প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হিজাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে তুরস্কের বিরুদ্ধে কৃত্রিম উত্তেজনা সৃষ্টির সরাসরি অভিযোগ তুলেছে আজারবাইজানের সরকারি দল। আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের নেতৃত্বাধীন নিউ আজারবাইজান পার্টি মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের দল একেপি এবং মুখ্য উপদেষ্টা ওকতাই সারালসহ শীর্ষ একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করার অভিযোগ এনেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তুরস্কের যেসব গণমাধ্যম একেপি সরকারের ঘনিষ্ঠ, তারা আজারবাইজানকে নিয়ে সত্যের বিপরীত সংবাদ পরিবেশন করছে; যার ফলে দুই দেশের সুসম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্কুলে নতুন পোশাকবিধি অনুযায়ী আজারবাইজানে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের জন্য এবং ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের জন্য নিয়ম কার্যকর হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজারবাইজানের ছাত্রীদের কান্নার দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে সোমবার আঙ্কারার ওপর চাপ তৈরি হয়। এরপর তুর্কি উপদেষ্টা ওকতাই সারাল বলেন, শিক্ষার্থীদের হিজাব পরার কারণে শিক্ষায় বাধা দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয় এবং তিনি বাকুকে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।
এ ঘটনার জের ধরে গত সোমবার আজারবাইজানে হিজাব নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করার অপরাধে অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং এক্স, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাময়িকভাবে সীমিত করে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল হিজাব বিতর্কই নয়, বরং ইসরায়েলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও তুর্কি সমালোচনার মুখে পড়েছে দেশটি। সম্প্রতি জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সময় আজারবাইজান প্রতিনিধিদলের হল ত্যাগ না করা নিয়েও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে আজারবাইজানের সরকারি দল জানায়, ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আন্তর্জাতিক আইন ও পারস্পরিক স্বার্থের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একই সঙ্গে তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের নীতিতে প্রেসিডেন্ট আলিয়েভ অটল আছেন।
মুসলিম বিশ্বের সম্পর্কের বিষয়ে ইঙ্গিত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামিক বিশ্বের কোনও রাষ্ট্রের অধিকার নেই অন্য কোনও মুসলিম জাতির ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা। আজারবাইজানের সংবিধান অনুযায়ী একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র এবং তুর্কি একেপি সরকারকে এই ক্ষতিকারক নীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আজারবাইজানের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হায়দার আলিয়েভের বিখ্যাত ‘এক জাতি, দুই রাষ্ট্র’ নীতিটির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, এই নীতি দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে নির্দেশ করে। কোনও অবস্থাতেই এই নীতি এক রাষ্ট্রকে অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার বা নিজস্ব রাজনৈতিক ধারণা চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ দেয় না।
অন্যদিকে, আঙ্কারার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আজারবাইজানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের কোনও উদ্দেশ্য তুরস্কের নেই এবং এটিকে তারা একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করে বরং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করা হবে বলে জানান তুর্কি কর্মকর্তারা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
পেরুর ৮৪ কোটি ডলারের বন্দর প্রকল্পে যুক্ত হতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারত
মাত্র ১২ মিনিটে গুজরাটে ৮ কোটি রুপির স্বর্ণ গায়েব