শীতের বিকাল হোক কিংবা অবসর সময়, চিনাবাদাম খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু বাদাম খাওয়ার পর গলা শুকিয়ে আসা বা খুসখুস করার অনুভূতি হলে অনেকে চিন্তায় পড়েন। তবে অনেকেই মনে করেন, চিনাবাদাম খাওয়ার পর পানি পান করলে সর্দি-কাশি হতে পারে, এমনকি হজমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু এই ধারণার আদৌ কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে কি?
পুষ্টিবিদদের মতে, চিনাবাদাম খাওয়ার পর পানি পান করলেই সর্দি-কাশি বা হজমের সমস্যা হয়, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং গলায় অস্বস্তি দেখা দিলে তার প্রকৃত কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
চিনাবাদাম খাওয়ার পর কাশি বা গলায় খুসখুস করার আশঙ্কা নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা কথা প্রচলিত। বিশেষত ভাজা বাদাম খাওয়ার সময়ে অনেকে এ বিষয়ে সতর্ক করেন। চিনাবাদামে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকায় কারও কারও ধারণা, এর তেল গলায় আটকে গিয়ে অস্বস্তি তৈরি করে। কিন্তু চিনাবাদামের তেল খাদ্যনালিতে জমে থাকে এবং তার সঙ্গে পানি পান করলে সমস্যা বাড়ার কোনও প্রমাণ নেই।
সাধারণ সর্দি মূলত ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে হয়। তাই চিনাবাদাম খাওয়ার পর পানি পান করলেই সর্দি-কাশি হয় না। তবে বাদাম খাওয়ার সময় গলায় কণা আটকে যাওয়া বা শ্বাসনালিতে খাবারের অংশ ঢুকে পড়লে কাশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে সমস্যাটি খাবার গিলতে অসুবিধার সঙ্গে সম্পর্কিত, পানি খাওয়ার সঙ্গে নয়।
চিনাবাদামে প্রোটিন, ফ্যাট ও খাদ্যআঁশ থাকে। এই উপাদানগুলি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তবে একসঙ্গে অনেকটা বাদাম খেলে কারও কারও পেটফাঁপা, গ্যাস বা ভারী লাগার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্যক্তিভেদে হজমের ক্ষমতা আলাদা হওয়ায় একই খাবারে সবার প্রতিক্রিয়াও এক রকম হয় না।
তবে চিনাবাদাম খাওয়ার পর পানি খেলে হজমের সমস্যা হওয়ারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপ ও হজমপ্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাই অকারণে এই অভ্যাস নিয়ে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
চিনাবাদাম খাওয়ার পর গলায় খুসখুস, চুলকানি বা অস্বস্তি হলে বিষয়টিকে সব সময় সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়াও ঠিক নয়। এর একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে চিনাবাদামে অ্যালার্জি। কারও ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যেতে পারে। শ্বাস নিতে কষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা সারা শরীরে চাকা চাকা ফুসকুড়িও দেখা দিতে পারে।
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অপেক্ষা করা বিপজ্জনক।
মনে রাখা জরুরি, চিনাবাদাম খাওয়ার পর গলায় অস্বস্তি বা কাশি দেখা দিলে তার কারণ সব সময় এক নয়। তাই প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে উপসর্গের কারণ বোঝা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো উপায়।