টিকটক-রিলস দেখা কমিয়ে সিনেমা দেখবেন যে কারণে

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক  
১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৮ আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৮

একটা ভিডিও শেষ হতে না হতেই আরেকটা। তারপর আরও একটা। টিকটক, ফেসবুক রিলস কিংবা ইউটিউব শর্টস দেখতে দেখতে কখন যে আধা ঘণ্টা পেরিয়ে যায়, টেরই পাওয়া যায় না। কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে হাসি, বিস্ময় আর উত্তেজনা—সবই আছে। কিন্তু একের পর এক ছোট ভিডিও দেখতে দেখতে দীর্ঘ সময় কাটালে মনোযোগ, মেজাজ ও ঘুমের ওপর কী প্রভাব পড়ে?

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে শুধু কতবার অ্যাপ খুলছেন, তা নয়; কতক্ষণ ধরে এবং কীভাবে ভিডিও দেখছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে প্রকাশিত ৭১টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় অতিরিক্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও দেখার সঙ্গে মনোযোগের সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ঘুমের মান খারাপ হওয়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এ থেকে বলা যায় না, ছোট ভিডিও দেখাই এসব সমস্যার একমাত্র কারণ।

তাহলে একের পর এক ছোট ভিডিও দেখার বদলে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা দেখা কেন ভালো বিকল্প হতে পারে? সম্প্রতি মনোবিষয়ক একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে উঠে এসেছে চারটি কারণ।

বারবার নতুন ভিডিও দেখার তাগিদ কমাতে পারে

ছোট ভিডিওর অন্যতম আকর্ষণ হলো অনিশ্চয়তা। পরের ভিডিওতে কী দেখা যাবে, তা আগে থেকে জানা যায় না। কখনও মজার কিছু, কখনও চমকে দেওয়ার মতো দৃশ্য, আবার কখনও নিজের আগ্রহের বিষয় সামনে আসে। নতুন কিছু পাওয়ার এই প্রত্যাশা একের পর এক ভিডিও দেখতে উৎসাহিত করতে পারে।

সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতা আলাদা। এখানে গল্পের চরিত্র, ঘটনা ও পরিণতি বুঝতে সময় দিতে হয়। গল্পের সঙ্গে মনোযোগ ধরে রাখতে পারলে চরিত্রগুলোর অনুভূতি ও সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে বিনোদনের পাশাপাশি নিজের আবেগ বোঝা এবং নতুন দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনেরও সুযোগ থাকে।

মনোযোগ ধরে রাখার চর্চা হতে পারে

স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিওতে কয়েক সেকেন্ড পরপর বিষয় বদলে যায়। এক ভিডিও থেকে অন্য ভিডিওতে যাওয়ার অভ্যাস দীর্ঘ সময় ধরে একটি কাজে মনোযোগ ধরে রাখাকে কঠিন করে তুলতে পারে—বিশেষ করে কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে ভিডিও দেখলে।

অন্যদিকে, একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমায় দর্শককে একই গল্পের সঙ্গে থাকতে হয়। চরিত্রের পরিবর্তন, ঘটনার যোগসূত্র ও গল্পের পরিণতি বুঝতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় ধরে একটি কাহিনি অনুসরণ করা মনোযোগের চর্চার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে সিনেমা দেখলেই মনোযোগের সমস্যা দূর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো, একটানা স্ক্রল করার বদলে সচেতনভাবে একটি কাজে সময় দেওয়া।

অন্যের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে পারে

একাকী বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও স্ক্রল করলে বিনোদন পাওয়া গেলেও অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কমে যেতে পারে। অতিরিক্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও ব্যবহারের সঙ্গে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও একাকিত্বের সম্পর্কও বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিনেমা দেখা একটি যৌথ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে। কোনও দৃশ্য নিয়ে আলোচনা, চরিত্রের আচরণ নিয়ে মতবিনিময় কিংবা গল্পের পরিণতি নিয়ে তর্ক—এসবের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ার সুযোগ থাকে।

সিনেমায় দেখানো সৌন্দর্য, জীবনযাপন কিংবা সম্পর্কের সঙ্গে বাস্তবতার পার্থক্য নিয়েও একসঙ্গে আলোচনা করা যায়। এতে পর্দায় দেখা বিষয়কে বাস্তব জীবনের মানদণ্ড হিসেবে ধরে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করতে পারে

একটি ভালো সিনেমা দর্শককে এমন মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে, যাদের সঙ্গে বাস্তবে কখনও দেখা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কোনও চরিত্র কেন কঠিন সিদ্ধান্ত নিল, তার আচরণের পেছনে কী অভিজ্ঞতা কাজ করেছে কিংবা সে কেন দ্বিধায় ভুগছে—এসব বুঝতে গিয়ে দর্শক অন্যের অবস্থান থেকে ভাবার সুযোগ পান।

এ ধরনের অভিজ্ঞতা সহমর্মিতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও দেখার সঙ্গে রাগ বেড়ে যাওয়া, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমার সম্পর্কও কিছু গবেষণায় পাওয়া গেছে। তবে এসব সম্পর্ক থেকে সরাসরি কারণ নির্ধারণ করা যায় না, আর প্রভাবও সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়।

তাহলে কি রিলস দেখা বন্ধ করতে হবে?

না, ছোট ভিডিও দেখাই সমস্যা নয়। সমস্যা তৈরি হতে পারে যখন অজান্তে দীর্ঘ সময় স্ক্রল করতে গিয়ে ঘুম, কাজ, পড়াশোনা কিংবা কাছের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো ব্যাহত হয়।

তাই প্রতিদিন কিছু সময় ফোন সরিয়ে রেখে একটি সিনেমা দেখা, পরিবারের সঙ্গে বসে কোনও গল্প উপভোগ করা কিংবা মনোযোগ দিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। লক্ষ্য ছোট ভিডিও পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়; বরং বিনোদনের ধরনে ভারসাম্য আনা।

কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও দ্রুত আনন্দ দিতে পারে। কিন্তু একটি দীর্ঘ গল্পের সঙ্গে সময় কাটালে তার চরিত্র, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার গভীরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই কখনও কখনও পরের ভিডিওটি দেখার বদলে একটি সিনেমার শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করাও হতে পারে মনোযোগ দিয়ে সময় কাটানোর ভালো অভ্যাস।

/এম/
সম্পর্কিত
ফেসবুকে যা দেখেন, মানুষের জীবন কি সত্যিই তেমন?
মেয়ে সন্তান হলে কি সত্যিই বাবার আয়ু বাড়ে?
তেল-গ্যাসের বাড়তি দামে মাথা গরম? এর পেছনে আছে মনের খেলাও
সর্বশেষ খবর
কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, নিকটাত্মীয় বা শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ  
কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ৩০৩ শিশু, নিকটাত্মীয় বা শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ  
ফেসবুকে যা দেখেন, মানুষের জীবন কি সত্যিই তেমন?
ফেসবুকে যা দেখেন, মানুষের জীবন কি সত্যিই তেমন?
৫ ঘণ্টাতেও নেভেনি চকবাজারের আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট
৫ ঘণ্টাতেও নেভেনি চকবাজারের আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট
ন্যায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে জাপানকে চীনের আহ্বান
ন্যায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে জাপানকে চীনের আহ্বান
সর্বাধিক পঠিত
বিএনপির এমপির ছেলে-ভগ্নিপতি-ভাগনের বউ পেলেন সারের ডিলারশিপ, ডিসি বললেন ‘কমিটির তালিকা’ 
বিএনপির এমপির ছেলে-ভগ্নিপতি-ভাগনের বউ পেলেন সারের ডিলারশিপ, ডিসি বললেন ‘কমিটির তালিকা’ 
জয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, উঠে এলো আ.লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের দুই অভিনেতার নাম
জয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য, উঠে এলো আ.লীগ সরকারের সিদ্ধান্তের দুই অভিনেতার নাম
লাখ টাকায় আইফোন কিনে বাড়িতে নেওয়ার পরই গেলো পুলিশ
লাখ টাকায় আইফোন কিনে বাড়িতে নেওয়ার পরই গেলো পুলিশ
ইলিশ শিকার করায় ১০ জেলে আটক, ৪০ কেজি মাছ মাদ্রাসায় বিতরণ
ইলিশ শিকার করায় ১০ জেলে আটক, ৪০ কেজি মাছ মাদ্রাসায় বিতরণ
রাশেদ খাঁনের দুঃখ প্রকাশ 
রাশেদ খাঁনের দুঃখ প্রকাশ