সাদা শাড়ির সৌন্দর্য আলাদা করে ফুটিয়ে তুলতে সবসময় ঝলমলে সাজের প্রয়োজন হয় না। কখনও কখনও একটি উজ্জ্বল গয়নাই পুরো লুকের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। কিয়ারা আদভানির সাম্প্রতিক সাজ যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।
ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার তৈরি সাদা শিফন শাড়িতে কিয়ারার লুক ছিল নরম, পরিশীলিত এবং আধুনিক। হালকা কাপড়ের শাড়িটি শরীরের চারপাশে সাবলীল ভাবে জড়ানো ছিল। আঁচল কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছিল বাহুর উপর, যা পোশাকে দিয়েছিল কেপের মতো একটি আকর্ষণীয় আবহ।
শাড়ির সঙ্গে প্রচলিত ব্লাউজ়ের বদলে বেছে নেওয়া হয়েছিল করসেট-অনুপ্রাণিত নকশা। গভীর হার্ট-শেপড নেকলাইন এবং ফিটেড সিলুয়েট সাদা শাড়ির কোমলতার সঙ্গে তৈরি করেছিল আধুনিক বৈপরীত্য। ফলে ট্র্যাডিশনাল শাড়ির সাজেও কিয়ারার লুকে ধরা পড়েছিল সমকালীন ফ্যাশনের ছাপ।
লাল রুবিতেই সাজের মূল আকর্ষণ
তবে পুরো লুকের সবচেয়ে বড় চমক ছিল গলার হারটি। সাদা পোশাকের একেবারে বিপরীতে গাঢ় লাল রুবির উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
মনীশ মালহোত্রার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নেকলেসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ৭৮ ক্যারাটেরও বেশি মোজাম্বিক ও বার্মিজ রুবি। রত্নগুলিকে ফুলের মতো বিন্যাসে সাজিয়ে তৈরি করা হয়েছিল একটি ক্যাসকেডিং ডিজাইন। তার চারপাশে ছিল ১৮ ক্যারাট সোনায় বসানো হিরের পাতার কারুকাজ।
সাদা শিফনের শান্ত সৌন্দর্যের মাঝে গাঢ় লাল রুবির উজ্জ্বলতা গয়নাটিকে আরও বেশি দৃশ্যমান করে তুলেছিল। ফলে অন্য কোনও ভারী অ্যাক্সেসরিজের প্রয়োজন পড়েনি।
সাজে কম, প্রভাবেই বেশি
কিয়ারার হেয়ারস্টাইলও রাখা হয়েছিল বেশ ছিমছাম। মসৃণ চুলে ডিপ সাইড পার্ট করে এক পাশের কাঁধে নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল চুলের লম্বা অংশ। এতে গলার গয়নাটি স্পষ্ট ভাবে ফুটে ওঠার সুযোগ পেয়েছে।
মেকআপেও ছিল পরিমিতির ছোঁয়া। সুগঠিত ভ্রু, ধোঁয়াটে চোখের মেকআপ এবং গোলাপি টোনের ঠোঁটে মুখের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে সামনে রাখা হয়েছিল।
এই সাজের বিশেষত্ব সম্ভবত এখানেই সাদা শিফনের নরম সৌন্দর্য, আধুনিক কাটের ব্লাউজ় এবং চোখে পড়ার মতো রুবির গয়না, তিনটি আলাদা উপাদান হয়েও একসঙ্গে তৈরি করেছে ভারসাম্যপূর্ণ একটি লুক।
ঐতিহ্যবাহী শাড়ির সঙ্গে সমকালীন কাট ও স্টেটমেন্ট জুয়েলারির এই সম্মীলনই কিয়ারার সাজকে করে তুলেছে আধুনিক ভারতীয় ফ্যাশনের একটি চমৎকার উদাহরণ।








