দীর্ঘ বিরতির পর ফের অভিনয়ের জোরে নজর কেড়েছেন সোনালি বেন্দ্রে। ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন লড়াই জয় করে জীবনের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়া সোনালি বেন্দ্রে এবার নিজের অভিনয় প্রতিভার জোরে আলোচনার কেন্দ্রে। অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ক্রাইম থ্রিলার সিরিজ ‘রাখ’-এর সাফল্যে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন এই অভিনেত্রী। সিরিজে তার গভীর ও শক্তিশালী অভিনয় দর্শক থেকে শুরু করে সমালোচক এবং সহ-অভিনেতাদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করা সোনালি এই সিরিজের মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করেছেন, পর্দায় তার উপস্থিতি এখনও সমানভাবে প্রভাবশালী।
সম্প্রতি ‘ম্যাশেবল ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ডায়েট ও ফিটনেস রুটিন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। সঞ্চালকের সঙ্গে আলাপচারিতায় জানিয়েছেন, কীভাবে তিনি খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেন এবং ২০১৮ সালে স্টেজ-৪ মেটাস্ট্যাটিক ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর তিনি কতটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন।
সোনালি বেন্দ্রের ডায়েট
সঞ্চালক যখন উল্লেখ করেন যে, তিনি খুব বেশি খাবার খান না, তখন বেন্দ্রে জানান, তিনি সবে তার উপবাস ভেঙেছেন। তিনি স্বীকার করেন, সঞ্চালকের সঙ্গে যখন খাবার ভাগ করে নিয়েছিলেন, তখন সম্ভবত তিনি ১৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উপবাসে ছিলেন।
সোনালি বেন্দ্রে জানিয়েছেন, তিনি দিনে ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা উপবাসে থাকেন এবং মাত্র দেড় থেকে দুই বেলা খাবার খান।
তিনি আরও জানান, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুসরণ করেন। তার কথায়, তিনি দিনে মাত্র ‘দেড় বেলা খাবার খান।’
কখনও কখনও দিনে দুই বেলা খাবার খান, তবে বেশিরভাগ সময়ই ১৮ থেকে ২০ ঘণ্টা উপবাসে থাকেন এবং দিনে দেড় বেলার খাবারেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেন।
সোনালি বেন্দ্রের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই
সোনালি বেন্দ্রে জানিয়েছেন, যখন প্রথম তার ক্যানসার ধরা পড়ে এবং তা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন স্বাভাবিকভাবেই তিনি ভীত হয়ে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “কিছুক্ষণের জন্য ভয় বা আবেগ কাজ করে।’’
সোনালি বেন্দ্রের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই
‘রাখ’ অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রে বলেন, ভয় পেয়ে যাওয়ার কোনও লাভ নেই, কারণ এতে জীবনের বাকি সময়টুকুও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তিনি জানান, প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়েছিলেন, কিন্তু পরে নিজের ভয়কে মোকাবিলা করেন এবং চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে দৃঢ়ভাবে লড়াই চালিয়ে যান।
সোহা আলি খানের পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে সোনালি বেন্দ্রে জানান, প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো যখন করা হয়েছিল, তখন তিনি ভাবতেই পারেননি যে তার ক্যানসার ধরা পড়বে।
সোনালি বেন্দ্রে বলেন, “এটা এমন কোনও বিষয় ছিল না, যা নিয়ে সবাই আলোচনা করছিল।” তিনি জানান, “তখন মনে হয়েছিল এটি কোথাও কারও সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা।” গুজব ও জল্পনা এড়াতে তিনি নিজেই ইনস্টাগ্রামে এই খবর প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানান, “আমি চেয়েছিলাম, বিষয়টি আমার নিজের ভাষ্যেই সামনে আসুক।”
সোনালি বেন্দ্রে আরও জানান, শুরুতে তিনি বিষয়টি মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, “যদি এটি আগে ধরা পড়তো, তাহলে হয়তো সারা জীবন এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ে বাঁচতে হতো না।”
চিকিৎসার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এখনও বহু বছর পরেও সেই প্রভাব অনুভব করেন।
তিনি আরও জানান, ক্যানসার ধরা পড়ার পর তার স্বামী গোল্ডি বেহল দ্রুত সব দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেন এবং চিকিৎসার জন্য তাকে নিউইয়র্কে নিয়ে যান। সোনালি বেন্দ্রে বলেন, “এর জন্য আমি শুধু তাকে ধন্যবাদই দিতে পারি, আর কিছু নয়।”
সোনালি জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে তিনি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চলেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং পরিমিত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ক্যানসারকে জয় করার পর তিনি নিয়মিতভাবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণের গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা তৈরি করছেন এবং এই মারণ রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার কাজ করে চলেছেন।









