ক্রেতা সব ভারতে!

Send
সাদ্দিফ অভি
প্রকাশিত : ০৮:৪৩, জুন ১৬, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৫, জুন ১৬, ২০১৭

হাড্ডি সিল্ক, র-সিল্ক, কাঞ্চি ভরম, গাদোয়ালসহ নানা ধরনের বাহারি কাপড় পাইকারি এবং খুচরা বিক্রির জায়গা মিরপুরের বেনারসি পল্লী। ঈদের মৌসুমে শাড়ির দোকান রমরমা থাকার কথা থাকলেও সোমবার বেনারসি পল্লী ঘুরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। দোকানিরা বসে নিজেরাই শাড়ি বের করে দেখছেন, ভাঁজ করছেন, ক্রেতা নেই। কয়েকটি দোকানে দুই চারজন ক্রেতা থাকলেও তারা দেখে শুনে ফিরে যাচ্ছেন, কিনছেন না। এমনকি ভরা মৌসুমে কোনও কোনও দোকানে পাইকারি দামে বিক্রির কথা বলে দোকানের সামনে দিয়ে যাওয়া ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টাও দেখা গেল।

মিরপুর বেনারসি পল্লীর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের বিক্রি অন্য যে কোনও সময়ের থেকে কম। কেন ঈদ মৌসুমেও দোকানে এমন খা খা দশা, জানতে চাইলে তারা কেউ সরাসরি না বলতে চাইলেও কেউ কেউ দুষলেন ভারতের শাড়ির প্রতি আকর্ষণ আর ভিসা প্রক্রিয়া সহজিকরণকে। ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের অভিজ্ঞতা হলো, কলকাতা এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে আসা কাপড় সেদেশের থেকে কম মূল্যে বিক্রি করলেও ক্রেতা ওদেশে চলে যাচ্ছেন, এমনকি অনলাইন শপ খুলে ওপার থেকে শাড়ি নিয়ে এসেও বিক্রি করছেন কেউ কেউ। এরকম যদি চলতেই থাকে তাহলে বাজার কোথায় যাবে, এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেক ব্যবসায়ী। 

ধানমন্ডি থেকে আগত ক্রেতা জামাল আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এখানে নানা ধরনের শাড়ি একটু কম দামে পাওয়া যায় তাই এতদূরে আসা। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা পরিবারসহ এসেছেন ঈদের কাপড় কিনতে, সারাদিন ঘুরে দু’টি শাড়ি কিনলেন স্ত্রীর জন্য। তিনি জানান, ‘স্ত্রী-সন্তানের শখের কথা চিন্তা করে এখানে আসা। অনেকে বিদেশে যায় কাপড় কিনতে। আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়, তাই এখান থেকেই নিলাম। ভালোই মনে হলো। দামও মোটামুটি সাধ্যের মধ্যেই।’  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্রেতা জানান, গত বছর ঈদে সোয়া কোটি টাকার ব্যবসা করলেও এবার ১৫ রমজান পর্যন্ত ৫০ লাখ টাকার বিক্রিও করতে পারেননি। মার্কেটের সার্বিক অবস্থা দেখে তার আশঙ্কা – ‘বেচাকেনা আর বাড়বেনা’। মার্কেট ঘুরে আরও কয়েকটি দোকানের কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘দিনের বেলা বলতে গেলে মার্কেট ক্রেতা শূন্যই থাকে। ইফতারের পর কিছু ক্রেতা আসেন তার বেশিরভাগই ঘুরে ঘুরে দেখেন, দাম যাচাই করেন এবং চলে যান।’ 

দিয়া শাড়ি হাউজের একজন বিক্রেতা জানান, ক্রেতা অন্যান্যবারের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত কম। এর কারণ জানতে চাইলে বলেন, ‘জানা নেই।’ স্টার প্লাস শাড়ির বিক্রেতা জানান, ‘ঈদে কাতান শাড়ির চাহিদা বেশি থাকে, এবার তারও কোনও চাহিদা দেখছি না। ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন আর চলে যাচ্ছেন।’

এক বছরেই ক্রেতার সংখ্যা এতো কমে যাওয়া প্রসঙ্গে মিরপুর বেনারসি দোকান মালিক সমিতির সেক্রেটারি মো. কাশেম জানান, ‘আমাদের এখানে দাম ভারতের থেকে অনেক কম, কিন্তু ক্রেতারা হুজুগে ওদিকে চলে যাচ্ছে। অনেকেই না জেনে আগ্রহ করে যাচ্ছে। কয়েকবার গেলেই বুঝতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওখান থেকে এমন দামে শাড়ি কিনে আনছে, যেটার দাম আমাদের এখানে অনেক কম। আর মনে রাখতে হবে, আমরা কারখানা থেকে সরাসরি নিয়ে আসি। ক্রেতারা ওখানে গিয়ে তেমনটা পাবেন না, তারা রিটেইলার থেকে কেনেন। কেনার পরও আসলটা কিনলেন, না রেপ্লিকা সেটাও জানা নেই তাদের।’

শাড়ির দাম ভারতের সঙ্গে মিলিয়ে হঠাৎই বেশি রাখা হচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, ‘এটি অসত্য, বরং ক্রেতার অভাব দেখে অনেকেই পাইকারি মূল্যে শাড়ি বিক্রি করছে। আপনি বাজার ঘুরলেও এর সত্যতা পাবেন।’

মো. কাশেম আরও বলেন, ‘বাজারের দিকে প্রশাসনের নজর দেয়া উচিত। বেনারসি দেশের ঐতিহ্য, এটা টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন রয়েছে। এটা একটা শিল্প, এর সঙ্গে জড়িত কয়েক লাখ মানুষ।’  

/ইউআই/এসএ/

লাইভ

টপ
X