গরমে বাড়ছে খাদ্যে বিষক্রিয়া, সংরক্ষণে অসতর্ক হলেই বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক 
০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০আপডেট : ০৭ জুন ২০২৬, ০৮:৩০

তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খাবারে দ্রুত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবাণুর বৃদ্ধি ঘটে। ফলে রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা, অপরিষ্কার পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত বা সংরক্ষণে সামান্য অসতর্কতাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে সবচেয়ে বেশি খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে দূষিত পানি, অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা খাবার, দীর্ঘক্ষণ বাইরে রাখা রান্না করা খাদ্য এবং অপরিচ্ছন্ন খাদ্য পরিবেশনের কারণে। এ ধরনের খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যাথা, জ্বর ও পানিশূন্যতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) তথ্যমতে, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬০ কোটির বেশি মানুষ দূষিত খাদ্য গ্রহণের কারণে অসুস্থ হন এবং বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হন লাখো মানুষ। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টার বেশি স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখা উচিত নয়। দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকা খাবার ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে সংরক্ষণ এবং গরম খাবার ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং খাবার পরিবেশনের আগে হাত ভালোভাবে ধোয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকার কয়েকটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, গ্রীষ্মকালে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও ডায়রিয়াজনিত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তার খোলা খাবার, দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত ইফতার বা উৎসবের খাবার এবং অনিরাপদ দুগ্ধজাত পণ্য এসব সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, পরিবারের পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠান ও খাদ্য বিক্রেতাদেরও খাদ্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে গরমের সময়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

খাদ্যে বিষক্রিয়া এড়াতে করণীয়

  • রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় বাইরে না রাখা
  • খাবার ঢেকে সংরক্ষণ করা
  • বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করা
  • কাঁচা ও রান্না করা খাদ্য আলাদা রাখা
  • ফল ও সবজি ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
  • বাসি বা দুর্গন্ধযুক্ত খাবার পরিহার করা
  • বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন প্রতিষ্ঠান বেছে নেওয়া

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ), জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

/এমএএল/ 
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের পর আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়
হোয়াটসঅ্যাপে প্রতারণা এড়ানোর ৫ উপায়
ভিন্ন স্বাদের ঘরোয়া রেসিপি পটোলের দোলমায় মাছের ডিম
ভিন্ন স্বাদের ঘরোয়া রেসিপি পটোলের দোলমায় মাছের ডিম
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা
সর্বাধিক পঠিত
হোটেলের বুকিং বাতিল করে কেন কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা
হোটেলের বুকিং বাতিল করে কেন কক্সবাজার ছাড়ছেন পর্যটকরা
ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপের ১৮৬৮ জনকে চাকরি থেকে ছাঁটাই
ঈদের ছুটি শেষে ফেরার পর এক গ্রুপের ১৮৬৮ জনকে চাকরি থেকে ছাঁটাই
‘পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইরান’
‘পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইরান’
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর আ.লীগের হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছাত্রদলের ওপর আ.লীগের হামলা, মোটরসাইকেলে আগুন
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত
কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি কত