অভিনেত্রী হিসাবে পরিচিতি পাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ও সাফল্য পেয়েছেন ক্যাটরিনা কাইফ। তাঁর প্রসাধনী ব্র্যান্ড ‘কে বিউটি’র বিক্রির পরিমাণ ৩৫০ কোটি রুপি ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি লন্ডনের স্পেস এনকে-তে ব্র্যান্ডটির পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সেখানে ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী নারীদের জন্য নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নানা পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সন্তান জন্মের পর ক্যাটরিনার ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যখন নানা মন্তব্য ও সমালোচনা চলছিল, তখন তিনি নিজের জীবন ও ব্যবসা এগিয়ে নেওয়ার দিকেই মনোযোগ দিয়েছেন। ২০১৯ সালের অক্টোবরে অনলাইন বিপণন সংস্থা নাইকার সঙ্গে যৌথভাবে ‘কে বিউটি’র যাত্রা শুরু হয়। কয়েক বছরের মধ্যে ব্র্যান্ডটি প্রসাধনীর বাজারে উল্লেখযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছে।
এক সাক্ষাৎকারে ক্যাটরিনা বলেন, নিজের আগ্রহের বিষয়কে ব্যবসায় রূপ দিতে পারলে সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়ে। তাঁর কথায়, “আপনি যে বিষয়ে সত্যিই আগ্রহী, সেটিকে যদি ব্যবসায় রূপ দিতে পারেন, তা হলে আমি বিশ্বাস করি সাফল্য আসবেই। কারণ, তখন নিজের কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পাবেন।”
অভিনেত্রী ও উদ্যোক্তা হিসাবে নিজের ভূমিকার পার্থক্যও তুলে ধরেছেন ক্যাটরিনা। তিনি বলেন, “একজন অভিনেত্রী ও একজন উদ্যোক্তার মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো, অভিনেত্রী হিসাবে শুটিংয়ে গেলে পরিচালকের হাতেই থাকে পুরো কাজের দায়িত্ব। কিন্তু উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিদিনই আপনাকে বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং নানা ধরনের দায়িত্ব সামলাতে হয়। তাই নিজের বিচারবুদ্ধি ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর আস্থা রাখা খুব জরুরি।”
ক্যাটরিনা জানিয়েছেন, তাঁর বোনেরাও ‘কে বিউটি’র পণ্য পছন্দ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, আমার বোনেরাই ‘কে বিউটি’র সবচেয়ে বড় ভক্ত। বিষয়টি আমার কাছে সত্যিই বিশেষ আনন্দের।”
সাক্ষাৎকারে নিজের অভিনীত সিনেমার গানের কয়েকটি সাজপোশাকের কথাও বলেছেন ক্যাটরিনা। এর মধ্যে রয়েছে সিং ইজ কিং ছবির গোলাপি রঙের ছোট স্কার্টের পোশাক এবং রেস ছবির ‘জারা জারা টাচ মি’ গানে পরা নীল রঙের ঝালর দেওয়া পোশাক। সিং ইজ কিং ছবির গোলাপি পোশাকটি নিয়ে তাঁর মন্তব্য, “হ্যাঁ, ওই সাজটি আমার খুব পছন্দের।”
লন্ডনে ‘কে বিউটি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচনা নিয়েও কথা বলেন ক্যাটরিনা। তাঁর মতে, অন্যের মন্তব্যকে নিজের সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে দিলে জীবনে এগিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্যাটরিনা বলেন, “আমি যদি এসব সমালোচনাকে আমার সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে দিই, তা হলে ভয়ে একেবারে স্থবির হয়ে পড়বো। জীবনের কোনও ক্ষেত্রেই আর এগোতে পারবো না। তাই নিজের সবচেয়ে বড় সমর্থক নিজেকেই হতে হবে।”
সূত্র: এনডিটিভি