ভিন্নরূপে বেনারসি!

Send
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৫৮, মার্চ ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৮, মার্চ ১৪, ২০২০

আঙিনাতে যে আছে অপেক্ষা করে- তার পরনে ঢাকাই শাড়ি, কপালে সিঁদুর। রবীন্দ্রনাথের কবিতায় ঢাকাই শাড়ির উল্লেখই প্রমাণ করে শাড়ির জন্য বিখ্যাত ছিল এই ঢাকা । এই অঞ্চলের তাঁতীদের নিখুত বুননে ঐতিহ্যের ছোয়া ছিল বরাবর। কিন্তু ইদানিং যেন সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। সময়ের বিবর্তণে সমলিনের করুণ ভাগ্যই কি বরণ করবে ঢাকাই শাড়ি! অন্তত মীরপুরের বেনারসি পল্লীতে গিয়ে তাঁতীদের জীবনের বিবর্ণ বর্ননা শুনে তাই মনে হয়েছে ফ্যাশন ডিজাইনার সীমা হামিদের। দেশীয় ঐতিহ্য বেনারসি সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছেন তিনি।

বেনারসি শাড়ি মানেই এক ধরনের আভিজাত্যের ছোঁয়া। ঈদ, পূজা পার্বনতো আছেই। সব থেকে বড় কদর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায়। কনের পরণে বেনারসি না থাকলে কি আর বিয়ে হলো সেটা। কিন্তু এখন যেন ভাটা পড়েছে। অভিজাত বিয়েতে শাড়ি আসে দেশের বাইরে থেকে। আর মধ্যবিত্তও খোঁজেন কম দামের কলের শাড়ি। বাজার ছয়লাব যেখানে নকল আর বিদেশি শাড়িতে সেখানে বেনারসি প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। প্রচারে প্রসার বাড়ে ঐতিহ্য বেঁচে থাকে। সেই চিন্তা থেকে বেনারসি বাঁচাতেই এই উদ্যোগের যাত্রা।

নিজের উদ্যোগ প্রসঙ্গে সীমা হামিদ বলেন, বেনারসিকে শুধু শাড়ির মধ্যে সীমিত না রেখে বেনারসি দিয়ে নানা ধরনের পোশাক তৈরির চিন্তা করছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাকগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় মসলিন ছিল। এখনও মানুষের মুখে মুখে মসলিনের ঐতিহ্য গল্প বেঁচে রয়েছে। কিন্তু সেই সমলিন হারিয়ে গেছে। এভাবে আমরা অবহেলায় অনাদরে আমাদের ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলছি। এখনও উদ্যোগ নিলে আমাদের ঐতিহ্যকে আমরা ধরে রাখতে পারি। তিনি মনে করেন বেনারসি, জামদানি, রাজশাহী সিল্ক আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। জামদানি নিয়ে অনেক কাজ হলেও বেনারসি নিয়ে তেমন কোন কাজই হয়নি। সঙ্গত কারণে বেনারশিকে বাঁচিয়ে রাখতে এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

সীমা হামিদ আরও বলেন, তিনি মিরপুরে তাঁতপল্লীতে গিয়ে বেনারসির কারিগরদের দুর্বিসহ জীবনের গল্প শুনেছেন। এতে মনে হয়েছে বিশ্বব্যাপি কদর থাকা এই শাড়িকে নানাভাবে তুলে ধরাগেলে শুধু ঐতিহ্যই রক্ষা পাবে না। এরসঙ্গে সঙ্গে বিপুল পরিমাণ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

মেয়েদের জন্য স্যালোয়ার-কামিজ, বাচ্চাদের পোশাক থেকে শুরু করে বিয়ের শেরোয়ানি সব কিছুই বেনারসি দিয়ে তৈরির পরিকল্পনা করে ইতোমধ্যে সকলের নজর কেড়েছেন সীমা হামিদ। আপাতত তার তৈরি করা পোশাকগুলো ডিজাইনার কালেকশন’স হিসেবেই রাখা হয়েছে। শিগগরিই বাণিজ্যিক বিপণনের পরিকল্পনা রয়েছে।

শুধুমাত্র বেনারসিই কেন কেন অন্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক নিয়ে কাজ করছেন না জানতে চাইলে বলেন, আমরা সবে মাত্র শুরু করেছি। আমাদের ইচ্ছা আছে অন্য যেসব ঐতিহ্যবাহী পোশাক রয়েছে। দিন দিন নানা কারণে এসব পোশাকের কদর কমছে সেগুলোর একটি বাণিজ্যিক দিক সৃষ্টি করা। যাতে মানুষ এসব পোশাকের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে সে জন্যই বাণিজ্যিক দিকটি নিঁখুতভাবে বিশ্লেষন করতে হবে। পোশাক পরিকল্পনায় আধুনিকতার ছোয়া থাকলে অবশ্যই নতুন প্রজন্ম ঐতিহাসিক এসব পোশাকের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।

/এফএএন/

লাইভ

টপ