X
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮
সেকশনস
কথাচিত্রী প্রশান্ত মৃধা

কৌতুকী ক্রোধের সমান্তরালে

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২১, ০২:৩১

কবি মানস-এ ‘পাঠচক্র রবিবার’ চলমান। রেজা আহমেদ ও আব্দুল আজিজ বাবু স্যারের কাছে ধার করে বই পড়া। রেজা ভাই ঢাকা থেকে আসা মানে কার্টনভর্তি নতুন বই নিয়ে আসা। বিদ্যুৎ অফিসে তাঁর একক স্টুডিও ফ্ল্যাট একটা ঘোরলাগা তৈরি করতে বাধ্য! ফুলবাড়ি থানার মতো জায়গায় তাঁর স্টুডিও ফ্ল্যাট—সেখানে বইয়ের সমাহার! বুকসেলফগুলো এমন সব বই ও লিটলম্যাগ দিয়ে সাজানো ছিল যা ঈর্ষণীয়। কারণ ভারত বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত নতুন নতুন বই ও লিটলম্যাগ রেজা ভাই কিনে আনতেন ঢাকা থেকে। তাঁর শিল্পের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় আমাদের সমৃদ্ধ করছিল। নতুন নতুন লেখকের বই—কামরুজ্জামান কামুসহ নতুন নতুন লেখকের নাম জানতে শুরু করি। ২০০২ সালে বেশ কিছু লিটলম্যাগ এনেছিলেন— সেগুলো থেকে একসাথে অনেকগুলো নাম তখন জানতে পারি। গল্পকার হিসেবে প্রশান্ত মৃধার নাম প্রথম রেজা ভাইয়ের কাছেই শুনি। ২০০৩ সালে জাবিতে বাংলা বিভাগে ভর্তি হই—তখন আমার সবচেয়ে কঠিন সময় শুরু হয়ে গেছে… কামলা খাটা জীবনে প্রশান্ত মৃধার নাম শুনি—তিনি প্রায় ক্যাম্পাসে আসেন। বটতলায় বোদ্ধা সহপাঠীদের সাথে আড্ডা মারেন। কিন্তু কখনো সে অর্থে পরিচয় হবার সুযোগ ঘটেনি। তবে তাঁর লেখা পড়া মিস হয় না। অবশেষে ২০০৯ সালে একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হলো। ইংরেজি বিভাগ আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনার Locating Latin American Literature সেমিনারে অনেকেই এসেছিলেন দেশ-বিদেশের লেখক, জাবির লেখক প্রায় কমবেশি সবার উপস্থিতি ছিল। সেদিন প্রশান্ত মৃধার সাথে পরিচয়—পাত্তা পাবার কথা না, পাইওনি। তবে শেষদিন প্রান্তিকে কথা হচ্ছিল। তিনি দূরে দাঁড়িয়ে ফোনে কথা বলছিলেন—আমি ওদিক থেকে আসার সময় উনি জিজ্ঞেস করলেন, এই আপনার নাম রাহেল না? কথা শুরু হলো—একে একে তার ২০০৯ অব্দি প্রকাশিত সবকটা বইয়ের নাম বলায় মুগ্ধ হলেন—এরপর জিজ্ঞেস করলেন একেকটা বইয়ের কাহিনি! বুঝলেন বইগুলার নাম মুখস্থ শুধু না—এক্কেরে পড়া! তাঁর ‘শারদোৎসব’ বইটির একটি চরিত্রর নাম উমা—বইটি আমার প্রিয় বই, রাজনৈতিক ধারার গল্প শ্রাবণ প্রকাশনা করেছিল। পরে এ বইটির আরেকটি সংস্করণ জয়তী করেছে। প্রশান্ত মৃধার ‘আরও দূর জন্ম জন্মান্তর’ বইটিই আমার প্রথম মনোযোগহ পড়া বই। ‘কার্জন সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক’ ও ‘রূপকুমার ও হরবোলা সুন্দরীর অসমাপ্ত পালা’ বই দুটোর রিভিউ লিখেছিলাম—দৈনিক যুগান্তরে ও দৈনিক ভোরের কাগজে। জবিতে যোগদানের পর ২০১১-২০১২ সালে তিনজন লেখককে আমন্ত্রণ জানিয়ে ক্লাশে নেবার সুযোগ পেয়েছিলাম! স্বকৃত নোমান, বদরুন নাহার ও প্রশান্ত মৃধা—সে এক মহাবিতর্কে পরেছিলাম! সে কথা পরে হবে! তবে শিক্ষার্থীরা তিনজনের বক্তব্য মনোযোগসহ শুনেছিলেন। প্রশান্ত মৃধা কৌতুকী ও কৌশলী বক্তা—তাঁর বাচনভঙ্গি-বিষয়ের ভিন্নতা (কথাসাহিত্যিক হিসেবে তাঁর স্মৃতিচারণ) এবং উপস্থাপন শৈলী বেশ ভিন্ন। শিক্ষার্থীরা খুব স্বতঃস্ফুর্ত হয়ে তাঁকে বেশ প্রশ্ন করেছিলেন—এক ঘণ্টার নির্ধারিত লেকচারটি তর্ক-বিতর্ক—প্রশ্ন উত্তর পর্ব শেষে প্রায় আড়াই ঘণ্টায় শেষ হয়! প্রশান্ত মৃধার বই যাঁরা পড়েছেন তাঁরা জানেন তাঁর গদ্য ঝরঝরে—ভণিতা থাকে না। মারপ্যাঁচ ও মোচড় দিয়ে ঘটনাকে প্রোথিত করেন পাঠক হৃদয়ে এবং পাঠককে সহযাত্রী করেন। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস নিয়ে তাঁর কাজ সবার কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে—জাবিতে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তাঁর কৃত গবেষণা দীর্ঘ সময় পর গ্রন্থবদ্ধ হয়েছে কয়েকটি মৌলিক প্রবন্ধসহ। এ গ্রন্থটি আখতারুজ্জামান ইলিয়াস নিয়ে একটি প্রামাণ্য গবেষণাগ্রন্থ। বইটি আমি রেফারেন্স হিসেবে প্রায়ই বলি। যাঁরা বাংলাদেশের ছোটগল্প ও আখতারুজামান ইলিয়াসের গল্প নিয়ে কোনো যথাযথ মূল্যায়নধর্মী গবেষণা খোঁজেন—এ বইটা পড়ে দেখতে পারেন। উপকৃত হবেন। ‘সন্ন্যাসের সহচর’ বইটির স্মার্টনেস ও সংক্ষিপ্ত গদ্যের সংকলনটি বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল—শুদ্ধস্বর প্রকাশিত এ বইটি আমার প্রিয় একটি বই। আত্মজৈবনিক আবহপুষ্ট এমন রসালো রচনা বিরল। প্রশান্ত মৃধার পাঠকপ্রিয়তা দেখেছি—যাঁরা জানেন তাঁরা ভালো খোঁজখবর নিয়েই জানেন। প্রশান্ত মৃধা ঢাকা শহরের যান্ত্রিকতা ছেড়ে থাকেন সিলেট শহরে—লিখছেন পড়ছেন নিজের মতো । সাহসী মানুষ—তাঁর স্পষ্ট কথাবার্তা অনেকেরই অপছন্দ হলেও মনে মনে ভয়ও পায় অনেকে! তবে রসিক তিনি ভালোই জনপ্রিয় বন্ধুমহলে। (শোনাকথা) প্রশান্ত দার সাথে ঢাকা (থানা-পুলিশসহ)-জাবি-সিলেট ও কলকাতায় কিছু সময় কাটানোর সুযোগ ঘটেছে, ভবিষ্যতে নিশ্চয় আরও ঘটবে। পরিশ্রমী ও সাহসী মানুষ হিসেবে প্রশান্ত মৃধা একজন প্রকৃত লেখক—কাগজ-কলম নিয়ে বাতিক আছে! ফাউন্টেইন পেনে লেখেন, আমার সৌভাগ্য ঘটেছে তাঁর কাছ থেকে ফাউন্টেইন উপহার পাবার। ব্যক্তিগত এইসব ছোট ছোট ঘটনা আজ মনে পরলো- প্রশান্ত মৃধা ৫০! এটি আমাদের আনন্দ! তিনি তাঁর লেখা দিয়ে সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে যেতে থাকুন—আমরা তাঁর সঙ্গ পেতে পছন্দ করি—তাঁরে ভালোবাসি—প্রেম করি—ঈর্ষাও করি! হ্যাঁ, আজ সন্ধ্যার আড্ডায় শুনলাম, কবি মাহবুবুল হক শাকিল বলতেন, প্রেম করতে সাহস লাগে! যাঁকে বলতেন তিনি আজ বললেন, প্রেম করতে শরীর লাগে—ভালোবাসতে সাহস লাগে! প্রশান্ত দা আপনাকে আমরা ভালোবাসি এবং সে ভালোবাসার সাহস আমাদের রয়েছে। আপনাকে স্যালুট জানাই। আপনি পঞ্চাশে আপনাকে অভিবাদন।

/জেডএস/
সম্পর্কিত
বিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
বিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
দুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
দুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
বিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
কামাল চৌধুরীর কবিতাবিষয় ও শৈলির সোনালি সমন্বয়
দুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
সমকালীন অস্ট্রেলিয়ান গল্পদুনিয়ার মজদুর এক হও ।। জুলি কোহ
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
৪৫ বছরের লেখালিখির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলাম
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফোটা একগুচ্ছ গোলাপ
জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা ঘোষণা
জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের দীর্ঘ তালিকা ঘোষণা
© 2022 Bangla Tribune