দুই অ্যাকাউন্টে জমা আছে ১১ কোটি টাকা, এক লাখও দিতে পারছে না ব্যাংকটি

বরিশাল প্রতিনিধি
০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০০ আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০০

বরিশাল জেলা পরিষদের প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত না দেওয়ায় এবার ন্যাশনাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে টাকা ফেরত না দেওয়ায় জেলা পরিষদের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। এক লাখ টাকার চেক পাঠালেও তাও দিতে পারছে না ব্যাংকটি।

এ কারণে গতকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা পরিষদে ডেকে পাঠানো হয় বরিশাল ন্যাশনাল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ব্রাঞ্চ ইনচার্জ এ টি এম কামাল হোসেনকে। তার জবাব ছিল এমন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে টাকা পাওয়া গেলে আপনাদের দেওয়া হবে। 

বরিশাল জেলা পরিষদের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় জেলা পরিষদের দুটি সেভিংস হিসাবে ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা জমা রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ৪ জুন জেলা পরিষদ থেকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জমা করা অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার জন্য বলা হয়। ওই চিঠিতে প্রথম হিসাবে ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৭ টাকা ১৮ পয়সা এবং দ্বিতীয় হিসাবে ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩১ হাজার ৩০৬ টাকা ৭০ পয়সা জমা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ টাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা পরিষদ, বরিশাল বরাবরে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রেরণের জন্য বলা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই হিসাবে জমা থাকা মোট ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৮ টাকা ৮৬ পয়সা পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদে ফেরত পাঠানোর জন্য পুনরায় বলা হয়।

জেলা পরিষদের ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, জমা করা অর্থের পে-অর্ডার না পাওয়ায় জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজের বিল পরিশোধ করা যাচ্ছে না।

এর জবাবে ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপকের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদকে লিখিতভাবে জানানো হয়, তাদের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে জানানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে জেলা পরিষদের অর্থ প্রদান সম্ভব হচ্ছে না।

ব্যাংকের জবাবে আরও বলা হয়, অচিরেই তারল্য সংকটের সমাধান হবে বলে প্রধান কার্যালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে এবং সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

অর্থাৎ জেলা পরিষদের নথিতে থাকা ব্যাংকের লিখিত জবাবেই ব্যাংকের তারল্য সংকটের বিষয়টি সরাসরি উঠে এসেছে। এরপরই অর্থ ফেরত না পাওয়ায় বিষয়টি আরও জটিল আকার নেয়।

জেলা পরিষদের নথিতে দেখা গেছে, তাদের একটি প্রকল্পের ব্যয় বাবদ হাফেজিয়া মাদ্রাসা ঈদগাহের অনুকূলে একটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ওই চেকের অর্থ পরিশোধ না করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি প্রত্যাখ্যান করে দেয়।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, জেলা পরিষদের পক্ষে আইনজীবী আলী আহমেদ ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়। লিগ্যাল নোটিশে জেলা পরিষদের পূর্বের চিঠি এবং ব্যাংকের দেওয়া জবাবের বিষয় তুলে ধরা হয়।

সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জেলা পরিষদকে জানিয়েছিল, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। এ কারণে ওই মুহূর্তে পে-অর্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে।

কিন্তু নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই জবাবের পর জেলা পরিষদের প্রকল্প ব্যয়ের এক লাখ টাকার চেকও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রত্যাখ্যান করেছে। এতে জেলা পরিষদের কার্যক্রম ব্যাহত এবং উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পরিশোধে সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে লিগ্যাল নোটিশে দাবি করা হয়।

লিগ্যাল নোটিশে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা পরিষদের জমা করা সমুদয় অর্থ এক বা দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বলা হয়। অন্যথায় ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর কথাও বলা হয়। 

বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান জানিয়েছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য রাখা প্রায় ১১ কোটি টাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের বরিশাল শাখায় আটকে আছে। টাকা ফেরত চেয়ে জেলা পরিষদ একাধিকবার লিখিতভাবে তাগাদা দিয়েছে, দুটি পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করা অর্থ ফেরত চেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশও দিয়েছে। এর জবাবে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, ব্যাংকটির তারল্য সংকট এখনও কাটেনি। ফলে এ মুহূর্তে পে-অর্ডারের মাধ্যমে টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তারল্য সংকট কেটে গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জেলা পরিষদের অর্থ পরিশোধ করা হবে বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে টাকা না পাওয়ায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো থমকে আছে। সামান্য এক লাখ টাকার চেকও প্রত্যাখ্যান করছেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।

জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, টাকা ফেরত চাইতে গেলে ন্যাশনাল ব্যাংকের স্থানীয় শাখা থেকে কখনও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডি, আবার কখনও চেয়ারম্যানের অনুমোদনের কথা বলা হচ্ছে। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত গ্রহণের সময় যদি চেয়ারম্যান কিংবা এমডির অনুমোদনের প্রয়োজন না হয়, তাহলে সেই আমানত ফেরত দেওয়ার সময় কেন তাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে?

/এফআর/
সম্পর্কিত
যার যা আছে তাই নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার ঘোষণা, এরপর ৪ গ্রামের সংঘর্ষ
হাসপাতালে লাইনে দাঁড়ানো রোগীর গলার চেইন চুরির সময় দুই নারী আটক
বগাকে ধরতে নগর ভবনে পুলিশ, মেয়রের বাধায় থামলো অভিযান
সর্বশেষ খবর
আবারও বাড়লো উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম
আবারও বাড়লো উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম
যার যা আছে তাই নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার ঘোষণা, এরপর ৪ গ্রামের সংঘর্ষ
যার যা আছে তাই নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার ঘোষণা, এরপর ৪ গ্রামের সংঘর্ষ
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-প্রতিষ্ঠানে নতুন বেতন স্কেল কার্যকরের উদ্যোগ
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক-প্রতিষ্ঠানে নতুন বেতন স্কেল কার্যকরের উদ্যোগ
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯০
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯০
সর্বাধিক পঠিত
একদিন ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
একদিন ছুটি বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি
ছেলে হত্যার আসামিরা জামিনে এসে বাবাকে মেরে ফেললো, আর মামলা করতে চাই না
ছেলে হত্যার আসামিরা জামিনে এসে বাবাকে মেরে ফেললো, আর মামলা করতে চাই না
এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, মারাত্মক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ, মারাত্মক লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
বিদায়ী ম্যাচে হলুদ ও লাল কার্ড পেলেন মেসি
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে নেন ৯৮ হাজার টাকা, আরও ৪ হাজার নিতে এসে আটক
ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলে নেন ৯৮ হাজার টাকা, আরও ৪ হাজার নিতে এসে আটক