ফ্যাশন-২০১৯বিশ্বজুড়ে ছিল স্ট্রিট ফ্যাশনের কদর

Send
আহমেদ শরীফ
প্রকাশিত : ১৩:০২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২২, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

প্যারিস হোক বা মিলান, লন্ডন অথবা নিউইয়র্ক ২০১৯ ছিল স্ট্রিট ফ্যাশনে চমক আনার বছর। অ্যাথলেইজার, অর্থাৎ এক্সারসাইজ করার ড্রেস, অ্যানিমেল প্রিন্ট, বয়লার স্যুট, পাফ শোল্ডার, লেভেন্ডার কালার এসবই ছিল বছরের বড় ট্রেন্ড। তবে পার্টি ফ্যাশনের যুগ শেষ হয়েছে প্রায় এক দশক আগেই। বিদায়ী বছরের ট্রেন্ড ছিল স্ট্রিট ফ্যাশন নিয়ে নিরীক্ষা। আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের ট্রেন্ডগুলো আরেকবার ঝালিয়ে নিলে স্ট্রিট ফ্যাশনই এগিয়ে থাকবে ফ্যাশন সচেতনদের চোখে।  

ব্লেজারের সঙ্গে বাইক শর্টস: বছরের এক আলোচিত ট্রেন্ড ছিলো অ্যাথলেইজার। বিশ্বের বড় সব সিটিতে ফ্যাশন সচেতনরা ব্লেজারের সঙ্গে বাইক শর্টস পরতে দেখা গেছে। অফিস বা পার্টিতে এই পোশাক দেখে নাক সিঁটকানোর সুযোগ থাকলেও স্ট্রিট ফ্যাশন হিসেবে এটি তুঙ্গে ছিল। হলিউড অভিনেত্রী জো ক্রাভিটজ ছিলেন দুই কাঠি ওপরে। নিজের বিয়ের ডিনারে বেছে নেন বাইকশর্টস তার ওপরে নেটের টপস জড়িয়েছিলেন। কিম কার্দাসিয়ানের মতো তারকাও ভীষণ ফরমাল আয়োজনে বাইকশর্টস দিয়েই চালিয়েছেন ফ্যাশন।  

অ্যানিমেল প্রিন্ট: স্ট্রিট ফ্যাশনে অ্যানিমেল প্রিন্ট ছিল বেশ নজরকাড়া। বিশেষ করে লেপার্ড বা চিতা প্রিন্ট ছিল সবার পছন্দ। প্যান্ট-কোট-স্যুট, গাউন, জাম্পস্যুট সব কিছুতেই লেপার্ড প্রিন্টের আধিক্য ছিল। লেপার্ড প্রিন্ট পোশাকের আধিক্য নিয়ে ফ্যাশন ম্যাগাজিন গ্ল্যাম লাইফ লিভিং রীতিমতো দাবি করেছে যে এটি ট্রেন্ড নয় এটি প্রধান ফ্যাশন অনুসঙ্গ। 

বয়লার স্যুট: বয়লার স্যুটকে পেশাজীবীদের পোশাক বলা হলেও এ বছর হলিউড নায়িকারা সেটিকেই ট্রেন্ড করেছিলেন। কার্পেন্টার, রঙমিস্ত্রি, কিংবা গ্যারেজ মেকানিকের বয়লার স্যুটের কদর দেখার মতো ছিল। তবে এটিও স্ট্রিট ফ্যাশনেই নজর কেড়েছে। তবে ব্র্যাডপিট, অর্লেন্ডো ব্লুম, জিজি হাদিদ, স্টেলা ম্যাককার্টেনির মতো তারকাদের দেখা গেছে বয়লার স্যুটে। এফটিভি ফ্যাশন শোতে নানা রংয়ের বয়লার স্যুটের কদরও ছিল বেশ।

লেভেন্ডার বা বেগুনি রঙ:  আলট্রা ভায়োলেট, পার্পল বা লেভেন্ডার কালারের পোশাক ছিল স্ট্রিট ফ্যাশনের অন্যতম ট্রেন্ড। নারীদের একক রঙ হিসেবে বিবেচিত হলেও ছেলেদেরও পার্পল শার্ট, লাইট পার্পল ব্লেজারে দেখা গেছে। ২০১৯ এর প্যারিস ফ্যাশন উইকে ঐশ্বরিয়া মাত করেছেন বেগুনি রঙের ফ্লোরাল ফ্রক দিয়ে। এফটিভি ফ্যাশনের পর্দা জুড়ে ছিল বেগুনি রঙের আধিক্য ছিল। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, যেহেতু পার্পল বা বেগুনি বা লেভেন্ডার হরেকচ্ছটার এই রঙ নারীত্বের প্রতিনিধিত্ব করে তাই নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পুরুষরাও এই রঙ ব্যবহার করেছেন। যেমন ব্যাড বয়েসের সেটে ল্যাভেন্ডার শেডের স্যুট পরে হাজির হন উইল স্মিথ। আমেরিকান অভিনেত্রী জেনিফার এনিস্টন তো দুই কাঠি ওপরে, বেগুনি ফ্যাশনকে প্রাধান্য দিতে চুলের রঙেই এনেছেন বেগুনি।

পাফ শোল্ডার: এ বছর ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে এসেছে পাফ শোল্ডার বা সেই কুচি দেওয়া ঘটি হাতা। ৮০এর দশকে বাঙালির ঘরে ঘরে ঘটি হাতার ব্লাউজ, কামিজ দেখা গেলেও হলিউড বা ইউরোপীয় ফ্যাশনে সেটি ছিল ৫০ এর দশকের ঘটনা। তবে এবার ফ্যাশন বিশ্ব মাতিয়েছে ঘটি হাতার বা পাফ শোল্ডারের এই জামা। পাফ শোল্ডার আলোচনায় এসেছিল বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাডুকোন ও ব্রিটিশ অভিনেত্রী এমিলিয়া ক্লার্কের একই পোশাক দিয়ে। কে কাকে নকল করেছিল, এই ছিল আলোচনার বিষয়। মিলি ববি ব্রাউনের মতো অভিনেত্রী কিংবা গায়িকা আদ্রিয়ানেকে অসংখ্যবার দেখা গেছে নানা ঢঙের ঘটি হাতার জামা পরতে 

বর্ণিল টার্টান বা চেক: বরাবরের মতোই চেক প্যাটার্ন বা টার্টানের কদরের কমতি ছিল না এ বছর। তাই ফ্যাশন টিভি বা প্যারিস ফ্যাশন উইকে টার্টান জড়ানো নায়ক-নায়িকা, গায়ক-গায়িকারা অসংখ্যবার স্পটেড হয়েছেন। বিশেষ করে এ বছরের প্যারিস ফ্যাশন উইকের অন্যতম অনুসঙ্গ ছিল বর্ণিল টার্টান। নানা রঙের চেকে মাত হয়েছে প্যারিস ফ্যাশন উইকের মঞ্চ।  

বাকেট হ্যাট:  হলিউডকে বা প্যারিস ফ্যাশন ওয়ার্ল্ডসের মঞ্চকে যদি ট্রেন্ড সেটার ধরা হয়, তবে এ বছর বাকেট হ্যাটকে ফ্যাশন করেছে হলিউড তারকারা। পছন্দের পোশাকের সাথে ফ্যাশন সচেতনদের বিভিন্ন রং ও মডেলের বাকেট হ্যাট পরতে দেখা গেছে মাথায়। খোদ ডিকাপ্রিও অসংখ্যবার ক্যামেরায় বন্দি হয়েছেন বাকেট হ্যাট পরিহিত অবস্থায়

প্যাচওয়ার্ক ড্রেস: বিদায়ী বছরের আরেকটি চমকপ্রদ ট্রেন্ড ছিলো প্যাচওয়ার্ক। বিভিন্ন ফ্যাশন শোকে ঘিরে মডেলরা বেছে নিয়েছিলেন প্যাচওয়ার্ক করা ড্রেস, জাম্পস্যুট, প্যান্ট।  তারকাদের মধ্যে অপেরা উইনফ্রে, রেনে জেলওয়েজারকে বেশকয়েকবার প্যাচওয়ার্কের পোশাকে দেখা গেছে। লন্ডন ফ্যাশন নাইটের ডিজাইনাররাও এই প্যাচওয়ার্ককে প্রাধান্য দিয়েই কাজ করেছেন বছর জুড়ে।

ছোট ব্যাগ: বছরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য ট্রেন্ড ছিলো ছোট সাইজের ব্যাগ। গায়িকা বিয়ন্সে যেখানে রীতিমতো ঝোলা নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন সেই এবার বছর জুড়ে ছোট ছোট হ্যান্ডব্যাগ বা পার্স নিয়েছেন। ২০১৪ সালেই প্যারিস ফ্যাশন উইক নির্ধারন করে দিয়েছিল আগামীতে ব্যাগপ্যাক নয়তো ছোট পার্সই হবে ফ্যাশন। হয়েছেও তাই। ২০১৯-এ ফ্যাশন মানেই ছোট ব্যাগ বিবেচিত হয়েছে। প্যারিস ফ্যাশন উইকে মডেলদের হাতের ব্যাগ তাই বলে।

তথ্যসূত্র: ট্রেন্ড স্পটার ডট কম, কসমোপলিটান, এফটিভি, ডেইলিমেইল। 

/এফএএন/

লাইভ

টপ