ঘাড়ের ব্যথা উপশমে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা

Send
এহসানুর রহমান
প্রকাশিত : ১৫:০০, জুন ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:০০, জুন ২২, ২০২০

করোনাভাইরাসের ঝুঁকিমুক্ত থাকতে যতদূর সম্ভব বাসাতেই অবস্থান করছি আমরা। বাসায় এই সময় নিষ্ক্রিয় থেকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে অনেকেরই। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঘাড় ব্যথা। এর প্রতিকারের জন্য দরকার সঠিক নিয়মে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা।

সারভাইকাল রিট্রাকশন এক্সারসাইজ
যখন একজন মানুষ দীর্ঘক্ষণ সামনের দিকে ঝুঁকে বসে থাকেন বা ডেস্ক ওয়ার্ক করেন, তখন তার চিন (থুতনি) স্টারনাম থেকে সামনের দিকে চলে যায়। কিন্তু সঠিক দেহ বিন্যাস অনুসারে চিন এবং স্টারনাম একই লাইন বরাবর থাকা বাঞ্ছনীয়। এভাবে না থাকার ফলে দীর্ঘ সময়জুড়ে ঘাড়ের পেছনের মাংসপেশি অতিরিক্ত শিথিল অবস্থায় থাকে। ফলে সেগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সামনের দিকের মাংসপেশিগুলো সংকুচিত হতে হতে শক্ত হয়ে যায়। আবার কখনও অস্বাভাবিক পজিশনে থাকার ফলে মাংসপেশি এবং লিগামেন্টের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এগুলো সবই ঘাড়ের মেকানিক্যাল সমস্যা এবং প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীর মেকানিক্যাল সমস্যার কারণে ঘাড়ে ব্যথা হয়ে থাকে।
যারা দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা ডেস্কে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে রোগীকে সারভাইকাল রিট্রাকশন এক্সারসাইজ করানো হয়ে থাকে। এর সাথে ঘাড়ের সামনের এবং পেছনের মাংসপেশির স্ট্রেচিং, স্ট্রেন্দেনিং এবং ফিজিওথেরাপিস্টের এসেসমেন্ট অনুসারে প্রয়োজন মতো মায়োফেসিয়াল রিলিজ করা যেতে পারে।

রিট্রাকশন উইথ এক্সটেনসন এক্সারসাইজ
সঠিক আরগোনমিক্স নিয়মে ডেস্ক কাজ না করার কারণে সারভাইকাল ভার্টিব্রার মাঝখানের ডিস্কগুলো বের হয়ে আসলে নার্ভে চাপের সৃষ্টি হয়। তখন এই নার্ভগুলো যে যে অংশে অনুভূতি বহন করে, সেখানেও ব্যথা শুরু হয়। নার্ভে চাপের পরিমাণ বাড়তে থাকলে প্রথমে বাহু এবং পরে ধীরে ধীরে হাতের আঙুল পর্যন্ত ব্যথা, ঝিঁ ঝিঁ করা এবং ইলেকট্রিক শকের মতো অনুভূত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এমতাবস্থায় কোনও ধরনের ওষুধের প্রয়োগে নার্ভের চাপ কমানো যায় না। একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা সম্পর্কে জানতে একটি পূর্ণাঙ্গ এসেসমেন্ট করে থাকেন। নার্ভের চাপের ক্ষেত্রে রোগীকে রিপিটেড রিট্রাকশন এর সাথে এক্সটেনশন এক্সারসাইজ একই সময়ে করানো হয়ে থাকে। এ এক্সারসাইজটি মূলত যেসব রোগীর ব্যথা ঘাড়ের পেছন থেকে বাহু এবং হাত পর্যন্ত ছড়ায় তাদের ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী। এ এক্সারসাইজের ফলে রোগীর সারভিকাল স্পাইনের মাংসপেশির উপর খানিক চাপ সৃষ্টি করে এবং স্পাইনাল ডিস্কের স্পেস বা জায়গা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। এতে করে রোগীর ঘাড়ের পেছন থেকে বাহু বা হাতের দিকে ব্যথা যাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। ঘাড়ের কশেরুকার মাঝখানের ডিস্কগুলো যদি পেছনের দিকের নার্ভে চাপ দিয়ে থাকে তাহলে এই এক্সারসাইজের ফলে ডিস্কের অভ্যন্তরীণ চাপ কমতে শুরু করে। এর সাথে সাথে যে পাশে ব্যথা থাকে, ঠিক তার বিপরীত পাশের ঘাড়ের মাংসপেশির স্ট্রেচিং করা হয়। আর ঘাড় থেকে হাতে রেডিয়েট হওয়া ব্যথা কমানোর জন্য এবং নার্ভের মোবিলিটি বাড়ানোর জন্য নিউরো-ডায়নামিক্স এক্সারসাইজ করানো হয়। ব্যথা কমে গেলে রিহ্যাবের শেষ পর্যায় হিসেবে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী স্ট্রেন্দেনিং প্রটোকল শুরু করা হয়। তাই এ ধরনের সমস্যাগুলোর ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা রোগীদের শতভাগ আস্থা অর্জন করতে পেরেছে।

লেখক: ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক
, বাংলাদেশ হেলথ প্রফেশনস ইনস্টিটিউট
সি আর পি
, সাভার, ঢাকা।

/এনএ/

লাইভ

টপ