাতে নীল শাড়ির স্নিগ্ধতা নষ্ট না হয়। চোখে চিরাচরিত কাজল ও ঠোঁটে লাল লিপস্টিক আর কপালে ফুটে উঠেছে ছোট নীল টিপ। এই বাঙালি নারীর সাজে পুরো লুক পেয়েছে কোমল আবহ।
চুলের সাজও পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত জাঁকজমক না এনে চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়ায় শাড়ির সঙ্গে তৈরি হয়েছে ভারসাম্যপূর্ণ একটি লুক। সাজটি ছিল উৎসবের চেয়ে বেশি দৈনন্দিন সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত স্টাইলনির্ভর।
পরীমণির এই সাজে আলাদা করে নজর কাড়ার বিষয় হলো, তিনি শরতের রং ও অনুভূতিকে পোশাকের মধ্যেই তুলে ধরেছেন। কাশবনে যাওয়া হয়নি, কিন্তু নীল শাড়ির এই সাজ যেন নিজের মধ্যেই তৈরি করেছে শরতের আকাশের এক টুকরো আবহ। প্রকৃতির কাছে যেতে না পারলেও পোশাকের রং ও সাজের মাধ্যমে ঋতুকে উদ্যাপন করার এমন ভাবনা ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছেও হতে পারে অনুপ্রেরণার।