সাধারণ পোলাওয়ের স্বাদে একটু ভিন্নতা আনতে চাইলে তৈরি করতে পারেন কাশ্মীরি পোলাও। সুগন্ধি বাসমতি চাল, ঘি, জাফরান, মিষ্টি কিশমিশ আর নানা ধরনের বাদামে তৈরি এই পোলাও স্বাদে ও ঘ্রাণে অনন্য। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমন সুস্বাদু। পোলাওটি অতিথি আপ্যায়ন, পারিবারিক আয়োজন কিংবা বিশেষ দিনের খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন। চলুন, সহজ উপকরণে ঘরেই তৈরি করে নেওয়া যাক মজাদার কাশ্মীরি পোলাও।
উপকরণ
বাসমতি চাল ২ কাপ, ঘি ৩ টেবিল চামচ, পাতলা করে কাটা পেঁয়াজ ১টি, দারুচিনি ২ টুকরা, এলাচ ৪টি, লবঙ্গ ৪টি, তেজপাতা ২টি, জিরা আধা চা চামচ, আদাবাটা আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো, চিনি ১–২ টেবিল চামচ, কেওড়াজল ১ চা চামচ, সামান্য জাফরান এবং ২ টেবিল চামচ গরম দুধ। রান্নার জন্য প্রয়োজনমতো গরম পানি নিতে হবে।
বাদামের জন্য লাগবে কাজু ২ টেবিল চামচ, কাঠবাদাম ২ টেবিল চামচ, কিশমিশ ২ টেবিল চামচ, পেস্তা ১ টেবিল চামচ এবং ইচ্ছামতো শুকনো খেজুর বা আলুবোখারা।
প্রস্তুত প্রণালি
প্রথমে বাসমতি চাল ভালোভাবে ধুয়ে ২০–৩০ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানি ঝরিয়ে নিন। জাফরান ২ টেবিল চামচ গরম দুধে ভিজিয়ে রাখুন, যাতে সুন্দর রং ও সুগন্ধ বেরিয়ে আসে।
এবার একটি হাঁড়িতে ঘি গরম করে কাজু, কাঠবাদাম ও কিশমিশ হালকা ভেজে তুলে রাখুন। একই ঘিতে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, তেজপাতা ও জিরা দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। এরপর পেঁয়াজ দিয়ে হালকা সোনালি করে ভেজে আদাবাটা যোগ করুন। কাঁচা গন্ধ চলে গেলে পানি ঝরানো চাল দিয়ে আলতো হাতে ২–৩ মিনিট ভেজে নিন।
এবার চালের পরিমাণ অনুযায়ী গরম পানি দিন। সঙ্গে লবণ ও চিনি মিশিয়ে দিন। পানি ফুটে উঠলে হাঁড়ির ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে রান্না করুন। চাল প্রায় ৮০ শতাংশ সিদ্ধ হয়ে এলে জাফরান মেশানো দুধ ও কেওড়াজল ছড়িয়ে দিন।
এরপর আগে থেকে ভেজে রাখা বাদাম, কিশমিশ ও পেস্তা চালের ওপর ছড়িয়ে হাঁড়ির ঢাকনা বন্ধ করে আরও ১০ মিনিট কম আঁচে দমে রাখুন। চাল পুরোপুরি সিদ্ধ হয়ে গেলে চুলা বন্ধ করে ৫ মিনিট রেখে দিন। সবশেষে কাঁটাচামচ দিয়ে আলতো করে পোলাও ঝরঝরে করে নিন, যাতে চাল ভেঙে না যায়।
পরিবেশনের আগে
কাশ্মীরি পোলাওয়ের আসল আকর্ষণ এর মিষ্টি-সুগন্ধি স্বাদ ও বাদামের সমৃদ্ধি। পরিবেশনের আগে ওপর থেকে আরও কিছু ভাজা বাদাম, কিশমিশ এবং ডালিমের দানা ছড়িয়ে দিলে দেখতে আরও সুন্দর লাগবে। গরম গরম পরিবেশন করুন পছন্দের কাবাব, রোস্ট বা অন্যান্য মজাদার পদের সঙ্গে।
রান্নার টিপস: পোলাও ঝরঝরে রাখতে চালের তুলনায় পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং রান্নার সময় বারবার নাড়াচাড়া করবেন না। মিষ্টি স্বাদ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কমবেশি করতে পারেন।